মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও নৌ অবরোধের কারণে ইরান ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়েছে। এর প্রভাব নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেও উদ্বেগ বাড়ছে। খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ার পাশাপাশি বিদেশি মুদ্রার প্রাপ্যতাও কঠিন হয়ে উঠছে।
তবে তেহরানের সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের গবেষক আলী আকবর দারেইনি মনে করেন, এসব পদক্ষেপ ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করলেও দেশটিকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করার সম্ভাবনা কম। তাঁর মতে, কয়েক দশকের অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলা করতে করতে ইরান পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করেছে।
আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দারেইনি বলেন, ওয়াশিংটনের কৌশলের মূল ভিত্তি হলো—অর্থনৈতিক ক্ষতির মাত্রা বাড়াতে থাকলে একসময় তেহরান ছাড় দিতে বাধ্য হবে। কিন্তু ইরান তার পরিবর্তে সামরিক ও অসামরিক বিভিন্ন পদক্ষেপের সমন্বয়ে পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে চাপ সৃষ্টি এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে মিত্র গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন দেওয়া।
দারেইনির ভাষায়, ‘ইরানের কৌশল অসম যুদ্ধের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।’ তার মতে, প্রচলিত সামরিক শক্তির বিচারে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি মোকাবিলা করা ইরানের পক্ষে সম্ভব নয়। তাই তেহরানকে ক্রমাগত নতুন কৌশল গ্রহণের পাশাপাশি সংঘাতের ভৌগোলিক পরিসরও বাড়াতে হবে।
তিনি বলেন, সংঘাত ইতোমধ্যে ইরান ও পারস্য উপসাগরের সীমানা ছাড়িয়ে লেভান্ত ও লোহিত সাগর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। ভবিষ্যতে এর পরিধি আরো বাড়তে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
ইরানের বর্তমান অবস্থানকে তিনি ‘প্রতিরক্ষামূলক নয়, বরং আক্রমণাত্মক সামরিক কৌশল’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তার মতে, তেহরান এমন পরিকল্পনা তৈরি করছে যার লক্ষ্য হলো মার্কিন চাপ অব্যাহত রাখার খরচ বাড়িয়ে দেওয়া এবং ওয়াশিংটনের অবরোধ কৌশলকে ব্যর্থ করে দেওয়া।
সূত্র: আল জাজিরা
আরএ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


