জটিল নারী স্বাস্থ্যসমস্যা মোকাবিলায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেছেন, বর্তমান সরকার নির্বাচনি অঙ্গীকার অনুযায়ী স্বাস্থ্য খাতের কাঠামোগত সংস্কার, রোগ প্রতিরোধ এবং হেলথ প্রমোশনের ওপর সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে।
শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর একটি হোটেলে এন্ডোমেট্রিওসিস-এডেনোমায়োসিস সোসাইটি অব বাংলাদেশের ৩য় আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের লাখ লাখ নারী এন্ডোমেট্রিওসিসের মতো দীর্ঘমেয়াদি ও প্রগ্রেসিভ রোগে ভুগে থাকেন। অথচ সামাজিক ট্যাবু ও সচেতনতার অভাবে এর বেশির ভাগ রোগীই থেকে যান শনাক্তহীন।
এই সংকট উত্তরণে সরকার ১ লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে জানিয়ে ড. এম এ মুহিত বলেন, এর মধ্যে অন্তত অর্ধলাখ নারী স্বাস্থ্যকর্মী থাকবেন। এই নারী স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য সহজ প্রশিক্ষণ মডিউল তৈরি করে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মাঠপর্যায়ে নারীদের সঙ্গে এই স্বাস্থ্যকর্মীদের যোগাযোগের মাধ্যমে একদিকে যেমন সচেতনতা তৈরি হবে, তেমনি প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত করে সঠিক রেফারেল পথ তৈরি করা সম্ভব হবে।
বড় হাসপাতালগুলোতে রোগীর অতিরিক্ত ভিড় ও দুর্ভোগের কথা তুলে ধরে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঢাকার বড় হাসপাতালগুলোতে বেডের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি রোগী চিকিৎসাধীন থাকেন। এর মূল কারণ একটি কার্যকর রেফারেল নেটওয়ার্কের অভাব।
তিনি বলেন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোকে দক্ষ জনবল, প্রশিক্ষিত চিকিৎসক এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি দিয়ে যুগোপযোগী করতে পারলে শতকরা ৮০ ভাগ মানুষ তাদের নিজ এলাকাতেই যথাযথ চিকিৎসাসেবা পাবেন। মূলত স্থানীয় ও জেলা হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা বাড়াতেই সরকার কাজ করছে।
গবেষণার ওপর জোর দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশে অত্যন্ত দক্ষ ও প্রশিক্ষিত চিকিৎসক থাকলেও কাজের চাপ ও সম্পদের সীমাবদ্ধতার কারণে আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা ও প্রকাশনায় আমরা কিছুটা পিছিয়ে আছি। তরুণ চিকিৎসকদের গবেষণায় উৎসাহিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, সুনির্দিষ্ট ও ভালো প্রস্তাব নিয়ে এলে রাষ্ট্রীয় পর্যায় থেকে সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে নারী স্বাস্থ্যের অন্যান্য জটিল দিক তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রতি বছর বাংলাদেশে জরায়ু মুখের ক্যানসারের মতো জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রায় ৫ হাজার নারী মৃত্যুবরণ করেন। এই মৃত্যুহার কমাতে এবং সঠিক সময়ে প্রাথমিক রোগ নির্ণয় (আর্লি ডায়াগনোসিস) নিশ্চিত করতে দেশের প্রতিটি বিভাগীয় পর্যায়ে ক্যানসার চিকিৎসাসেবা ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।
এশিয়ান সোসাইটি অফ এন্ডোমেট্রিওসিস অ্যান্ড এডেনোমায়োসিসের সহযোগিতায় আয়োজিত এই বৈজ্ঞানিক সম্মেলনে দেশের খ্যাতনামা চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন




-0a948e.jpg)