আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

তৃতীয় দিনের মতো জ্বলছে চিলি, সম্পূর্ণ শহর ভস্মীভূত

আমার দেশ অনলাইন

তৃতীয় দিনের মতো জ্বলছে চিলি, সম্পূর্ণ শহর ভস্মীভূত

দক্ষিণ চিলিতে তৃতীয় দিনের মতো ভয়াবহ দাবানল অব্যাহত রয়েছে। উষ্ণ তাপমাত্রা ও প্রবল বাতাসের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। কর্মকর্তাদের মতে, এ পর্যন্ত অন্তত ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং বেশ কয়েকটি শহর কার্যত ধ্বংস হয়ে গেছে।

বিজ্ঞাপন

শনিবার রাজধানী সান্তিয়াগো থেকে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার দক্ষিণে নুবল ও বায়োবায়ো অঞ্চলে দাবানলের সূত্রপাত হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন যুক্তরাষ্ট্রের ডেট্রয়েট শহরের সমান বিস্তৃত এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। এতে প্রায় এক হাজার বাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস বা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

চিলির প্রেসিডেন্ট গ্যাব্রিয়েল বরিক সোমবার জানান, কিছু এলাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও বেশ কয়েকটি স্থানে পরিস্থিতি এখনো “খুব সক্রিয় ও বিপজ্জনক”। পাশাপাশি বায়োবিও সংলগ্ন আরাউকানিয়া অঞ্চলেও নতুন করে আগুন ছড়িয়ে পড়ার খবর পাওয়া গেছে।

নুবলে ও বায়োবায়ো—উভয় অঞ্চলকে দুর্যোগ এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে। সেখানে সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। পুড়ে যাওয়া গাড়ি, গলিত ধাতু ও ধ্বংসপ্রাপ্ত ঘরবাড়ির ভেতর দিয়ে টহল দিচ্ছে নিরাপত্তা বাহিনী।

লিরকেন বন্দর শহরের বাসিন্দা ইয়াগোরা ভাসকেজ এএফপিকে বলেন, “এটা ছিল ভয়ংকর অভিজ্ঞতা। আগুন আমাদের পাড়ার দিকে এগিয়ে আসতে দেখে আমি ছেলেকে নিয়ে পালাই, আমার ভাই কুকুরটাকে উদ্ধার করে।” তিনি জানান, ২০১০ সালের বিধ্বংসী সুনামির পর উপকূল ছেড়ে পাহাড়ি এলাকায় বসবাস শুরু করেছিলেন। “তখন পানি এসেছিল, এবার আগুন,” বলেন তিনি।

একই রকম অভিজ্ঞতার কথা জানান ৫৩ বছর বয়সী মারেলি তোরেস। সুনামির পর উপকূল ছেড়ে আসা তাঁর দুইতলা বাড়িটি এবার আগুনে সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়েছে। তিনি বলেন, “ভূমিকম্পে অনেক ক্ষতি হয়েছিল, কিন্তু এর সঙ্গে তুলনা হয় না।”

সোমবার নুবল ও বায়োবায়ো অঞ্চলে সাড়ে তিন হাজারের বেশি দমকলকর্মী আগুন নেভানোর কাজে নিয়োজিত ছিলেন। তাপমাত্রা প্রায় ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে এলেও পরিস্থিতি এখনো গুরুতর বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারির শুষ্ক ও উষ্ণ মৌসুমে দক্ষিণ-মধ্য চিলিতে দাবানলের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সান্তিয়াগোভিত্তিক সেন্টার ফর ক্লাইমেট অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স রিসার্চের ২০২৪ সালের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে দীর্ঘস্থায়ী উষ্ণতা ও খরার কারণে এই অঞ্চলে চরম দাবানলের ঘটনা বাড়ছে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভিনা দেল মার শহরের কাছে একাধিক দাবানলে ১৩৮ জনের মৃত্যু হয়েছিল। এর আগেও ২০১৬–১৭ এবং ২০২২–২৩ মৌসুমে চিলিতে নজিরবিহীন পরিমাণ বনভূমি আগুনে পুড়ে যায়। এদিকে দক্ষিণ আমেরিকার অন্য অংশে আর্জেন্টিনার প্যাটাগোনিয়া অঞ্চলেও সাম্প্রতিক সময়ে ১৫ হাজার হেক্টরের বেশি জমি দাবানলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এসআর

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন