ভিক্টোরিয়ায় নির্বাচনে অবস্থান বদলাচ্ছে মুসলিম ভোটারদের সংগঠন

ভিক্টোরিয়ায় নির্বাচনে অবস্থান বদলাচ্ছে মুসলিম ভোটারদের সংগঠন
‘মুসলিম ভোটস ম্যাটার’-এর মুখপাত্র গেইথ ক্রায়েম। তৃণমূল পর্যায়ের এই অ্যাডভোকেসি গোষ্ঠীটি ভিক্টোরিয়ার নিম্নকক্ষের সব নির্বাচনী এলাকায় তাদের সমর্থকদের ‘ওয়ান নেশন’ -এর পরিবর্তে লেবার পার্টিকে ভোট দেওয়ার নির্দেশনা দেবে। ছবি: দ্য গার্ডিয়ান

অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া রাজ্যের আসন্ন নির্বাচনে কৌশল পরিবর্তন করছে মুসলিম ভোটারদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন মুসলিম ভোটস ম্যাটার (এমভিএম)। গত বছরের ফেডারেল নির্বাচনে ফিলিস্তিন ইস্যুতে লেবার পার্টির বিরুদ্ধে অবস্থান নিলেও এবার কট্টর ডানপন্থি দল ওয়ান নেশনের প্রভাব ঠেকাতে দলটির প্রার্থীদের এগিয়ে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংগঠনটি।

আগামী ২৮ নভেম্বর ভিক্টোরিয়ায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এতে লেবার পার্টির দখলে থাকা কয়েকটি শহরতলির আসনে ওয়ান নেশনের প্রভাব বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে এমভিএম। এ পরিস্থিতিতে গ্রিনভেল, নারি ওয়ারেন সাউথ ও টারনেইট আসনে স্বেচ্ছাসেবীদের মাঠে নামানোর পরিকল্পনা করেছে তারা।

বিজ্ঞাপন

এমভিএমের জাতীয় মুখপাত্র গাইথ ক্রায়েম বলেন, নির্বাচনের আগে পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে। গত ফেডারেল নির্বাচনে লেবার পার্টির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছিল। তবে এবার একই কৌশল অনুসরণ করলে তাতে ওয়ান নেশনই লাভবান হতে পারে।

তিনি বলেন, মুসলিম সম্প্রদায় ওয়ান নেশনের প্রভাব বাড়ুক, তা চায় না। বিশেষ করে, লেবারবিরোধী প্রচারণা জোরদার হলে কোনো কোনো আসনে দলটির ভোট কমে গিয়ে ওয়ান নেশনের জয়ের পথ তৈরি হতে পারে।

ক্রায়েমের আশঙ্কা, নির্বাচনে লিবারেল-কোয়ালিশন সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারলে সরকার গঠনের জন্য ওয়ান নেশনের সঙ্গে সমঝোতায় যেতে হতে পারে। সে ক্ষেত্রে দলটির নীতিগত দাবির কিছু অংশ মেনে নেওয়ার ঝুঁকি থাকবে। তিনি উদাহরণ হিসেবে অস্ট্রেলিয়ায় বোরকা নিষিদ্ধ করার বিষয়ে ওয়ান নেশন নেতা পলিন হ্যানসনের বক্তব্যের কথা উল্লেখ করেন।

ক্রায়েমের ভাষায়, এ ধরনের বক্তব্য সমাজে মুসলিমদের পোশাক ও তাদের অস্ট্রেলীয় পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তোলার প্রবণতাকে স্বাভাবিক করে তুলতে পারে। দেশের জন্য এমন পরিস্থিতি ইতিবাচক নয়।

তবে অবস্থান পরিবর্তন করলেও কোনো আসনেই লেবার পার্টিকে নিজেদের ভোট দেওয়ার তালিকার শীর্ষে রাখবে না এমভিএম। সংগঠনটি জানিয়েছে, প্রতিটি আসনে প্রার্থীদের নীতি ও অবস্থান বিবেচনা করে ভোটারদের জন্য আলাদা নির্দেশনামূলক কার্ড তৈরি করা হবে। এসব কার্ডে স্বতন্ত্র ও ছোট দলগুলোর প্রার্থীদেরও অগ্রাধিকার দেওয়া হতে পারে। তবে যেসব আসনে লিবারেল পার্টির পক্ষে দেওয়া পছন্দের ভোট ওয়ান নেশনের দিকে যেতে পারে, সেখানে লেবার প্রার্থীদের এগিয়ে রাখা হবে।

এমভিএমের লক্ষ্য আসনগুলোর মধ্যে রয়েছে মেলবোর্নের উত্তরের গ্রিনভেল। ২০২২ সালের নির্বাচনের আগে গঠিত এ আসনটি বর্তমানে লেবার পার্টির দখলে। দুই দলের মধ্যে পছন্দের ভোটের হিসাবে লেবারের ব্যবধান ৭ দশমিক ১ শতাংশ। আসনটিতে মধ্যপ্রাচ্যীয় বংশোদ্ভূত মানুষের উল্লেখযোগ্য বসবাস রয়েছে।

ক্রায়েম বলেন, গ্রিনভেলে মুসলিম জনগোষ্ঠীর উপস্থিতি বেশি হওয়ায় সেখানে স্বেচ্ছাসেবীদের প্রচারণায় নামানো হলে লেবারের সমর্থন ধরে রাখা এবং আসনটি ওয়ান নেশনের দখলে যাওয়া ঠেকানো সম্ভব হতে পারে।

এ ছাড়া মেলবোর্নের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের নারি ওয়ারেন সাউথ আসনেও প্রচারণা চালাবে সংগঠনটি। আসনটি লেবার পার্টির দখলে রয়েছে এবং সেখানে দলটির ব্যবধান ৮ দশমিক ৩ শতাংশ। ২০২১ সালের আদমশুমারির তথ্য অনুযায়ী, আসনটির ১৩ দশমিক ১ শতাংশ বাসিন্দা মুসলিম। ভিক্টোরিয়া রাজ্যে এ হার ৪ দশমিক ২ শতাংশ।

পশ্চিম মেলবোর্নের টারনেইট আসনেও স্বেচ্ছাসেবী মোতায়েন করবে এমভিএম। সেখানে মুসলিম বাসিন্দার হার ১৪ দশমিক ৬ শতাংশ। আসনটিতে লেবার পার্টির ব্যবধান ১২ দশমিক ৩ শতাংশ। মুসলিম সম্প্রদায়ের সঙ্গে আলোচনায় লেবার পার্টির প্রতি অসন্তোষের বিষয়টি উঠে আসায় আসনটিকে প্রচারণার লক্ষ্য হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে বলে জানান ক্রায়েম।

লেবার পার্টির প্রতি মুসলিম সম্প্রদায়ের ক্ষোভ অবশ্য এখনো কাটেনি। বিশেষ করে ফিলিস্তিন ও গাজা পরিস্থিতি, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং বিক্ষোভের অধিকার নিয়ে দলটির অবস্থান নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে বলে জানান এমভিএমের মুখপাত্র। তার মতে, ফিলিস্তিন ও গাজা ইস্যু এখনো বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারের প্রতি মুসলিম সম্প্রদায়ের অসন্তোষের প্রধান কারণ।

নির্বাচনে ভিক্টোরিয়ার নিম্নকক্ষ ও উচ্চকক্ষের সব আসনের জন্য ভোটারদের নির্দেশনামূলক কার্ড তৈরি করবে এমভিএম। গ্রিনভেল, নারি ওয়ারেন সাউথ এবং টারনেইটের ভোটকেন্দ্রগুলোতে স্বেচ্ছাসেবীরা এসব কার্ড বিতরণ করবেন।

সংগঠনটির এবারের নির্বাচনী অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে ইসলামবিদ্বেষ মোকাবিলা, জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, আবাসনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ফিলিস্তিনের পক্ষে কথা বলার অধিকার সুরক্ষিত রাখা। ফলে লেবারবিরোধী অবস্থান কিছুটা শিথিল করলেও ফিলিস্তিন ইস্যুতে দলটির প্রতি এমভিএমের অসন্তোষ বহাল থাকছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন