মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদন

আমিরাতকে ‘চূর্ণবিচূর্ণের’ পরিকল্পনা করছে ইরান

আমার দেশ অনলাইন

আমিরাতকে ‘চূর্ণবিচূর্ণের’ পরিকল্পনা করছে ইরান
ফাইল ছবি

সৌদি আরব ও ওমানকে ইরান জানিয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ‘চূর্ণবিচূর্ণ’ করে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে তারা। ওয়াল স্টিট জার্নালের বরাত দিয়ে মিডল ইস্ট আইয়ের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, ইরানের বিরদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার জবাবে এ পরিকল্পনা করছে তেহরান।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এই পরিকল্পনা আবুধাবি এবং তার উপসাগরীয় প্রতিবেশীদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির একটি স্পষ্ট পদক্ষেপ বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং তার উপসাগরীয় প্রতিবেশী, বিশেষ করে সৌদি আরবের মধ্যে বছরের পর বছর ধরে চাপা উত্তেজনা রয়েছে।

মিডল ইস্ট আইয়ের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ওপেক থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বেরিয়ে যাওয়া এটাই ইঙ্গিত দেয় যে, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ রিয়াদ ও আবুধাবিকে একত্রিত করার পরিবর্তে তাদের মধ্যে উত্তেজনা আরো বাড়িয়ে তুলছে।

প্রতিবেদেন বলা হয়, ইরানি কর্মকর্তারা সৌদি আরবকে জানিয়েছেন যে তারা আমিরাতকে চূর্ণবিচূর্ণের পরিকল্পনা করছেন। তারা বিশেষভাবে আবুধাবির সঙ্গে রিয়াদের বিভেদের কথা উল্লেখ করেছেন।

প্রতিবেদনে এ বিষয়ে কবে আলাপ হয়েছিল তা বলা হয়নি। তবে এতে বলা হয়, সৌদি কর্মকর্তারা এ ধরনের ভাষা ব্যবহারে অসন্তুষ্ট ছিলেন।

ইরানের প্রতি সৌদি আরবের ক্ষোভ থাকা সত্ত্বেও দুই দেশ সংলাপ বজায় রেখেছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি গত মাসে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহানের সঙ্গে কথা বলেছেন।

ইরানের সতর্কবার্তাগুলো থেকে বোঝা যায় যে, উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর সম্পর্কে ফাটলের বিষয়ে সম্পর্কে তেহরান অবগত। সেই সঙ্গে আরব রাজতন্ত্রগুলো, যারা সবাই যুক্তরাষ্ট্রের অংশীদার-তাদের আরো দূরে ঠেলে দেওয়ার মধ্যে কৌশলগত সুবিধা দেখছে ইরান।

সৌদি আরব এই অঞ্চলের বৃহত্তম দেশ এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো এই দেশেরও বিদেশে শক্তি প্রদর্শনের উচ্চাকাঙ্ক্ষা রয়েছে। প্রকৃতপক্ষে, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু হওয়ার ঠিক আগে সৌদি আরব ইয়েমেনে সংযুক্ত আরব আমিরাতের মিত্রদের ওপর হামলা চালিয়েছিল। সুদানের গৃহযুদ্ধে দুই দেশই পরস্পরবিরোধী পক্ষকে সমর্থন করছে।

সৌদি আরব বনাম সংযুক্ত আরব আমিরাত:

সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ উপসাগরীয় রাজতন্ত্রগুলো সাধারণত ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল, কিন্তু ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলার মূল শিকার হয়েছে তারাই।

সংযুক্ত আরব আমিরাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে; এই ছোট কিন্তু ধনী দেশটিকে লক্ষ্য করে অন্তত ২ হাজার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় ইরান।

সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, কাতার, বাহরাইন ও কুয়েত—এই চার দেশে সম্মিলিতভাবে হাজার হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে এবং তারা মার্কিন প্রতিরক্ষাশিল্পের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। যুক্তরাষ্ট্র এসব দেশকে সিংহভাগ অস্ত্রশস্ত্র ও বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সরবরাহ করে।

এসব দেশের আহ্বান উপেক্ষা করে ইরানে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। তার পরও তারা ওয়াশিংটনের পাশে দাঁড়িয়েছে।

সৌদি আরব উন্নত ঘাঁটি স্থাপন ও আকাশসীমা ব্যবহারের সুযোগ দিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালাতে যুক্তরাষ্ট্রকে সাহায্য করেছে, কিন্তু একই সাথে এটি তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী পাকিস্তানের মধ্যস্থতার প্রচেষ্টাকেও সমর্থন করেছে।

এর বিপরীতে, সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রকাশ্যে ও গোপনে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের ওপর হামলা চালিয়ে যাওয়ার জন্য তদবির করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে আলোচনার জন্য একত্রিত করতে পাকিস্তানকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছে।

আমিরাত-ইসরাইল জোট:

এই যুদ্ধ সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইসরাইলের মধ্যকার অংশীদারিত্বকে আরো দৃঢ় করেছে। এমন জল্পনাও রয়েছে যে, সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানের ওপর হামলায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে যোগ দিয়েছে। গত মাসে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় শিরাজে একটি চীনা উইং লুং ২ ড্রোন ভূপাতিত করা করা হয়। এ ঘটনার পর সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানের অভ্যন্তরে বিমান হামলা চালাচ্ছে কি না-তা নিয়ে শুরু হয় জল্পনা।

সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানের হামলার জন্য বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ, কারণ এটি উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে আন্তর্জাতিক পর্যটকদের জন্য সবচেয়ে উন্মুক্ত একটি দেশ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুবাই পর্যটন, ক্রিপ্টোকারেন্সি এবং অর্থায়নের কেন্দ্র হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

দুবাইয়ের বেশ কয়েকটি নামকরা হোটেল ছাড়মূল্যে রুম দিচ্ছে এবং সেগুলোতে অতিথির সংখ্যাও কমে গেছে। নগর-রাষ্ট্রটির অন্যতম বিখ্যাত হোটেল বুর্জ আল আরব সংস্কারের জন্য ১৮ মাস ধরে বন্ধ রয়েছে। যুদ্ধের প্রথম দিকে ইরান থেকে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে এটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

এতসব ক্ষতি সত্ত্বেও, সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানের বিরুদ্ধে উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে সোচ্চার দেশ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আমিরাত এই বিষয়ে শঙ্কিত যে যুক্তরাষ্ট্র হয়তো তেহরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধ করতে পারে এবং তেহরান একটি নতুন শক্তি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করছে এবং হরমুজ প্রণালিতে কর্তৃত্ব স্থাপনে সক্ষম।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

আরএ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন