গাজায় বন্ধ ত্রাণ সরবরাহ

তীব্র ক্ষুধা সংকটের মুখে গাজা, সতর্ক করল ইউএনআরডব্লিউএ

তীব্র ক্ষুধা সংকটের মুখে গাজা, সতর্ক করল ইউএনআরডব্লিউএ

গাজা ইসরাইল যুদ্ধবিরতির প্রথম পর্যায় শেষ হয়েছে ১ মার্চ। চলছে দ্বিতীয় পর্যায়ের যুদ্ধবিরতির আলোচনা, যদিও এখন পর্যন্ত এর কোনো অগ্রগতি হয়নি। যুদ্ধবিরতির সময় শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গাজায় সব ধরনের ত্রাণ সহায়তা বন্ধ করে দেয় ইসরাইল। এ অবস্থায় রমজানের খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে গাজা ভূখণ্ডে।

জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী সংস্থার প্রধান অভিযোগ করেন, গাজায় পণ্য ও বিদ্যুৎ বন্ধ করে দেয় ইসরাইল।

বিজ্ঞাপন

জেনেভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে, সংস্থার প্রধান ফিলিপ লাজ্জারিনি সতর্ক করে দিয়েছিলেন, গাজায় সাহায্য সরবরাহ পুনরায় শুরু না হলে নতুন করে ক্ষুধা সংকট দেখা দেবে। লাজ্জারিনি বলেছেন, গাজার পরিস্থিতি খুব দ্রুত অবনতি হচ্ছে। ‘অনাহার’কে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে ইসরাইল, যা স্পষ্টত মানবাধিকারের লংঘন।

তিনি বলেন, যুদ্ধবিরতির প্রথম পর্যায়ের অগ্রগতি বজায় রাখতে এবং মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণের জন্য গাজায় আবারও মানবিক সহায়তার অনুমতি দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই অঞ্চলে ক্ষুধা সংকট আরো তীব্র আকার ধারণ করার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

লাজ্জারিনি সাংবাদিকদের বলেন, এই সংস্থাকে নিষিদ্ধ করে ইসরাইল। ইসরাইলের একটি ভয়ঙ্কর বিভ্রান্তিকর প্রচারণার ফলে প্রধান দাতাদের তহবিল স্থগিতকরণ সংস্থাটির উপর প্রভাব ফেলেছে। যদিও জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ফিলিস্তিনিদের সহায়তা করতে প্রতিবেশী দেশগুলোকে বাধ্যতামূলক করেছে। ২০২৪ সালের ২৬ জানুয়ারির আগে আমেরিকা ছিল এই সংস্থাটির সবচেয়ে বড় আর্থিক সহায়তাকারী।

ইসরাইলের অভিযোগের পর আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ইউএনআরডব্লিউএতে তাদের অর্থায়ন একেবারেই কমিয়ে দেয়। তবে বিশ্বখাদ্য কর্মসূচি এবং বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে গাজায় ত্রাণ সহায়তা স্বাভাবিক রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বাইডেন প্রশাসন। কিন্তু বর্তমান সময়ে পরিস্থিতি একেবারেই পাল্টে গেছে। কারণ ট্রাম্প ইউএসএআইডি’র অর্থায়ন বন্ধ করায় গাহায় ত্রাণ সহায়তাও আটকে যাবে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যদিও ট্রাম্প প্রশাসন প্রথমে বলেছিল, ইউএসএআইডি’র কাটছাঁটের মধ্যে ইসরাইল এবং মিশর অন্তর্ভুক্ত হবে না।

সপ্তাহান্তে গাজায় বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন করে দেয় ইসরাইল। আর এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ব্রিটেন এবং জার্মানি। ইসরাইলের জ্বালানিমন্ত্রী এলি কোহেন বলেছেন, এই পদক্ষেপের লক্ষ্য সমস্ত জিম্মিদের ফিরিয়ে আনা এবং যুদ্ধের পরের দিন হামাস আর গাজায় নেই তা নিশ্চিত করা।

এদিকে, জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মুখপাত্র বলেছেন, এটি গাজায় পানীয় জলের প্রাপ্যতা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন