যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল কখন, কীভাবে জানা যাবে

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল কখন, কীভাবে জানা যাবে
ছবি: রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল জানতে মঙ্গলবার রাত থেকেই নজর রাখবেন দেশটির ভোটাররা। বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও এ নির্বাচন নিয়ে আগ্রহ রয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এ নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসন এবং সিনেটের ১০০ আসনের মধ্যে ৩৫টিতে ভোট হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির কাছ থেকে উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নিতে চায় ডেমোক্রেটিক পার্টি।

বিজ্ঞাপন

নির্বাচনের ফল কখন জানা যাবে, কোন অঙ্গরাজ্যে ভোট গণনায় দেরি হতে পারে এবং ফল নিয়ে বিরোধ দেখা দিলে কী ঘটবে—এসব প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে আলজাজিরা।

প্রথম ফল কখন জানা যাবে?

মঙ্গলবার ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরপরই প্রাথমিক ফল আসতে শুরু করবে। পূর্ব উপকূলের কয়েকটি এলাকায় বাংলাদেশ সময় বুধবার ভোর ৫টায় ভোটগ্রহণ শেষ হবে। এরপরই বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে ফল আসতে থাকবে। তবে কয়েকটি আসনের ফল বুধবার বা তার পরও জানা যেতে পারে। কারণ, সব অঙ্গরাজ্যে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়া এবং নির্বাচন কর্মকর্তাদের ভোট গণনা ও ফল প্রকাশের প্রক্রিয়া একসঙ্গে শেষ হবে না।

প্রাথমিক ফল প্রকাশের অর্থ অবশ্য কোনো প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করা নয়। নির্বাচন কর্মকর্তারা ব্যালট গণনা করে ফল প্রকাশ করেন। এরপর অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) মতো সংবাদমাধ্যম সেই ফল বিশ্লেষণ করে কোনো আসনে বিজয়ী নির্ধারণ করে।

প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র হলে কোনো আসনে বিজয়ী ঘোষণা করতে কয়েক ঘণ্টা, এমনকি কয়েক দিনও লাগতে পারে। ফলে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ রিপাবলিকানদের হাতে থাকবে, নাকি ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদ বা সিনেটের এক কিংবা উভয় কক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে, তা নিশ্চিত হতে কয়েক দিন অপেক্ষা করতে হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রে কখন ভোটগ্রহণ শেষ হবে?

প্রথম ভোটকেন্দ্র বন্ধ হবে ইন্ডিয়ানা ও কেনটাকির কয়েকটি এলাকায়। এরপর বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে পর্যায়ক্রমে ভোটগ্রহণ শেষ হবে। নিচে বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী কোন এলাকায় কখন ভোট গ্রহণ শেষ হবে তা উল্লেখ করা হলো

ভোর ৫টা

ইন্ডিয়ানা ও কেনটাকির কয়েকটি এলাকায়।

সকাল ৬টা

ফ্লোরিডা, জর্জিয়া, সাউথ ক্যারোলাইনা, ভারমন্ট ও ভার্জিনিয়ার অধিকাংশ এলাকায়। এ সময় ইন্ডিয়ানা ও কেনটাকির বাকি অংশ এবং নিউ হ্যাম্পশায়ারের অধিকাংশ এলাকায়ও ভোটগ্রহণ শেষ হবে।

সকাল ৬টা ৩০ মিনিট

নর্থ ক্যারোলাইনা, ওহাইও ও ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া।

সকাল ৭টা

আলাবামা, কানেকটিকাট, ডেলাওয়্যার, ইলিনয়, মেইন, মেরিল্যান্ড, ম্যাসাচুসেটস, মিসিসিপি, মিসৌরি, নিউ হ্যাম্পশায়ারের বাকি অংশ, নিউ জার্সি, ওকলাহোমা, পেনসিলভানিয়া, রোড আইল্যান্ড, টেনেসি ও ওয়াশিংটন ডিসি। এ সময় ফ্লোরিডা, কানসাস, মিশিগান, নর্থ ডাকোটা, সাউথ ডাকোটা ও টেক্সাসের কয়েকটি এলাকাতেও ভোটগ্রহণ শেষ হবে।

সকাল ৭টা ৩০ মিনিট

আরকানসাস।

সকাল ৮টা

অ্যারিজোনা, কলোরাডো, আইওয়া, লুইজিয়ানা, মিনেসোটা, নেব্রাস্কা, নিউ মেক্সিকো, নিউইয়র্ক, উইসকনসিন ও ওয়াইওমিং। এ সময় কানসাস, মিশিগান, নর্থ ডাকোটা, সাউথ ডাকোটা ও টেক্সাসের বাকি অংশেও ভোট গ্রহণ শেষ হবে।

সকাল ৯টা

মন্টানা, নেভাদা, ইউটা এবং আইডাহো ও ওরেগনের কয়েকটি এলাকায়।

সকাল ১০টা

ক্যালিফোর্নিয়া ও ওয়াশিংটন। এ সময় আইডাহো ও ওরেগনের বাকি অংশেও ভোটগ্রহণ শেষ হবে।

বেলা ১১টা

হাওয়াই ও আলাস্কার অধিকাংশ এলাকায়।

দুপুর ১২টা

আলাস্কার বাকি অংশে, পশ্চিম আলেউশিয়ান দ্বীপপুঞ্জসহ।

যেসব অঙ্গরাজ্যে ভোট গণনায় দেরি হতে পারে

আলাস্কা

এ অঙ্গরাজ্যে র‌্যাঙ্কড-চয়েস ভোটিং পদ্ধতি চালু রয়েছে। কোনো প্রার্থী ৫০ শতাংশের বেশি ভোট না পেলে বিজয়ী নির্ধারণে অতিরিক্ত ধাপে ভোট গণনা করতে হয়। সরাসরি আগাম ও নির্বাচনের দিনের ভোটের ফল নির্বাচনের পরই প্রকাশ করা হলেও ডাকযোগে আসা ব্যালটের ফল পরবর্তী দিনগুলোতে জানানো হয়। ২০২৪ সালের নির্বাচনে পরদিন সকাল পর্যন্ত প্রায় ৭৫ শতাংশ ভোট গণনা হয়েছিল। বাকি ভোটের ফল প্রকাশ করা হয় পরবর্তী কয়েক দিনে।

ক্যালিফোর্নিয়া

এ অঙ্গরাজ্যে মূলত ডাকযোগে ভোট গ্রহণ করা হয়। ভোট শেষ হওয়ার কয়েক দিন পরও বিপুলসংখ্যক ব্যালট এসে পৌঁছায়। এসব ব্যালট যাচাই করে গণনা করতে হয়। ফলে প্রতিনিধি পরিষদের কোনো আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র হলে ফল চূড়ান্ত হতে কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহ লাগতে পারে।

অ্যারিজোনা

কয়েকটি কাউন্টিতে ভোটাররা নির্বাচনের দিন ডাকযোগে পাঠানোর ব্যালট জমা দেন। গণনার আগে এসব ব্যালটে ভোটারের স্বাক্ষর যাচাই করতে হয়। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনে এ প্রক্রিয়ায় ফল প্রকাশে কয়েক দিন দেরি হতে পারে।

নেভাদা

এ অঙ্গরাজ্যে সব নিবন্ধিত ভোটারের কাছে ডাকযোগে ব্যালট পাঠানো হয়। নির্বাচনের দিন ডাকমোহর দেওয়া ব্যালটও চার দিন পর পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। স্বাক্ষরসংক্রান্ত সমস্যা সংশোধনের জন্য ভোটাররা নির্বাচনের পর ছয় দিন সময় পান। এসব কারণে ফল প্রকাশ পরবর্তী সপ্তাহ পর্যন্ত গড়াতে পারে।

মেইন

আলাস্কার মতো মেইন অঙ্গরাজ্যেও র‌্যাঙ্কড-চয়েস ভোটিং চালু রয়েছে। দুই প্রার্থীর কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতায় একজন ৫০ শতাংশের বেশি ভোট না পেলে ব্যালটগুলো আরও গণনার জন্য রাজ্যের রাজধানী অগাস্টায় পাঠাতে হয়। এতে চূড়ান্ত ফল প্রকাশে দেরি হতে পারে।

ওয়াশিংটন

এ অঙ্গরাজ্যে ডাকযোগে ভোট গ্রহণ করা হয়। নির্বাচনের দিন ডাকমোহর দেওয়া ব্যালট পরবর্তী দিনগুলোতে গণনা করা যায়। ফলে ফল প্রকাশে দেরি হতে পারে।

যেসব অঙ্গরাজ্যে দ্রুত ফল আসতে পারে

কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে ভোট গণনা ও ফল প্রকাশের প্রক্রিয়া তুলনামূলক দ্রুত হয়। আগের নির্বাচনের অভিজ্ঞতা থেকে এবারও এসব রাজ্যে দ্রুত ফল আসার আশা করা হচ্ছে।

ফ্লোরিডা

এ অঙ্গরাজ্যে সাধারণত দ্রুত ভোট গণনা হয়। ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে বাংলাদেশ সময় বুধবার সকাল ৯টা ৫১ মিনিটে প্রায় ৯৯ শতাংশ ভোট গণনা হয়েছিল বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এপি।

ওহাইও

আগাম ও অনুপস্থিত ভোটের অধিকাংশ ফল প্রথম দফাতেই প্রকাশ করা হয়। ২০২৪ সালের নির্বাচনে বাংলাদেশ সময় বুধবার সকাল ৬টা ৩৬ মিনিটে প্রথম ফল প্রকাশিত হয়। ভোটকেন্দ্র বন্ধ হওয়ার মাত্র ছয় মিনিট পর ফল আসতে শুরু করে। বাংলাদেশ সময় বুধবার সকাল ১০টা ৩ মিনিটে ৯০ শতাংশ ভোটের ফল প্রকাশ করা হয়েছিল।

নর্থ ক্যারোলাইনা

পূর্ব উপকূলের এ অঙ্গরাজ্যেও ডাকযোগে আসা ভোটের অধিকাংশ ফল রাতের প্রথম দফাতেই প্রকাশিত হওয়ার কথা। ২০২৪ সালে স্থানীয় সময় রাত ১১টা ৩৬ মিনিটের মধ্যে (বাংলাদেশ সময় বুধবার সকাল ১০টা ৩৬ মিনিট) ৯০ শতাংশ ভোটের ফল প্রকাশ করা হয়েছিল।

পেনসিলভানিয়া

২০২৪ সালে ভোটকেন্দ্র বন্ধ হওয়ার সময়, স্থানীয় রাত ৮টায় (বাংলাদেশ সময় বুধবার সকাল ৭টা), প্রথম ফল প্রকাশিত হয়। রাত ১০টা ১২ মিনিটের মধ্যে (বাংলাদেশ সময় বুধবার সকাল ৯টা ১২ মিনিট) অর্ধেক ভোটের ফল জানা যায়। পরদিন রাত ১২টা ৪৮ মিনিটের মধ্যে (বাংলাদেশ সময় বুধবার বেলা ১১টা ৪৮ মিনিট) ৯০ শতাংশ ভোটের ফল প্রকাশ করা হয়েছিল।

উইসকনসিন

২০২৪ সালের নির্বাচনে ৬ নভেম্বর স্থানীয় সময় রাত ২টা ২২ মিনিটের মধ্যে (বাংলাদেশ সময় বুধবার সকাল ৯টা ২২ মিনিট) এ অঙ্গরাজ্যের ৯০ শতাংশ ভোটের ফল প্রকাশ করা হয়েছিল।

বিজয়ী কখন জানা যাবে?

নির্বাচনের রাতেই অনেক আসনে বিজয়ী ঘোষণা করা সম্ভব হতে পারে। তবে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে যাচ্ছে, তা জানতে কয়েক দিন অপেক্ষা করতে হতে পারে। এই দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণই ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সির শেষ দুই বছরের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ।

উদাহরণ হিসেবে, আলাস্কার সিনেট নির্বাচনে র‌্যাঙ্কড-চয়েস পদ্ধতিতে ভোট গণনার প্রয়োজন হলে পরবর্তী ধাপের গণনা ১৮ নভেম্বর হওয়ার কথা।

সব নির্বাচনি ফল জানার কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। প্রতিদ্বন্দ্বিতা কম এমন আসনে সব ব্যালট গণনার আগেই সংবাদমাধ্যম বিজয়ী ঘোষণা করতে পারে। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল প্রত্যয়ন করতে পরে সময় লাগতে পারে। তাই দ্রুত ভোটের ফল প্রকাশ হলেই দ্রুত বিজয়ী ঘোষণা করা যাবে, এমন নয়।

২০২৪ সালের নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে যাচ্ছে, তা নিশ্চিত হতে আট দিন লেগেছিল।

ফল নিয়ে বিরোধ হলে কী হবে?

কোনো আসনে ভোটের ব্যবধান খুব কম হলে রাজ্যের আইন অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুনর্গণনা হতে পারে। কোনো প্রার্থী আবেদন করলেও পুনর্গণনা হতে পারে।

প্রার্থীরা আদালতেও ফল চ্যালেঞ্জ করতে পারেন। এতে চূড়ান্ত ফল প্রকাশে আরও দেরি হতে পারে।

মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল মেনে নেওয়া হবে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ট্রাম্প। চূড়ান্ত ফল মেনে নেবেন কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি মেনে নেব, যদি নির্বাচন সৎভাবে হয়।’

তবে কংগ্রেসের নির্বাচনি ফল পছন্দ না হলেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট তা বাতিল করতে পারেন না। নির্বাচন পরিচালনা ও ফল প্রত্যয়নের দায়িত্ব পৃথক অঙ্গরাজ্যের। আইনি চ্যালেঞ্জও নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে নিষ্পত্তি করতে হয়।

ডেমোক্রেটিক পার্টির কৌশলবিদ মালি স্মিথ আল-জাজিরাকে বলেন, ‘সব অঙ্গরাজ্যই নির্বাচন পরিচালনা করে। আদালতও মেনে নেয় যে নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব অঙ্গরাজ্যগুলোর।’

যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী, প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিজ নিজ সদস্যদের নির্বাচনসংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির চূড়ান্ত ক্ষমতা সংশ্লিষ্ট কক্ষের হাতে।

বিরোধের ধরন অনুযায়ী পুনর্গণনা ও আইনি চ্যালেঞ্জ নিষ্পত্তিতে কয়েক দিন, কয়েক সপ্তাহ কিংবা আরও বেশি সময় লাগতে পারে।

এএম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন