যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই ক্যালিফোর্নিয়ার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোকে সতর্ক করে জানিয়েছে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে মার্কিন পশ্চিম উপকূলে ড্রোন হামলা চালানোর পরিকল্পনা করতে পারে। এবিসি নিউজের হাতে আসা সাম্প্রতিক সতর্কতা নোটিশে এ তথ্য পাওয়া গেছে। বুধবার রাতে সর্বশেষ এ তথ্য জানায় এবিসি।
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে জারি করা ওই সতর্কতায় বলা হয়, ২০২৬ সালের শুরুতেই ইরান একটি অজ্ঞাত জাহাজ থেকে মানবহীন আকাশযান ব্যবহার করে ‘চমকপ্রদ’ হামলার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিল, যদি যুক্তরাষ্ট্র প্রথমে ইরানকে লক্ষ্য করে অভিযান চালায়। তবে সম্ভাব্য হামলার সময়, লক্ষ্যবস্তু বা হামলাকারীদের সম্পর্কে বাড়তি কোনো তথ্য নেই বলে জানানো হয়।
হামলার সতর্কতা এমন এক সময়ে এসেছে, যখন সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইরানের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক সামরিক অভিযান পরিচালনা করছে। ইরানও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে ড্রোন হামলা চালিয়ে প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে।
লস অ্যাঞ্জেলেসের এফবিআই দপ্তর এবং হোয়াইট হাউস—উভয়ই এবিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
মেক্সিকো সীমান্তেও ড্রোন হামলার শঙ্কা
এদিকে, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো মেক্সিকোর মাদক কার্টেলগুলোর বাড়তে থাকা ড্রোন সক্ষমতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে একটি গোয়েন্দা বুলেটিনে উল্লেখ করা হয়—মেক্সিকোর অপরাধচক্রের কয়েকজন নেতা বিস্ফোরক বহনকারী ড্রোন দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা সামরিক সদস্যদের ওপর হামলার অনুমোদন দিয়েছিলেন বলে ধারণা পাওয়া গেছে।
যদিও এমন হামলা যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে অভূতপূর্ব হবে, তবুও গোয়েন্দাদের মতে, এটি এখন “বাস্তবসম্মত সম্ভাবনা”—যদিও কার্টেলগুলো সাধারণত এমন হামলা এড়িয়ে চলে, কারণ এতে যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র প্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি থাকে।
মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগে সাবেক গোয়েন্দা প্রধান জন কোহান বলেন, প্রশান্ত মহাসাগরীয় দিক থেকেও, মেক্সিকো সীমান্ত দিয়েও ড্রোন হামলার শঙ্কা এখন বাস্তব।
তিনি বলেন, ইরানের মেক্সিকো ও দক্ষিণ আমেরিকায় বড় একটি উপস্থিতি আছে। তাদের নেটওয়ার্ক, প্রযুক্তি এবং এখন হামলার প্রেরণাও রয়েছে। এফবিআই যে সতর্কতা দিয়েছে, তা যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় সংস্থাগুলোর প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
গোয়েন্দা কর্মকর্তারা আরও আশঙ্কা করছেন—ড্রোন বা অন্যান্য সরঞ্জাম আগেই গোপনে জাহাজে বা স্থলভাগে মজুদ করে রাখা হতে পারে, যাতে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল ইরানে হামলা চালালেই দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানো যায়।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

