নিউইয়র্ক সিটি মেয়র নির্বাচনের ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে জোহরান মামদানির জয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ফিলিস্তিনপন্থী রাজনীতিকে আরও চাঙ্গা করে তুলেছে। খবর আল জাজিরা।
আল জাজিরা আলি হার্বের মতে, মেয়র প্রার্থী জোহরান মামদানি নিউইয়র্ক সিটির জন্য চরমৎকার সব পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন। তিনি সাশ্রয়ী মূল্যের আবাসন, বিনামূল্যে পরিবহন সেবাসহ বিভিন্ন ধরনের নাগরিক সুবিধার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
তবে মঙ্গলবার ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারির আগে, তার বিরোধীরা এবং সংবাদমাধ্যমগুলো ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংঘাত সম্পর্কে মামদানির মতাদর্শ নিয়ে খুব বেশি উদ্বিগ্ন ছিলেন। তিনি ফিলিস্তিনিদের অধিকারের একজন সোচ্চার কণ্ঠ। তিনি ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলি বর্বরতার কড়া নিন্দা করেছেন। তার মতে, গাজায় গণহত্যা চালাচ্ছে ইসরাইল।
ফিলিস্তিন ইস্যুতে মামদানি তার অবস্থান থেকে একটুও পিছু হটেননি। তিনি জয়ী হয়েছেন সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্র কুমোর সাথে লড়াই করে। কুমো প্রাইমারিতে রেকর্ড অর্থ ব্যয় করেছিলেন।
মামদানির সমর্থকরা বলছেন, তার বিজয় মার্কিন রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়। এই বিজয় ফিলিস্তিনি অধিকারের প্রতি সমর্থন নির্বাচনে তার কার্যকারিতা প্রমাণ করেছে। তার জয়ে যুক্তরাষ্ট্রে চাঙ্গা হয়েছে ফিলিস্তিনপন্থী রাজনীতি। তার বিজয় আরো অনেককেই ফিলিস্তিন ইস্যুতে সামনে এগিয়ে আসার সাহস যোগাবে।
সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউ ইয়র্কের সমাজবিজ্ঞানের অধ্যাপক হেবা গোয়েদ বলেন, ইসরাইলি নীতির বিরোধিতার কারণে অনেক তরুণ মামদানির প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিল এবং তার প্রচারণায় জড়িয়ে পড়েছিল।
হেবা গোয়েদের মতে, ‘ফিলিস্তিনের বিষয়ে তার অবস্থান থেকে সরে আসতে মামদানি অস্বীকৃতি জানান, এটি অনেক বড় একটি বিষয়।
তিনি বেলন, ‘এটি এমন এক পরিবেশে যেখানে আমাদের বলা হয়েছে যে ফিলিস্তিনিপন্থী থাকা রাজনৈতিকভাবে অযোগ্যতা, সেখানে এটি এমন একটি আন্দোলন ছিল, যেখানে কেবল এই অবস্থানের উপর জোর দেওয়া হয়েছে তাই নয়, বরং বলা যায় এর উপর ভিত্তি করেই জয়ের পথ তৈরি হয়েছিল।’
তিনি আরও বলেন, যদি মামদানি সমালোচকদের সন্তুষ্ট করার জন্য তার অবস্থান পাল্টাতেন, তাহলে তিনি সেই সমর্থন এবং উৎসাহ হারিয়ে ফেলতেন যা তাকে শেষ সীমা অতিক্রম করতে সাহায্য করেছিল। তবে ফিলিস্তিনিদের প্রতি মামদানির সমর্থন ‘সম্ভবত তার প্রচারণাকে আরও শক্তিশালী করেছিল।’
অনেকেই কুমো এবং মামদানির মুখোমুখি লড়াইকে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রগতিশীল এবং মধ্যপন্থীদের মধ্যে বছরের পর বছর ধরে চলা বিরোধের প্রতিফলন হিসেবে দেখেছেন। ফিলিস্তিনি অধিকার নিয়ে বিতর্ক এবং ইসরাইলের প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রশ্নাতীত সমর্থন সেই লড়াইয়ের একটি মূল বিষয় ছিল।
ইসরাইলের সবচেয়ে বড় মিত্র যুক্তরাষ্ট্রে ফিলিস্তিনপন্থী রাজনীতি করে নির্বাচনে জেতা অনেক কঠিন। প্রাইমারিতে জিতে সেই কঠিন কাজটাই করে দেখিয়েছেন মামদানি।
আরএ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


