আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

গ্রিনল্যান্ডে সামরিক শক্তি ব্যবহারের ইঙ্গিত ট্রাম্পের

আমার দেশ অনলাইন

গ্রিনল্যান্ডে সামরিক শক্তি ব্যবহারের ইঙ্গিত ট্রাম্পের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্বায়ত্তশাসিত গ্রিনল্যান্ড দখলের জন্য প্রয়োজনে সরাসরি সামরিক শক্তি ব্যবহার করার ইঙ্গিত দিয়েছেন। ওয়াশিংটন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি মঙ্গলবার এ খবর জানায়।

বিজ্ঞাপন

হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, গ্রিনল্যান্ড দখল এখন যুক্তরাষ্ট্রের ‘জাতীয় নিরাপত্তা অগ্রাধিকার’ এবং প্রয়োজনে সামরিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। এই ঘোষণার পর ন্যাটো মিত্র ডেনমার্কের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে।

ভেনেজুয়েলায় সামরিক হস্তক্ষেপের পর ট্রাম্পের নজর ফের আর্কটিক অঞ্চলের এই ডেনিশ ভূখণ্ডের দিকে গেছে। বিরল খনিজ ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই অঞ্চল বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে মেরু অঞ্চলের বরফ গলনের ফলে নতুন নৌপথ খোলার সম্ভাবনার কারণে।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেন, “গ্রিনল্যান্ড দখল করা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাশিয়া ও চীনের মতো প্রতিপক্ষকে রুখতে এটি জরুরি। কমান্ডার-ইন-চিফ হিসেবে প্রেসিডেন্ট সামরিক বাহিনী ব্যবহার করার বিকল্প সব সময়ই খোলা রয়েছে।”

গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্ক অবশ্য দ্রুত বৈঠকের মাধ্যমে উত্তেজনা নিরসনের আহ্বান জানিয়েছে। গ্রিনল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিভিয়ান মোৎজফেল্ড জানান, ২০২৫ সাল থেকে তারা মন্ত্রী পর্যায়ে বৈঠকের অনুরোধ করেছেন, কিন্তু ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে সাড়া পাওয়া যায়নি। ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লারস লোকে রাসমুসেন আশা প্রকাশ করেছেন, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে বৈঠকে ‘ভুল বোঝাবুঝি’ দূর হবে।

গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স-ফ্রেডেরিক নিলসেন স্পষ্ট জানিয়েছেন, “গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয়। কেবল গ্রিনল্যান্ডের জনগণই তাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।” ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, পোল্যান্ড ও স্পেন ইতোমধ্যে ডেনমার্কের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষার পক্ষে সমর্থন জানিয়েছে।

গ্রিনল্যান্ডে বর্তমানে প্রায় ৫৭ হাজার মানুষ বসবাস করেন এবং সেখানে আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, ভেনেজুয়েলায় মাদুরোর অপহরণের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আগামী দুই মাসের মধ্যে গ্রিনল্যান্ডের বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

ডেনমার্কের রয়্যাল ডিফেন্স কলেজের বিশেষজ্ঞ মার্ক জ্যাকবসেন ট্রাম্পের আচরণকে ‘পুরানো রেকর্ডের মতো’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে ট্রাম্প দাবি করেছেন, ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা দিতে সক্ষম নয়। উল্লেখ্য, কোপেনহেগেন নিরাপত্তায় ব্যাপক বিনিয়োগ করেছে; গত বছর সেখানে ৯০ বিলিয়ন ক্রোনার (প্রায় ১৪ বিলিয়ন ডলার) বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...