যুক্তরাষ্ট্রে কার্যকর হচ্ছে অভিবাসী গ্রেপ্তার আইন

আমার দেশ অনলাইন
আমার দেশ অনলাইন

যুক্তরাষ্ট্রে কার্যকর হচ্ছে অভিবাসী গ্রেপ্তার আইন
ছবি: রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে প্রবেশকারী সন্দেহে যেকোনো ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার ও দেশত্যাগে বাধ্য করার ক্ষমতা দিয়ে তৈরি টেক্সাস রাজ্যের একটি বিতর্কিত আইন কার্যকরের পথ উন্মুক্ত করে দিয়েছেন দেশটির একটি ফেডারেল আপিল আদালত।

শুক্রবার নিউ অরলিন্সভিত্তিক ‘ফিফথ ইউএস সার্কিট কোর্ট অব আপিলস’-এর ২-১ বিচারকের একটি প্যানেল আইনটির ওপর থাকা আগের একটি স্থগিতাদেশ বাতিল করে এ রায় দেন।

বিজ্ঞাপন

এর আগে গত ১৪ মে টেক্সাসের অস্টিনের ইউএস ডিস্ট্রিক্ট জাজ ডেভিড এজরা নাগরিক অধিকার কর্মীদের করা একটি যৌথ মামলার পরিপ্রেক্ষিতে এই আইনটির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন।

বিচারক ডেভিড এজরা সিদ্ধান্তে জানিয়েছিলেন, রাজ্য আইনটি অভিবাসন, নাগরিকত্ব ও দেশত্যাগের ওপর থাকা ফেডারেল বা কেন্দ্রীয় সরকারের দীর্ঘদিনের একক ক্ষমতাকে অবৈধভাবে চ্যালেঞ্জ করছে। টেক্সাসের রিপাবলিকান অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটন এই নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে দ্রুত আপিল করেন, যার পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার আদালত নিষেধাজ্ঞাটি স্থগিত করে আইনটি কার্যকরের পক্ষে রায় দেন।

নাগরিক অধিকার কর্মীদের করা মামলাটিতে টেক্সাসের বিতর্কিত ‘এসবি ৪’ নামক ২০২৩ সালের এই আইনের ৪টি মূল ধারাকে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছিল। যার মধ্যে রয়েছে-একবার ডিপোর্ট বা দেশ থেকে বের করে দেওয়ার পর কোনো ব্যক্তি যদি ফেডারেল সরকারের অনুমতি বা গ্রিন কার্ড নিয়েও আবার যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন, তবে টেক্সাস রাজ্যে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এছাড়া আইনটি টেক্সাসের স্থানীয় ম্যাজিস্ট্রেট বিচারকদের অভিবাসীদের দেশত্যাগের আদেশ দেওয়ার ক্ষমতা প্রদান করে।

আদালতের এই রায়ের পর মামলার বাদিপক্ষ আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন (এসিএলইউ), এর টেক্সাস শাখা এবং টেক্সাস সিভিল রাইটস প্রজেক্ট এক যৌথ বিবৃতিতে এই রায়কে হতাশাজনক বলে আখ্যা দিয়েছে।

তারা জানিয়েছে, এই ‘ঘৃণ্য এবং স্পষ্টতই অবৈধ আইনের’ বিরুদ্ধে তাদের লড়াই অব্যাহত থাকবে।

অন্যদিকে, কেন প্যাক্সটনের কার্যালয় এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।

উল্লেখ্য, ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের আমলে এই ‘এসবি ৪’ আইনটির বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছিল এবং আপিল আদালত গত এপ্রিলে আগের একটি নিষেধাজ্ঞা বাতিল করেছিলেন। পরবর্তীতে রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন বাইডেন প্রশাসনের আনা সেই মামলাটি তুলে নেয়। তবে অভিবাসী অধিকার রক্ষা বিষয়ক সংগঠনগুলো আইনি লড়াই চালিয়ে যায়। যদিও ফিফথ সার্কিট কোর্ট ১০-৭ ভোটের ব্যবধানে রায় দিয়েছিল ওই সংগঠনগুলোর মামলা করার আইনি ভিত্তি নেই। এরপরই এসিএলইউ-এর সহায়তায় সরাসরি ভুক্তভোগী হতে পারেন এমন অ-নাগরিকদের পক্ষে এই নতুন মামলাটি দায়ের করা হয়েছিল।

সূত্র: রয়টার্স

এএম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...