কেমন হবে যুক্তরাজ্যের সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের মধ্যপ্রাচ্য নীতি

আমার দেশ অনলাইন
আমার দেশ অনলাইন

কেমন হবে যুক্তরাজ্যের সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের মধ্যপ্রাচ্য নীতি
যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টির নবনির্বাচিত এমপি অ্যান্ডি বার্নহাম। ছবি: দ্য গার্ডিয়ান, দ্য নিউ আরব

যুক্তরাজ্যের মধ্যপ্রাচ্য ও ইসরাইল নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখছেন ফিলিস্তিনপন্থিরা। স্থানীয় নির্বাচনে গ্রিন পার্টির উত্থান, ১০ ডাউনিং স্ট্রিট থেকে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সম্ভাব্য বিদায় এবং ইসরাইলে সব ধরনের অস্ত্র পাঠানো বন্ধে লেবার পার্টির সদস্যদের ভেতর তৈরি হওয়া জনমতের কারণেই এমনটা ভাবা হচ্ছে।

স্টারমারের পরে যুক্তরাজ্যের সম্ভাব প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন ওয়েস স্ট্রিটিং এবং অ্যান্ডি বার্নহাম।

বিজ্ঞাপন

চলতি মাসে ‘কিং অব দ্য নর্থ’ (উত্তরের রাজা) হিসেবে পরিচিতি পাওয়া গ্রেটার ম্যানচেস্টারের লেবার পার্টির মেয়র অ্যান্ডি বার্নহাম উত্তর-পশ্চিম ইংল্যান্ডের মেকারফিল্ড আসনে উপনির্বাচনে ৫৪ দশমিক ৮০ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তিনি এখন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী স্টারমারকে পরিবর্তনের লক্ষ্যে দলের ভেতরের নেতৃত্ব নির্বাচনের লড়াই শুরু করতে পারবেন অথবা নিজে তাতে অংশ নিতে পারবেন।

জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, ৫৬ বছর বয়সি বার্নহাম লেবার পার্টির সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনীতিবিদ, যিনি দলের সদস্যদের ভোটে যেকোনো নেতৃত্ব নির্বাচনে অনায়াসে জয়ী হবেন।

অন্যদিকে, স্টারমার বর্তমানে তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের অন্যতম সর্বনিম্ন জনপ্রিয়তা নিয়ে লড়াই করছেন।

মেডিকেল এইড ফর প্যালেস্টাইনিয়ানস-এর সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, লেবার পার্টির ৮৭ শতাংশ সদস্য অবৈধ বসতিগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধের পক্ষে এবং ৭৮ শতাংশ সদস্য ইসরাইলে সম্পূর্ণ অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা চান।

অ্যান্ডি বার্নহাম তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে ইসরাইল ও ফিলিস্তিন উভয় পক্ষের প্রতিই সহনশীল নীতি বজায় রেখেছেন। গাজা যুদ্ধের শুরুর দিকে তিনি সাদিক খান ও আনাস সারওয়ারের সঙ্গে মিলে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছিলেন এবং গাজায় মানবিক সহায়তার ওপর জোর দিয়েছিলেন। গত বছরের জুলাই মাসে তিনি গাজার পরিস্থিতিকে ‘ভাষাতীত’ বর্ণনা করে সেখানকার চিকিৎসা সহায়তার জন্য তহবিল সংগ্রহের আহ্বান জানান।

তবে বার্নহাম আন্তর্জাতিক আইন মেনে ইসরাইলের লক্ষ্যভিত্তিক অভিযানের অধিকারকে সমর্থন করেছেন। ২০১৫ সাল থেকে তিনি ‘লেবার ফ্রেন্ডস অব ইসরাইল’ গ্রুপের সদস্য বা সমর্থক হিসেবে যুক্ত আছেন।

ফিলিস্তিনপন্থি রাজনীতিক জারা সুলতানা বার্নহামকে ‘জায়নিস্ট’ বা ইহুদিবাদী হিসেবে আখ্যা দিয়ে তার সমালোচনা করেছেন। কারণ বার্নহাম বয়কট আন্দোলনকে (বিডিএস) ‘বিদ্বেষপূর্ণ’ এবং বেলফোর ঘোষণাকে ‘ব্রিটিশ মূল্যবোধের প্রতিফলন’ বলেছিলেন।

অন্যদিকে, ২০১২ ও ২০১১ সালে জাতিসংঘে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার ব্রিটিশ প্রচেষ্টাকে সমর্থন করেছিলেন বার্নহাম। ২০১২ সালে তিনি অধিকৃত পশ্চিম তীরও সফর করেন।

এখন পর্যন্ত লেবার পার্টি সরকারের সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ ছিল ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ইসরাইলে আংশিক অস্ত্র রপ্তানি স্থগিত করা এবং তার এক বছর পর ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া। তবে স্টারমারের সম্ভাব্য বিদায়ের পর নেতৃত্ব নির্বাচনের মাধ্যমে দলটির নীতিতে আরো বড় পরিবর্তন আসবে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, রয়টার্স

এএম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন