মাত্র ১১ বছর বয়সেই অসাধারণ এক কীর্তি গড়েছে মিসরের মেয়ে মিয়ার মুহাম্মদ রাগাব ওসমান। ৭০টির বেশি বই পড়ে সেগুলোর বিষয়বস্তু আত্মস্থ করে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ আরবি ভাষার বই পড়ার প্রতিযোগিতা ‘আরব রিডিং চ্যালেঞ্জ’-এর দশম আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে সে। প্রায় ৪ কোটি ২৮ লাখ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় সেরার স্বীকৃতি পেয়েছে মিসরের এই খুদে শিক্ষার্থী।
বিজয়ী হিসেবে মিয়ার পেয়েছে ৫ লাখ দিরহাম পুরস্কার, বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ১ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। তবে পুরস্কারের বাইরেও তাকে ঘিরে আলোচনার জন্ম দিয়েছে দুবাইয়ের শাসক ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রধানমন্ত্রী শেখ মুহাম্মদ বিন রাশিদ আল মাকতুমের একটি বিশেষ উপহার।
দুবাই ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে প্রতিযোগিতার দশম আসরের চূড়ান্ত পর্ব ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে মিয়ারকে বিজয়ী ঘোষণা করে তার হাতে পুরস্কার তুলে দেন শেখ মুহাম্মদ বিন রাশিদ আল মাকতুম। একপর্যায়ে তিনি নিজের পরিধেয় পোশাকে লাগানো ব্যাজ খুলে মিয়ারকে পরিয়ে দেন। পাশাপাশি স্নেহভরে তার মাথায় চুমু দিয়ে তাকে অভিনন্দন জানান। এই মুহূর্তটি অনুষ্ঠানের অন্যতম আবেগঘন দৃশ্যে পরিণত হয়।
মিসরের কাফর এল শেখ প্রদেশের বাসিন্দা মিয়ার। পঞ্চম শ্রেণির এই শিক্ষার্থীর বই পড়ার প্রতি আগ্রহ ছোটবেলা থেকেই। প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে সে ৭০টির বেশি বই পড়েছে। বইগুলোর বিষয়বস্তু নিয়ে নিজের উপলব্ধি ও সারসংক্ষেপ তুলে ধরার পাশাপাশি আরবি ভাষায় নিজের চিন্তাভাবনা প্রকাশের দক্ষতাও দেখিয়েছে।
প্রতিযোগিতায় মিয়ার জানিয়েছে, পুরস্কারের অর্থ দিয়ে নিজের স্কুলে একটি ছোট গ্রন্থাগার গড়ে তুলতে চায় সে। সেখানে তার সহপাঠীসহ অন্য শিক্ষার্থীরা বই পড়ার সুযোগ পাবে। তার ভাষায়, বই মানুষের চিন্তাভাবনাকে সমৃদ্ধ করে এবং ব্যক্তিত্ব গঠনে ভূমিকা রাখে।
এবারের দশম আসরে রেকর্ডসংখ্যক ৬০টি দেশের ৪ কোটি ২৮ লাখ ৬ হাজার ৪২৮ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। প্রতিযোগিতার আয়োজন করে মুহাম্মদ বিন রাশিদ আল মাকতুম গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভস। প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বে বিভিন্ন দেশের সেরা শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। সেখানে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে ফিলিস্তিনের গাজাল রাশাদ আদেল তাইয়েম। তৃতীয় হয় সৌদি আরবের রায়ান বিন আদিব আল জাকারি।
এদিকে মিয়ার এই সাফল্যে মিসরেও ব্যাপক সাড়া পড়ে। গত ৪ নভেম্বর দেশটির প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি তাকে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে আমন্ত্রণ জানান। এ সময় তার হাতে দ্বিতীয় শ্রেণির ‘মেডেল অব এক্সিলেন্স’ তুলে দেওয়া হয়। মিয়ার পরিবার ও শিক্ষকদেরও অভিনন্দন জানান তিনি।
মাত্র ১১ বছর বয়সে মিয়ার এই অর্জন শুধু তার ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং শিশু-কিশোরদের মধ্যে বই পড়ার আগ্রহ তৈরির ক্ষেত্রেও অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।
সূত্র: দুবাই সরকারের সরকারি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি, গালফ নিউজ, দ্য ন্যাশনাল ও মিসরের প্রেসিডেন্টের কার্যালয়
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


