নেতৃত্বে নতুন প্রজন্ম, কতটা বদলাবে ইরান?

বিবিসি বাংলা

নেতৃত্বে নতুন প্রজন্ম, কতটা বদলাবে ইরান?
প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি এবং আলি খামেনি মোজতবা খামেনির হাতে ইরানের পতাকা তুলে দিচ্ছেন। তেহরানের রাস্তায় এক বিলবোর্ড।ছবি: বিবিসি বাংলা

গত মাসে ভার্সাই প্রাসাদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন ইরানের সঙ্গে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে সই করেন, তখন অনেকেই এর মধ্যে এক ধরনের বিদ্রূপাত্মক দিক দেখেছিলেন। ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ হয়তো নিশ্চিত হতে চেয়েছিলেন যাতে ট্রাম্প মত পরিবর্তনের আগেই সমঝোতা স্মারকে সই করে নেন। সম্ভবত তিনি ভেবেছিলেন যে স্বর্ণালংকৃত ‘হল অব মিররস’ তার মার্কিন অতিথির পছন্দ হবে।

দেড় পৃষ্ঠার ওই চুক্তি এবং এই ভেন্যু নির্বাচনের বিষয়টি ১৯১৯ সালের ভার্সাই চুক্তির তুলনা টেনে আনে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শেষে স্বাক্ষরিত সেই চুক্তি ইউরোপকে নতুন রূপ দিয়েছিল। তবে জার্মানির ওপর বিপুল ক্ষতিপূরণ চাপানোয় দেশটিতে ব্যাপক ক্ষোভ ও তিক্ততা জন্ম নেয়, যা মাত্র ২০ বছর পর আরেকটি বৈশ্বিক সংঘাতের পথ তৈরি করেছিল। বর্তমান চুক্তিটি ভিন্ন হলেও, এটিও কি সমানভাবে ভাগ্যনির্ধারক হিসেবে বিবেচিত হতে পারে—সেই প্রশ্ন উঠছে।

বিজ্ঞাপন

স্বাক্ষরের প্রায় তিন সপ্তাহ পরও একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি মোটামুটিভাবে টিকে আছে। তবে হরমুজ প্রণালির আশপাশে কয়েকটি সংঘর্ষের পর এবং যুদ্ধের মূল কারণগুলোর সমাধান না হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত। এরই মধ্যে ইরান এক গভীর পরিবর্তনের ভেতর দিয়ে যাচ্ছে এবং দেশটি তার সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনিকে বিদায় জানাচ্ছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার মাধ্যমে যুদ্ধ শুরুর প্রথম দিনেই নিহত হন আলি খামেনি। ওই হামলায় তেহরানের শাসনব্যবস্থার বড় অংশই কার্যত নেতৃত্বশূন্য হয়ে পড়েছিল। এটি দেশটির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত, যা পুরোনো নেতৃত্বের বিদায় ও নতুনদের আসার স্মারক। নেতৃত্বে নতুন মুখের সঙ্গে এসেছে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল সাবেক নেতাদের হত্যা করলেও তাদের জায়গায় এখন আরো শক্তিশালী প্রতিপক্ষ তৈরি হয়েছে কি-না, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।

নতুনভাবে সাজানো দাবার ছক

জনস হপকিনস ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ভ্যালি নাসর বলেন, এই যুদ্ধের প্রভাব ভাবনার চেয়েও অনেক বড়। এই মাত্রার যুদ্ধ শেষ পর্যন্ত দাবার ছক নতুনভাবে সাজিয়ে দেয়, মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষেত্রেও তাই হবে। অথচ গত জানুয়ারিতে ইরানে ব্যাপক বিক্ষোভ চলছিল, যাকে ট্রাম্প এবং ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইসলামি প্রজাতন্ত্রের পতনের পূর্বাভাস হিসেবে দেখেছিলেন। দশকের পর দশক আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের অর্থনীতি আগে থেকেই বিপর্যস্ত ছিল। ছয় মাস আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধের ক্ষতও তখনো সারেনি।

ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন হয়নি, তবে উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ১০ বা ১১টি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির উপযোগী ইউরেনিয়ামের মজুত দেশটির ঠিক কোথায় আছে, তা নিশ্চিত ছিল না।

ধারণা করা হচ্ছিল, এর বড় অংশ ইসফাহান পারমাণবিক কমপ্লেক্সের ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছে।

অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ইরানের জোট ‘অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স’ একের পর এক বড় ধাক্কার মুখে পড়েছিল। সিরিয়ায় ইরানের ঘনিষ্ঠ মিত্র বাশার আল-আসাদের শাসনব্যবস্থার পতন ঘটেছিল ২০২৪ সালের শেষে মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যে। লেবাননে হেজবুল্লাহর শীর্ষ নেতাদের হত্যার পাশাপাশি পেজার ও ওয়াকিটকি বিস্ফোরণের মাধ্যমে তাদের যোদ্ধাদের বড় অংশকে অকার্যকর করে দেয় ইসরাইল। গাজায় আরেক মিত্র হামাসও একই পরিণতির মুখে পড়ে। ২০২৩ সালের অক্টোবরের হামলার জবাবে ইসরাইলি অভিযানে গাজার বড় অংশ ধ্বংস হয় এবং হাজার হাজার বেসামরিক মানুষ নিহত হন।

গাজা যুদ্ধের প্রতিক্রিয়ায় ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা ইসরাইলে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ এবং লোহিত সাগরে জাহাজ হামলা শুরু করলে ইসরাইল, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য পাল্টা হামলা চালায়। দেশে-বিদেশে এত বিপর্যয়ের পর ধারণা ছিল ইরান অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় আছে।

নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছিল, ট্রাম্প একাধিক গোয়েন্দা প্রতিবেদন পেয়েছিলেন যে ১৯৭৯ সালের পর ইরান এখন সবচেয়ে দুর্বল। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে ইরান সমানে সমান লড়াই করতে পারবে—এ ধারণা একেবারেই অবাস্তব মনে হচ্ছিল।

কিন্তু বাস্তবে ঠিক সেটাই ঘটেছে এবং ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্র এখনো টিকে আছে। এর একটি কারণ, হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে বৈশ্বিক অর্থনীতিকে চাপে ফেলার সক্ষমতা তাদের রয়েছে।

তেহরানই কি সুবিধাজনক অবস্থানে?

ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটিয়েছেন বলে দাবি করলেও অধ্যাপক ভালি নাসর মনে করেন, পরিবর্তনটি শেষ পর্যন্ত তেহরানের পক্ষেই গেছে। ইরানে এখন একেবারে নতুন একটি প্রজন্ম ক্ষমতায় এসেছে যাদের লক্ষ্য খুবই স্পষ্ট। তারা যুদ্ধ সামলেছে এবং এখন শান্তিচুক্তি ও বাকি সবকিছুও সামলাবে।

নতুন নেতৃত্ব ওয়াশিংটনের ভাষায় ‘মতাদর্শিক মানুষ’ নয়। তারা বিপ্লব-পরবর্তী প্রজন্মের নেতা, যারা দেশ রক্ষায় চরমভাবে একমুখী এবং আগের নেতৃত্বের তুলনায় অনেক বেশি শক্ত পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।

৫৬ বছর বয়সি নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি বয়সে তার বাবা আলি খামেনির চেয়ে ৩০ বছরের ছোট। অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের বয়স ৭১ বছর হলেও ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের প্রজন্মের সবাই এখন আর ক্ষমতায় নেই। এই মূহুর্তে ইরানের প্রধান দুই ব্যক্তি—পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং বিপ্লবী গার্ডের প্রধান আহমাদ বাহিদি, দুইজনের বয়সই ষাটের ঘরে। নতুন সর্বোচ্চ নেতার মতো তাদেরও ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।

চ্যাথাম হাউসের পরিচালক সানাম ভাকিল বলেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্রের জাহাজ এখন আর ৮৬ বছর বয়সি কেউ পরিচালনা করছেন না। ব্যবস্থার বিকাশের পথে সবচেয়ে বড় বাধা ছিলেন আলি খামেনি। দশকের পর দশক ধরে তিনি ‘যুদ্ধও নয়, শান্তিও নয়’ নীতি অনুসরণ করেছিলেন। তার উত্তরসূরিরা তুলনামূলক বেশ সাহসী। তারা অঞ্চলের মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে এবং কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এমন শর্তে যুদ্ধ শেষের আলোচনা টেবিলে এসেছে, যা তেহরানের জন্য অপমানজনক নয়।

অধ্যাপক নাসর বলেন, তারা আগের প্রজন্মের তুলনায় অনেক বেশি আক্রমণাত্মকভাবে যুদ্ধে জড়াতে প্রস্তুত। ২০২০ সালে ট্রাম্প যখন কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার নির্দেশ দেন, তখন ইরান মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আগে ইচ্ছাকৃতভাবে তাদের প্রতিশোধের কথা জানিয়ে দিয়েছিল। ওই সময় কোনো মার্কিন সামরিক কর্মী নিহত হননি।

কিন্তু এ বছর মার্কিন ও ইসরাইলি হামলার মুখে ইরান কোনো সংযম দেখায়নি। তারা বাহরাইনে ফিফথ ফ্লিটের সদর দফতর এবং কাতারের আল-উদেইদ বিমান ঘাঁটিসহ অঞ্চলজুড়ে একাধিক মার্কিন ঘাঁটিতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। কুয়েতে ছয়জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরো শত শত সৈন্য।

উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন মিত্রদের ওপর হামলা ও হরমুজ প্রণালি বন্ধ করার এই আগ্রাসী মনোভাব সম্ভবত হোয়াইট হাউজকে অবাক করেছে। ইরানকে নিয়ন্ত্রণে রাখার মার্কিন কৌশল আর কাজ করছে না।

ইন্টারন্যাশনল ক্রাইসিস গ্রুপের আলি ওয়ায়েজ বলেন, উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলো এখন মার্কিন নিরাপত্তা বলয়ের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।বিভিন্ন প্রতিবেদনে আভাস মিলছে যে বেশিরভাগ উপসাগরীয় দেশ ইরানের সাথে সম্পর্ক মেরামতের চেষ্টা করছে।

বার্তা সংস্থা এএফপি এক কূটনীতিকের বরাতে জানায়, কয়েক দশকের শত্রুতার পর ২০২৩ সালে তেহরানের সাথে সম্পর্ক পুনরুদ্ধার করা সৌদি আরব একটি ‘পুনর্মিলন সম্মেলন’ আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তবে ওয়ায়েজ সন্দেহ প্রকাশ করেছেন যে এদের কেউই মার্কিন সামরিক বাহিনীর সাথে পুরোপুরি সম্পর্ক ছিন্ন করতে প্রস্তুত নয়। তারা মূলত ঝুঁকি কমানোর চেষ্টা করছে।

বর্তমান পরিস্থিতিকে তিনি একটি ‘প্লাস্টিক মোমেন্ট’ বা পরিবর্তনশীল মুহূর্ত বলে অভিহিত করেছেন, যা পুরনো শত্রুদের ভিন্ন মাত্রার সম্পর্কের সম্ভাবনা তৈরি করে।

জনগণের কী হবে এবং নতুন বাস্তববাদী নেতৃত্ব

জানুয়ারিতে ট্রাম্প ইরানের নাগরিকদের সরকারের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা এখন পর্যন্ত কাল্পনিকই প্রমাণিত হয়েছে। তেহরানে নতুন প্রজন্ম ক্ষমতায় এলেও তারা জনগণকে একটি স্বাধীন ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের কোনো আশা দেখাতে পারেনি। রেজিমের অস্তিত্ব রক্ষার এই লড়াইয়ের সময়ে ভিন্নমতাবলম্বীদের প্রতি নেতৃত্ব নমনীয় হবে না বলে মনে করেন বিশ্লেষক আনিসেহ বাসিরি তাবরিজি।

তবে যুদ্ধের আগেই হিজাব পরার বাধ্যবাধকতা শিথিল হওয়া বা তেহরানের রেস্তোরাঁগুলোতে গোপনে অ্যালকোহল পাওয়ার মতো বিষয়গুলো ইঙ্গিত দেয় যে, রেজিম হয়তো কিছু পুরনো সামাজিক নিষেধাজ্ঞা ঝেড়ে ফেলছে।

অধ্যাপক নাসর বলেন, শাসন টিকিয়ে রাখার স্বার্থেই এ বিষয়গুলোতে কিছুটা ছাড় দেওয়া প্রয়োজন বলে তারা বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শাসকদল অন্তত এটি দেখাতে পেরেছে যে তারা দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে সক্ষম।

ইরানিদের জন্য এই যুদ্ধ চরম বিভ্রান্তিকর ছিল। রেজিমের প্রতি ক্ষোভ ধীরে ধীরে মার্কিন ও ইসরাইলি বোমাবর্ষণের আতঙ্কে রূপ নেয়, যা শত শত বেসামরিক মানুষকে হত্যা করেছে। যুদ্ধের প্রথম দিনে মিনাবের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বহু শিশুর মৃত্যু প্রশ্ন জাগিয়ে তোলে যে আসল শত্রু কে? মুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পর মার্কিন-ইসরাইল যেন দেশটিকে ধ্বংস করতেই বদ্ধপরিকর ছিল।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর পর নতুন নেতৃত্ব কি বৈধতা গঠনের এই সুযোগ কাজে লাগাতে পারবে?

ওয়ায়েজ বলেন, এটি মাও-পরবর্তী চীনের মতো এক মুহূর্ত, যেখানে নতুন নেতৃত্ব বোঝে যে তাদের একটি নতুন সামাজিক চুক্তির প্রয়োজন। তবে তারা এটি বাস্তবায়ন করতে পারবে কি না, তা বড় প্রশ্ন।

ইরান এখন অনেক বেশি আইআরজিসির নেতৃত্বের দ্বারা পরিচালিত। অন্যদিকে জানুয়ারির অভিযানে বন্ধু হারানো উচ্চশিক্ষিত তরুণরা মনে করে দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে তাদের কোনো ভূমিকা নেই। ইরান এখন দেশে ও বিদেশে পুরনো অবস্থান ও ভবিষ্যতের সম্ভাবনার মাঝে এক অনিশ্চিত দোলাচলে দাঁড়িয়ে আছে।

উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা সত্ত্বেও তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কূটনৈতিক প্রক্রিয়া শুরু করেছে, যাকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ‘মৌলিকভাবে রূপান্তরিত সম্পর্ক’ বলে অভিহিত করেছেন। পারমাণবিক কর্মসূচিতে ছাড় দেওয়ার বিনিময়ে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সুযোগ তাদের অভ্যন্তরীণ ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার করতে সাহায্য করতে পারে।

সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর থেকে ইরান ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া সুবিধা পেয়েছে, যা তাদের ৬০ দিনের জন্য অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য রপ্তানির অনুমতি দেয়। এই সময়ে ইরানের অবরুদ্ধ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ অবমুক্ত হওয়া এবং চূড়ান্ত চুক্তি হলে সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের মতো বড় সাফল্য আসতে পারে।

এমওইউ-তে একটি ৩০০ বিলিয়ন ডলারের ‘পুনর্গঠন ও উন্নয়ন’ পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ রয়েছে, যদিও এর অর্থায়ন কে করবে তা স্পষ্ট নয়।

সানাম ভাকিল একমত যে অঞ্চলটির জন্য ‘সম্ভাবনার একটি দ্বার’ খুলছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে না পারলে বিষয়টি ঝুলে থাকবে এবং ট্রাম্প ধৈর্য হারিয়ে তৃতীয় রাউন্ডের যুদ্ধ শুরু করতে পারেন।

বিশেষজ্ঞদের কেউই ভবিষ্যৎ নিয়ে সম্পূর্ণ নিশ্চিত নন। ইরান, মধ্যপ্রাচ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক দশকের জটিল সম্পর্ক গভীর সন্দেহ ও আস্থার অভাব তৈরি করে রেখেছে। পারমাণবিক কর্মসূচি, হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ, লেবাননের যুদ্ধ এবং কট্টরপন্থিদের অনমনীয় মনোভাবের মতো অনেক অমীমাংসিত বিষয়ের কারণে ব্যর্থ হওয়ার সুযোগের কোনো কমতি নেই। ছয়টি উত্তাল মাসের পর অঞ্চলের চিত্র বদলাতে শুরু করলেও, এই পরিবর্তনকে ভালো কিছুতে রূপান্তর করতে হলে অনেক কিছুকে সঠিক পথে চলতে হবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

বিষয়: