গাজা উপত্যকা পুরোপুরি দখলে নেওয়ার পরিকল্পনা অনুমোদন দিয়েছে ইসরাইলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা। শুক্রবার এক বিবৃতিতে একথা নিশ্চিত করেছে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর কার্যালয়। শুক্রবার টাইমস অব ইসরাইলের এক প্রতিবেদনে এ কথা জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) গাজা দখলের যে পরিকল্পনা প্রস্তাব করেছে তা মন্ত্রিসভায় পাস হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, নেতানিয়াহুর দেওয়া ‘হামাসকে পরাজিত করার রূপরেখা’ অনুমোদন দিয়েছে নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা।
এছাড়া যুদ্ধক্ষেত্রের বাইরে অবস্থানরত বেসামরিক মানুষের জন্য মানবিক সহায়তা দেবে ইসরাইল। পাশাপাশি হামাসের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির জন্য ইসরাইল যেসব শর্ত দেবে, তার মধ্যে পাঁচটি মূলনীতির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন মন্ত্রিসভার বেশিরভাগ সদস্য।
এই পাঁচটি মূলনীতি হলো: হামাসকে সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ, জিম্মি অবস্থায় থাকা বাকি ৫০ জনকে মুক্ত করা (যাদের মধ্যে আনুমানিক ২০ জন জীবিত), গাজাকে পুরোপুরি নিরস্ত্রী করা, গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এবং হামাস বা ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের পরিবর্তে একটি বিকল্প বেসামরিক সরকারের হাতে গাজার শাসনভার তুলে দেওয়া।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, মন্ত্রীদের বেশিরভাগই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, নিরাপত্তা মন্ত্রিসভায় উপস্থাপিত বিকল্প পরিকল্পনা হামাসের পরাজয় বা জিম্মিদের প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করবে না।
এই বিকল্প পরিকল্পনার বিস্তারিত বর্ণনা দেওয়া হয়নি বিবৃতিতে। তবে এটি আইডিএফ চিফ অব স্টাফ ইয়াল জামিরের উপস্থাপিত একটি প্রস্তাবের কথা উল্লেখ করছে বলে ধারনা করা হচ্ছে। তিনি গাজা দখলের বিরোধী। তার আশঙ্কা, গাজা দখলের পরিকল্পনা মানবিক বিপর্যয়ের দিকে নিয়ে যাবে, একই সাথে জিম্মিদের জীবন ঝুঁকির মুখে ফেলবে।
গাজা সিটি হল ২৫ শতাংশ ভূখণ্ডের অংশ যা আইডিএফ এখনো জয় করতে পারেনি। এরমধ্যে মধ্য গাজার বেশ কয়েকটি শরণার্থী শিবিরও রয়েছে।
নিরাপত্তা মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গাজা সিটির বাইরের অন্যান্য অজেয় এলাকাগুলোও দখল করা হবে কিনা তা স্পষ্ট নয়।
আরএ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

