যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের সপ্তম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্ট থেকে আবারও নির্বাচিত হয়েছেন ডেমোক্র্যাট রাজনীতিক আন্দ্রে কারসন। ইন্ডিয়ানাপোলিসকেন্দ্রিক এই আসনের প্রতিনিধিত্ব করছেন তিনি ২০০৮ সাল থেকে। যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে নির্বাচিত দ্বিতীয় মুসলিম সদস্য হিসেবে পরিচিত কারসন দেশটির মুসলিম রাজনীতিকদের মধ্যে অন্যতম প্রভাবশালী মুখ। তার দাদি জুলিয়া কারসনও ছিলেন কংগ্রেস সদস্য। ১৯৯৭ সাল থেকে ২০০৭ সালে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি ইন্ডিয়ানার এই আসনের প্রতিনিধিত্ব করেন। দাদির মৃত্যুর পর বিশেষ নির্বাচনে জয়ী হয়ে কংগ্রেসে প্রবেশ করেন আন্দ্রে কারসন। এরপর থেকে প্রতিটি নির্বাচনে জয়ী হয়ে আসনটি ধরে রেখেছেন তিনি।
১৯৭৪ সালের ১৬ অক্টোবর ইন্ডিয়ানাপোলিসে জন্ম নেওয়া কারসন শহরটির পূর্বাঞ্চলে বেড়ে ওঠেন। তিনি আর্সেনাল টেকনিক্যাল হাইস্কুল থেকে পড়াশোনা শেষ করে উইসকনসিনের কনকর্ডিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অপরাধবিচার ও ব্যবস্থাপনায় স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে ইন্ডিয়ানা ওয়েসলিয়ান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবসায় ব্যবস্থাপনায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেন। রাজনীতিতে আসার আগে তিনি ইন্ডিয়ানা স্টেট এক্সাইজ পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেন। পরে ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের সন্ত্রাসবাদবিরোধী ও গোয়েন্দা কার্যক্রমসংক্রান্ত ইউনিটে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৭ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত ইন্ডিয়ানাপোলিস সিটি-কাউন্টি কাউন্সিলের সদস্যও ছিলেন তিনি।
কংগ্রেসে দায়িত্ব পালনকালে ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার সংস্কার, নাগরিক অধিকার, সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা, গণপরিবহন এবং মধ্যবিত্ত মানুষের অর্থনৈতিক নিরাপত্তার পক্ষে কাজ করেছেন কারসন। তিনি প্রতিনিধি পরিষদের গোয়েন্দাবিষয়ক স্থায়ী কমিটির প্রথম মুসলিম সদস্য। ওই কমিটির সন্ত্রাসবাদ, পাল্টা গোয়েন্দা কার্যক্রম ও বিস্তাররোধবিষয়ক উপকমিটির সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন। এ ছাড়া পরিবহন ও অবকাঠামোবিষয়ক কমিটি এবং চীনের সঙ্গে কৌশলগত প্রতিযোগিতাবিষয়ক বিশেষ কমিটিতে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।
ইন্ডিয়ানাপোলিসের উন্নয়নেও ভূমিকা রেখেছেন কারসন। তার উদ্যোগে শহরটির বিভিন্ন অবকাঠামো, গণপরিবহন, কর্মসংস্থান প্রশিক্ষণ এবং স্থানীয় উন্নয়ন প্রকল্পে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কেন্দ্রীয় অর্থায়ন এসেছে। তিনি কংগ্রেসের ডেমোক্রেটিক ককাসের প্রগতিশীল অংশের সঙ্গে যুক্ত এবং কংগ্রেসনাল ব্ল্যাক ককাসের সদস্য। ধর্মীয় স্বাধীনতা, নারী-পুরুষের সমতা ও এলজিবিটিকিউ জনগোষ্ঠীর সমান অধিকারের পক্ষেও দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন তিনি।
ব্যক্তিগত জীবনে কারসন এক কন্যাসন্তানের বাবা। ইন্ডিয়ানাপোলিসের সেন্টার টাউনশিপ এলাকায় বসবাস করেন তিনি। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, জাতীয় নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা কার্যক্রমে সম্পৃক্ততা এবং নিজ অঙ্গরাজ্যের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে ডেমোক্রেটিক পার্টিতে তার অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ। এবারের নির্বাচনে জয়ী হয়ে প্রতিনিধি পরিষদে তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা অব্যাহত রাখলেন কারসন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


