মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত দ্রুত নিরসনের আহ্বান জানিয়ে জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস বলেছেন, যুদ্ধের ফলে ইরানের রাষ্ট্রকাঠামো ভেঙে পড়লে তা পুরো ইউরোপের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরানের পতন ঘটলে তা আমাদের জ্বালানি সরবরাহে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং বড় ধরনের শরণার্থী সংকটের সৃষ্টি করতে পারে। তাই ইউরোপের স্বার্থেই এই সংঘাতের দ্রুত অবসান প্রয়োজন।
বুধবার দেশটির পার্লামেন্টে দেওয়া এক ভাষণে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, আমেরিকা যদি যুদ্ধের বিষয়ে আগে থেকে বার্লিনের সাথে পরামর্শ করত, তবে জার্মানি এই পথে না হাঁটার পরামর্শ দিত।
চ্যান্সেলর মের্জ জানান, এই যুদ্ধের পরিকল্পনা বা কার্যক্রম নিয়ে ওয়াশিংটন জার্মানির সাথে কোনো আলোচনা করেনি। তিনি বলেন, ইসরায়েল এবং আমেরিকার মতো আমরাও চাই ইরান যেন ভবিষ্যতে আর হুমকির কারণ না হয়ে দাঁড়ায়। গত কয়েক দশক ধরে ইরান আন্তর্জাতিক নিয়ম ভেঙে সন্ত্রাসবাদ ছড়িয়েছে এবং পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা তৈরি করেছে। বর্তমান সংকটের দায় মূলত তাদেরই।”
তবে চলমান যুদ্ধের কৌশল নিয়ে প্রশ্ন তুলে মের্জ বলেন, “এই সামরিক অভিযান কীভাবে সফল হবে, সে বিষয়ে আমেরিকা বা ইসরায়েল কোনো বিশ্বাসযোগ্য পরিকল্পনা দেখাতে পারেনি। এ কারণেই আমরা শুরু থেকেই জানিয়ে দিয়েছি যে, যতক্ষণ এই যুদ্ধ চলবে, জার্মানি এতে অংশ নেবে না।”
এদিকে জার্মান সরকারের পক্ষ থেকে আবারও নিশ্চিত করা হয়েছে যে, মধ্যপ্রাচ্যে শুরু হওয়া এই যুদ্ধের সাথে ন্যাটো (NATO)-র কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যান্য নেতারাও এ সংঘাত থেকে দূরত্ব বজায় রাখার ইঙ্গিত দিয়েছেন। সূত্র: আল জাজিরা
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

