ভুয়া নিয়োগে ১৩ বছর তুলেছেন সরকারি বেতন-ভাতা

ভুয়া নিয়োগে ১৩ বছর তুলেছেন সরকারি বেতন-ভাতা

নিয়োগ পরীক্ষার কোনো প্রমাণ বা মাদ্রাসায় দায়িত্ব পালনের নজির না থাকলেও অফিস সহকারী পদে নিয়োগ দেখিয়ে টানা ১৩ বছর ধরে সরকারি বেতন-ভাতা তোলার অভিযোগ উঠেছে মোবারক হোসেন নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। তদন্তে নিয়োগের অনিয়মের সত্যতা পাওয়ার পর চলতি বছরের আগস্টে তার এমপিও (মান্থলি পে-অর্ডার) বাতিল করেছে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর।

ঘটনাটি শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার কালাকুড়া নেছারিয়া দাখিল মাদ্রাসার। এ ঘটনায় একই মাদ্রাসার তৎকালীন সহকারী সুপার ও বর্তমানে কলসপাড় নঈমী দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা আব্দুস সামাদের বিরুদ্ধে জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ও স্বাক্ষর জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া নিয়োগ কমিটি গঠন করে মোবারক হোসেনকে অফিস সহকারী পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর থেকেই তিনি নিয়মিত সরকারি বেতন-ভাতা তুলে আসছেন। অন্যদিকে, একই পদে পূর্ব থেকেই কর্মরত আবু বক্কর সিদ্দিককে জুনিয়র শিক্ষক পদে পদোন্নতি দেখিয়ে এমপিওভুক্ত করার অভিযোগ রয়েছে।

বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর আবু বক্কর সিদ্দিক জুনিয়র শিক্ষক হিসেবে নিজের বেতন-ভাতা উত্তোলন স্থগিত রেখে ওই নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করেন। বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেও দীর্ঘ সময় প্রতিকার পাননি তিনি। পরে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আক্তার ববির নির্দেশে তদন্ত শুরু হয়।

উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন সাকিব আহমেদ সাগরের নেতৃত্বে পরিচালিত তদন্তে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মারাত্মক অসংগতি ও জালিয়াতি ধরা পড়ে। তদন্তে নিয়োগ কমিটিতে থাকা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও তাদের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে বলে লিখিতভাবে জানান। এসব তথ্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে গত আগস্টে মোবারক হোসেনের এমপিও বাতিল করা হয়।

ভুক্তভোগী আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, বৈধ নিয়োগে চাকরি করেও দীর্ঘদিন বেতন-ভাতা থেকে বঞ্চিত হওয়ায় তিনি চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। অবৈধভাবে সরকারি অর্থ উত্তোলনের অভিযোগে মোবারক হোসেনের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

কালাকুড়া নেছারিয়া দাখিল মাদ্রাসার বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সুপার আব্দুর রশিদ বলেন, মোবারক হোসেন কখনো মাদ্রাসায় আসেননি বা দায়িত্ব পালন করেননি। তাঁর নিয়োগের বৈধতা সম্পর্কেও তারা কিছু জানেন না।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মোবারক হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি প্রথম দিন পরদিন সরাসরি কথা বলবেন বলে জানান। তবে পরের দিন একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি আর সাড়া দেননি।

মাদ্রাসা ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল মালেক বলেন, প্রতিষ্ঠানপ্রধান জেনারেল সার্টিফিকেট মামলা করার জন্য প্রয়োজনীয় আবেদন করলে মোবারক হোসেনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি তার কাছ থেকে আত্মসাৎ করা সরকারি অর্থ আদায় করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন