আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

ইরান যুদ্ধ

ট্রাম্পের তীব্র সমালোচনায় সিনেটের ডেমোক্রেট নেতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ট্রাম্পের তীব্র সমালোচনায় সিনেটের ডেমোক্রেট নেতা

ইরানে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের নামে দেশটির ওপর হামলা চালিয়েছে আমেরিকা ও ইসরাইল। আমেরিকার এই অভিযান নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তীব্র সমালোচনা করেছেন দেশটির সিনেটের সংখ্যালঘু ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার। একই সঙ্গে যুদ্ধ নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগও তোলেন তিনি। এবং জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের প্রকাশ্যে এ নিয়ে সাক্ষ্য দেওয়ার দাবি জানান।

১০ মার্চ সিনেটে দেওয়া বক্তব্যে শুমার এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান যুদ্ধে দিন দিন আরো বিভ্রান্তিকর এবং পরস্পরবিরোধী হয়ে উঠছেন।

বিজ্ঞাপন

তার এই মন্তব্য এমন এক সময় আসে, যখন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সতর্ক করে বলেছেন, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র অংশ হিসেবে তারা ইরানের ভেতরে সবচেয়ে তীব্র হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

শুমার বলেন, সোমবার ট্রাম্প এমন মন্তব্য করেছিলেন যাতে মনে হয়েছে ইরানে অভিযান শেষের দিকে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, আসলে কোনটি সত্য? যুদ্ধ কি শেষের পথে, নাকি আমরা সবচেয়ে ভয়াবহ লড়াইয়ের মুখোমুখি হতে যাচ্ছি? ট্রাম্প ও তার সহযোগীরা কীভাবে ১২ ঘণ্টার মধ্যেই এই যুদ্ধ নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিতে পারেন? এটি অবিশ্বাস্য।

শুমার অভিযোগ করেন, ট্রাম্প অনেক সময় যথেষ্ট তথ্য না জেনেই তাৎক্ষণিক মন্তব্য করেন, যা পরদিন তার নিজের বক্তব্যেই খণ্ডিত হয়ে যায়।

এদিকে ট্রাম্প দাবি করেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলার জন্য ইরানের টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র দায়ী। যে হামলায় ১৬৮ মেয়েশিশুসহ ১৭৫ জন বেসামরিক মানুষ নিহত হয়। ডেমোক্র্যাট নেতা ট্রাম্পের এই মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ট্রাম্পের এই দাবি হাস্যকর।

অন্যদিকে, ইরানের অস্ত্রভান্ডারে টমাহক ক্রুজ মিসাইল রয়েছে ট্রাম্পের এমন দাবির চ্যালেঞ্জ করেন চাক শুমার। ট্রাম্পের এই দাবিকে অযৌক্তিক বলছেন তিনি।

শুমার ওই হামলা এবং বেসামরিক হতাহতের ঘটনায় ‘পূর্ণাঙ্গ, স্বাধীন ও স্বচ্ছ’ তদন্তের দাবি জানান। তিনি আরো সতর্ক করেন যে যুদ্ধ ইতোমধ্যে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলছে, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনার কারণে।

শুমার বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প এদেশের অর্থনীতিতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছেন। তিনি এবং তার কয়েকজন ডেমোক্র্যাট সহকর্মী প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কংগ্রেসের সামনে প্রকাশ্যে সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করার দাবি জানাবেন।

বিশেষ করে তিনি প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে শুনানিতে ডাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে কেন আমাদের সেনারা যুদ্ধ করে প্রাণ দিচ্ছে? এ বিষয়ে প্রশাসনকে কংগ্রেসের সামনে প্রকাশ্যে ব্যাখ্যা দিতে হবে।’

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন