যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সিনেট প্রার্থী আবদুল এল-সাইদের সঙ্গে নির্বাচনি প্রচারে অংশ নিতে যাচ্ছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। আগামী ২৪ অক্টোবর ডেট্রয়েটে অনুষ্ঠেয় একটি নির্বাচনি সমাবেশে ওবামার অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। তবে ওবামার সঙ্গে এল-সাইদের এই রাজনৈতিক জোট নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে।
এল-সায়েদ এর আগে ওবামা প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন বিভিন্ন নীতির কঠোর সমালোচনা করেছিলেন। তিনি ওবামা প্রশাসনের যুদ্ধনীতি, নাগরিক স্বাধীনতা, অভিবাসন, স্বাস্থ্যসেবা ও অর্থনৈতিক নীতির সমালোচনা করে বলেছিলেন, এসব ক্ষেত্রে মৌলিক পরিবর্তন আনা হয়নি।
২০১২ সালে লেখা এক নিবন্ধে ওবামার দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হওয়াকে প্রগতিশীলদের জন্য বিজয় হিসেবে দেখতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন এল-সায়েদ। পরবর্তী সময়েও তিনি ওবামার নীতিকে অতিরিক্ত মধ্যপন্থি বলে সমালোচনা করেন। ২০১৭ সালে মিশিগানের গভর্নর পদে প্রার্থী হওয়ার সময়ও তিনি ওবামার সঙ্গে নীতিগত মতপার্থক্যের কথা প্রকাশ্যে জানিয়েছিলেন।
তবে বর্তমানে এল-সাইদের রাজনৈতিক অবস্থানে ওবামার প্রতি তুলনামূলক ইতিবাচক অবস্থান দেখা যাচ্ছে। তার প্রচারশিবির জানিয়েছে, তরুণ বয়সে ২০০৮ সালে ওবামার নির্বাচনি বিজয় এল-সাইদকে অনুপ্রাণিত করেছিল। এল-সাইদ ওবামার কিছু সিদ্ধান্তের সঙ্গে মতভেদ থাকলেও তাকে একজন দক্ষ ও আমেরিকানদের প্রতি প্রতিশ্রুতিশীল নেতা হিসেবে দেখেন বলে তার প্রচারশিবির জানিয়েছে।
এল-সায়েদ চলতি বছরের আগস্টে মিশিগানের ডেমোক্রেটিক সিনেট প্রাইমারিতে সাবেক কংগ্রেস সদস্য হ্যালি স্টিভেন্সকে অল্প ব্যবধানে পরাজিত করেন। তিনি প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন পেয়েছেন। তার সমর্থকদের মধ্যে সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স ও কংগ্রেস সদস্য আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজ রয়েছেন। সাধারণ নির্বাচনে তার প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান প্রার্থী ও সাবেক কংগ্রেস সদস্য মাইক রজার্স।
এদিকে সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসও সম্প্রতি এল-সাইদের সঙ্গে ডেট্রয়েটে নির্বাচনি প্রচারে অংশ নিয়েছেন। ওবামার উপস্থিতিও তার প্রচারণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে ডেট্রয়েটের কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের সমর্থন আদায়ে ওবামার জনপ্রিয়তা এল-সাইদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
মিশিগানের সিনেট নির্বাচনে আগামী মার্কিন কংগ্রেসে কোন দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে, তা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ফলে এল-সাইদের প্রচারে ওবামার সরাসরি অংশগ্রহণকে ডেমোক্র্যাটদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: মিডল ইস্ট আই, দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট ও দ্য গার্ডিয়ান
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


