তেলের বাজারে উচ্চমূল্য বজায় রাখা এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের লক্ষ্যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলো লক্ষ্যবস্তু করতে নতুন কৌশল গ্রহণ করছে ইরান। দেশটির জ্যেষ্ঠ দুই কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
নতুন কৌশল সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানালেও ওই দুই কর্মকর্তার একজন বলেছেন, ইরানের আরোপিত বিধিনিষেধ লঙ্ঘন করছে বলে বিবেচিত জাহাজগুলোর বিরুদ্ধে প্রায় ১০ দিন আগে থেকে ভিন্ন ধরনের আক্রমণাত্মক কৌশল প্রয়োগ শুরু করেছে তেহরান। এর ফলে এ ধরনের জাহাজে হামলার ঘটনা বেড়েছে।
কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন কৌশলে হামলার ধরন ও গতি—দুই ক্ষেত্রেই পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর অন্যতম উদ্দেশ্য যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলকে প্রভাবিত করা।
দুই কর্মকর্তার একজন বলেন, বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমিয়ে আনার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করাই এর লক্ষ্য।
তারা জানান, নতুন কৌশল গ্রহণের সিদ্ধান্ত ইরানের নেতৃত্বের সর্বোচ্চ পর্যায়ে নেওয়া হয়েছে। দেশটির শাসনব্যবস্থার বিভিন্ন স্তরের মধ্যে পূর্ণ সমন্বয়ের ভিত্তিতেই এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক যুক্তরাষ্ট্রের একজন সামরিক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, ইরান তাদের কৌশলে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এনেছে। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের রাডার সক্ষমতার বড় অংশ ধ্বংস করে দেওয়ার পর দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করতে ছোট নৌযানে নিরস্ত্র পর্যবেক্ষক মোতায়েন শুরু করেছে। এসব পর্যবেক্ষক মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজসহ বিভিন্ন সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করছে।
স্বাধীন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল অব্যাহত রাখা বাণিজ্যিক জাহাজগুলোতে হামলার ঘটনা বেড়ে যুদ্ধ শুরুর পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
সূত্র: রয়টার্স
আরএ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


