ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অবিচ্ছেদ্য অধিকারের প্রতি পাকিস্তানের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে দেশটির রাষ্ট্রপতি আসিফ আলী জারদারি এবং প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ। শনিবার (২৯ নভেম্বর), ফিলিস্তিনি জনগণের সাথে আন্তর্জাতিক সংহতি দিবস পালন উপলক্ষে পৃথক বিবৃতিতে ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে সংহতি জানান পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী।
১৯৭৭ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ (ইউএনজিএ) ২৯ নভেম্বর এই দিনটিকে ফিলিস্তিনি জনগণের সঙ্গে সংহতি প্রকাশে ‘আন্তর্জাতিক ফিলিস্তিন সংহতি দিবস’ হিসেবে ঘোষণার করে। এর পর থেকেই প্রতিবছর সারা বিশ্বে ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি পালনে এ দিবস পালন করে আসছে।
পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রী উভয়েই, ফিলিস্তিনিদের অধিকারের সমর্থনে পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের অবস্থানের পুনর্ব্যক্ত করেন এবং মানবিক সংকটের অবসানে নতুন করে আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার আহ্বান জানান।
পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি তার বার্তায় জানিয়েছেন, ‘১৯৬৭ সালে সীমান্তের ভিত্তিতে আল-কুদস আল-শরীফকে রাজধানী করে, ফিলিস্তিনিকে যেমন একটি স্বাধীন, সার্বভৌম, কার্যকর রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কথা ছিল, আমরা সেই বিশ্বাসের প্রতি আমাদের অটল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছি।’
অন্যদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ তার বার্তায় বলেছেন, পাকিস্তানের সরকার এবং জনগণ, ফিলিস্তিনের ভাই ও বোনদের পাশে অটল সংকল্প আর অঙ্গীকারবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শাহবাজ বলেন, ‘আজ এবং সর্বদা, পাকিস্তান ফিলিস্তিনি জনগণের সাথে সংহতি পুনর্ব্যক্ত করে। আমরা ফিলিস্তিনিদের তাদের ন্যায্য সংগ্রামে, তাদের যথাযথ স্বাধীনতা, মর্যাদা এবং শান্তির জন্য তাদের ন্যায্য আকাঙ্ক্ষায় তাদের পাশে আছি।"
তিনি আরো বলেছেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্ববাসী গাজায় ৭০,০০০ এরও বেশি মানুষ শহীদ হওয়ার সাক্ষী হয়েছে, যাদের মধ্যে রয়েছে শিশু, নারী এবং পুরুষ, তারা সবাই নির্মম সহিংসতার শিকার হয়েছিলেন।’
তিনি বলেন, ‘গাজায় নৃশংস নির্যাতন চালানো হয়েছে, পুরো এলাকা নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হয়েছিল এবং অনেক পরিবারকে পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হয়েছিল। বাড়িঘর, হাসপাতাল, স্কুল এবং মৌলিক প্রয়োজনীয় নাগরিক অবকাঠামো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।’
এই গুরুতর বাস্তবতার পরিপ্রেক্ষিতে, তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরাইলের সংঘটিত যুদ্ধাপরাধ এবং গণহত্যার জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ এবং বিশ্বাসযোগ্য জবাবদিহিতা করা উচিত।
সূত্র: জিও নিউজ।

