আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

যে কারণে পদত্যাগ করলেন মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী প্রধান

আমার দেশ অনলাইন

যে কারণে পদত্যাগ করলেন মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী প্রধান
ছবি: সংগৃহীত

মিয়ানমারের পার্লামেন্টের আসন্ন এক ভোটে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হওয়ার জন্য দেশটির সামরিক বাহিনীর প্রধান সিনিয়র জেনারেল মিন অঙ হ্লাইং পদত্যাগ করেছেন।

সোমবার মিয়ানমারের রাজধানী নেপিদোতে এক অনুষ্ঠানে জেনারেল হ্লাইং সশস্ত্র বাহিনীর কমান্ডার-ইন-চিফের পদটি অভিজ্ঞ কর্মকর্তা জেনারেল ইয়ে উইন উ-য়ের কাছে হস্তান্তর করেন।

বিজ্ঞাপন

উইন উ ২০২০ সালে মিয়ানমারের গোয়েন্দা প্রধান হিসেবে নিয়োগ পান। এরপর চলতি মাসের ৪ তারিখে তিনি দেশটির সেনাবাহিনীর কমান্ডার-ইন-চিফ হিসেবে পদোন্নতি লাভ করেন।

একইদিন মিয়ানমারের নবনির্বাচিত পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের অধিবেশনে আইনপ্রণেতারা দুজন ভাইস-প্রেসিডেন্ট প্রার্থীর নাম প্রস্তাব করেন; এদের একজন জেনারেল হ্লাইং।

২০২১ সালে এক সামরিক অভ্যুত্থানে অঙ সান সু চি-র নেতৃত্বাধীন গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারকে হটিয়ে ক্ষমতা দখলে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন জেনারেল হ্লাইং। তারপর থেকে দেশটিতে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়।

গৃহযুদ্ধের মধ্যেই মিয়ানমারে অভ্যুত্থানের পর থেকে প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সামরিক কর্তৃত্বের অধীনে হওয়া এ নির্বাচনে সামরিক বাহিনীর সমর্থিত একটি দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে।

রয়টার্স জানিয়েছে, বর্তমানে ৬৯ বছর বয়সী হ্লাইং ২০১১ সাল থেকে মিয়ানমারের সশস্ত্র বাহিনীর নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন।

বিশ্লেষকরা জেনারেল উইন উ-কে সদ্য অবসরে যাওয়া সিনিয়র জেনারেল হ্লাইংয়ের অত্যন্ত আস্থাভাজন একজন কর্মকর্তা হিসেবে বিবেচনা করেন।

রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যমের সরাসরি সম্প্রচার থেকে দেখা গেছে, সামরিক বাহিনী সমর্থিত সংখ্যাগরিষ্‌ঠ দলের আইনপ্রণেতা কিউ কিউ হতেই পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের অধিবেশনে বলছেন, “সিনিয়র জেনারেল মিন অঙ হ্লাইংকে ভাইস-প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।”

পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ আরও একজন ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রার্থীকে মনোনয়ন দেবে। পরে পার্লামেন্টের উভয় কক্ষ মিলে ভোটের মাধ্যমে এই তিনজনের মধ্যে একজনকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করবে। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ওই ভোটের তারিখ এখনও ঘোষণা করা হয়নি।

মিয়ানমারে ডিসেম্বরে ও জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সামরিক বাহিনী সমর্থিত ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি) জয়ী হয়। তবে এটিকে ‘প্রহসনের নির্বাচন’ বলে অভিহিত করেছে জাতিসংঘ ও অনেক পশ্চিমা দেশ।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন