পাকিস্তানের পেশোয়ারে অবস্থিত নিজেদের কনস্যুলেটটি স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ইনডিপেনডেন্ট’ বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, পেশোয়ারের এই মিশন আফগান সীমান্তের সবচেয়ে কাছের মার্কিন কূটনৈতিক কার্যালয়। ২০০১ সালে আফগানিস্তানে মার্কিন অভিযানের সময় থেকেই কনস্যুলেটটি পাকিস্তানে মার্কিন কূটনৈতিক তৎপরতার অন্যতম কেন্দ্র।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর কংগ্রেসকে কনস্যুলেটটি বন্ধের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে বলেছে, এর মাধ্যমে বছরে প্রায় ৭৫ লাখ ডলার সাশ্রয় হবে। এতে পাকিস্তানে মার্কিন জাতীয় স্বার্থ ক্ষুণ্ন হবে না বলেও দাবি করা হয়েছে। বার্তা সংস্থা এপি বুধবার এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপনের অনুলিপি হাতে পেয়েছে।
‘দ্য ইনডিপেনডেন্ট’ জানায়, ট্রাম্প প্রশাসন প্রায় সব ফেডারেল সংস্থার আকার ছোট করার যে নীতি গ্রহণ করেছে, তার অংশ হিসেবে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে এই সিদ্ধান্ত বিবেচনাধীন ছিল। এর সঙ্গে বর্তমান ইরান যুদ্ধের কোনো সম্পর্ক নেই।
তবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর পাকিস্তানের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। করাচির মার্কিন কনস্যুলেটে সহিংসতার ঘটনায় ১১ জন নিহত হওয়ার পর সেখানকার কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছিল।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, পেশোয়ার কনসুলেট বন্ধ করতে ৩ মিলিয়ন (৩০ লাখ) ডলার খরচ হবে। এর অর্ধেকেরও বেশি ব্যয় হবে অস্থায়ী অফিস হিসেবে ব্যবহৃত সাঁজোয়া ট্রেলারগুলো স্থানান্তরের পেছনে।
বাকি অর্থ আসবাবপত্র, সরঞ্জাম এবং মোটরযান বহর রাজধানী ইসলামাবাদে মার্কিন দূতাবাস এবং করাচি ও লাহোরের কনস্যুলেটে সরিয়ে নিতে ব্যয় হবে।
আফগান সীমান্ত ও কাবুলের কাছাকাছি হওয়ায় এই কনসুলেটটি স্থলপথে আফগানিস্তান ভ্রমণের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে কাজ করত। তাছাড়া, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় পাকিস্তানের মার্কিন নাগরিক ও সাহায্যপ্রার্থী আফগানদের যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম ছিল এই কার্যালয়।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এখন থেকে এই এলাকার মার্কিন নাগরিকদের কনস্যুলেট সেবা প্রায় ১৮৪ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ইসলামাবাদের দূতাবাস থেকে প্রদান করা হবে।
প্রজ্ঞাপনে দাবি করা হয়েছে, সব কাজ ইসলামাবাদ দূতাবাস থেকে সম্পন্ন হওয়ায় এই কনস্যুলেট বন্ধের সিদ্ধান্তে মিশনের সক্ষমতা বা বিদেশি সহায়তা কার্যক্রমের তদারকিতে কোনো বিরূপ প্রভাব পড়বে না।
চলতি মাসের শুরুতে নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে করাচি ও লাহোর কনস্যুলেটের জরুরি নন, এমন কর্মকর্তা ও তাদের পরিবারকে পাকিস্তান ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।
পরবর্তীতে এক ভ্রমণ নির্দেশিকায় পেশোয়ার কনসুলেটের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করার কথা জানানো হয়েছিল, যা এখন স্থায়ী রূপ নিল।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

