ফিলিস্তিনের পক্ষে এবং প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের সমর্থনে বিক্ষোভে অংশ নেওয়ায় ৯৪ বছর বয়সি ইহুদি মানবাধিকার আইনজীবী মার্গারেট ওয়েনকে গ্রেপ্তার করেছে ব্রিটিশ পুলিশ। লিভারপুলে লেবার পার্টির সম্মেলনের বাইরে আয়োজিত এক বিক্ষোভ থেকে তাকে আটক করা হয়। তিনি প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের সমর্থনে একটি প্ল্যাকার্ড বহন করছিলেন।
মার্গারেট ওয়েন একজন প্রবীণ মানবাধিকার আইনজীবী। ২০১৩ সালে নারীদের মানবাধিকার, বিশেষ করে বিধবাদের অধিকার নিয়ে কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি ব্রিটিশ সরকারের কাছ থেকে ওবিই সম্মাননা পান। তিনি ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ডের প্রয়াত মা ম্যারিয়ন কোজাকের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। কোজাক ছিলেন হলোকাস্ট থেকে বেঁচে যাওয়া একজন ইহুদি এবং ফিলিস্তিনিদের অধিকারের প্রতি সহানুভূতিশীল ছিলেন বলে ওয়েন জানিয়েছেন।
ওয়েন জানিয়েছেন, প্যালেস্টাইন অ্যাকশনকে সন্ত্রাসবাদ আইনের আওতায় নিষিদ্ধ করার পর তিনি কয়েক মাস ধরে সংগঠনটির সমর্থনে বিক্ষোভ করে আসছিলেন। লন্ডনে প্রায় এক ডজন বিক্ষোভে তিনি ‘আমি গণহত্যার বিরোধিতা করি, আমি প্যালেস্টাইন অ্যাকশনকে সমর্থন করি’ লেখা প্ল্যাকার্ড বহন করেছেন। এমনকি নিজের বাড়ির জানালায়ও একই বক্তব্যের একটি পোস্টার লাগিয়েছিলেন। তিনি পুলিশকে নিজের ছবি পাঠিয়ে গ্রেপ্তার করার আহ্বানও জানিয়েছিলেন।
লিভারপুলের বিক্ষোভে শেষ পর্যন্ত তাকে আটক করা হয়। মার্সিসাইড পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ওই বিক্ষোভে নিষিদ্ধ সংগঠনকে সমর্থনকারী কোনো লেখা বা সামগ্রী বহনের সন্দেহে ৮২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের জামিনে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আরও ৭৯ জনকে সমনের জন্য রিপোর্ট করা হয়েছে।
প্যালেস্টাইন অ্যাকশন ২০২০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। সংগঠনটি ইসরাইলি অস্ত্র প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযান চালিয়েছে। ব্রিটিশ সরকার ২০২৫ সালের জুলাইয়ে সংগঠনটিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে নিষিদ্ধ করে। এরপর সংগঠনটির সমর্থনে প্রকাশ্যে বক্তব্য বা প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করাও আইনি ঝুঁকির মধ্যে পড়ে।
এদিকে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড সম্প্রতি বলেছেন, তিনি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের অধিকারকে সমর্থন করেন। প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের সমর্থনে বিক্ষোভ করতে গিয়ে বয়স্ক ব্যক্তি ও ধর্মীয় নেতাদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে তিনি বলেন, তাদের অপরাধী বানানো কারও উদ্দেশ্য ছিল বলে তিনি মনে করেন না। একই সঙ্গে তিনি জানান, প্যালেস্টাইন অ্যাকশনকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়ে একটি মামলা সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে এবং আদালতের সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করা উচিত।
মিলিব্যান্ডের সঙ্গে ওয়েনের ব্যক্তিগত সম্পর্কও রয়েছে। তিনি মিলিব্যান্ডের মায়ের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন এবং তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় অংশ নিয়েছিলেন। ওয়েন বলেছেন, মিলিব্যান্ডের মা ফিলিস্তিনিদের দুর্দশা এবং ১৯৪৮ সালের নাকবার বিষয়টি অনেক আগেই উপলব্ধি করেছিলেন।
ব্রিটেনে প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের সমর্থনে বিক্ষোভ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও তীব্র হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য, শান্তিপূর্ণভাবে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনের জন্য গ্রেপ্তার করা মতপ্রকাশ ও প্রতিবাদের অধিকারের ওপর প্রভাব ফেলছে। অন্যদিকে ব্রিটিশ পুলিশ বলছে, শান্তিপূর্ণ ও আইনসম্মত বিক্ষোভের অধিকারকে তারা সম্মান করে; তবে কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
লিভারপুলের ওই বিক্ষোভে ৯৪ বছর বয়সি মার্গারেট ওয়েনের গ্রেপ্তার ব্রিটেনে ফিলিস্তিনের পক্ষে প্রতিবাদ, সন্ত্রাসবিরোধী আইন এবং শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের অধিকার নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে।
তথ্যসূত্র: মিডল ইস্ট আই, আল-জাজিরা ও দ্য গার্ডিয়ান
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


