বিবিসির বিশ্লেষণ

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ নিয়ে উভয়সংকটে সৌদি

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ নিয়ে উভয়সংকটে সৌদি
ছবি: বিবিসি

ইরান যুদ্ধ নিয়ে কঠিন উভয়সংকটে পড়েছে সৌদি আরব। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। এরপর থেকেই মূলত এই সংঘাত থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করছে সৌদি আরব। তবে সম্প্রতি তিন দিক থেকে আক্রমণের শিকার হয়ে সংঘাত থেকে দূরে থাকাও কঠিন হয়ে পড়েছে তাদের জন্য।

সাম্প্রতিক ড্রোন হামলার পর এবার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথভাবে ইরান সমর্থিত ইরাকি মিলিশিয়াদের ওপর হামলা চালিয়েছে রিয়াদ।

বিজ্ঞাপন

বর্তমানে সৌদি আরবের সামনে বড় প্রশ্ন—পাল্টা হামলা চালিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে, নাকি উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হবে?

এই সংঘাতে একদিকে রয়েছে ইরান, আইআরজিসি, ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী, ইরাকের পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস (পিএমএফ) ও লেবাননের হিজবুল্লাহ। অন্যদিকে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জোট, যেখানে উপসাগরীয় কয়েকটি আরব দেশ ও জর্ডান বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করছে।

সৌদি আরব সরাসরি যুদ্ধে জড়াতে চায় না। কারণ যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ভিশন ২০৩০ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য অর্থনীতিকে তেলের ওপর নির্ভরশীলতা থেকে বের করে আনা এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করা। দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত সেই পরিকল্পনাকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।

ইরান হরমুজ প্রণালিতে চলাচলে বাধা দেওয়ার পর সৌদি আরব বিকল্প পথে লোহিতসাগর হয়ে তেল রপ্তানি শুরু করে। তবে সম্প্রতি ইয়েমেনে সৌদি হামলার জবাবে হুথিরা সৌদি বিমানবন্দর ও লোহিতসাগরে জাহাজ চলাচল লক্ষ্য করে হামলা চালাতে শুরু করেছে। এতে বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহনও ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

সাত বছর যুদ্ধ করেও হুথিদের পরাজিত করতে পারেনি সৌদি আরব। ২০২২ সালের যুদ্ধবিরতির পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও এখন আবার দক্ষিণে হুথি ও উত্তরে ইরাকভিত্তিক মিলিশিয়াদের হামলার হুমকির মুখে পড়েছে দেশটি। এতে সৌদি আরবের উচ্চাভিলাষী ভিশন ২০৩০ বাস্তবায়ন নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন