স্পেনের উচ্ছেদবিরোধী আন্দোলনের প্রতীক মারিকারমেনের মৃত্যু, সংসদের বাইরে বিক্ষোভ

স্পেনের উচ্ছেদবিরোধী আন্দোলনের প্রতীক মারিকারমেনের মৃত্যু, সংসদের বাইরে বিক্ষোভ
মাদ্রিদে এক বিক্ষোভ চলাকালে মারিকারমেন আবাসকালের অ্যাপার্টমেন্টের সামনে তাকে শ্রদ্ধা জানাতে বিক্ষোভকারীরা সমবেত হন। ৮ অক্টোবর ২০২৬। ছবি: এএফপি

স্পেনে বাড়ি থেকে উচ্ছেদের ঘটনায় দেশজুড়ে প্রতিবাদের প্রতীকে পরিণত হওয়া ৮৭ বছর বয়সি মারিয়া দেল কারমেন আবাসকাল মারা গেছেন। তার উচ্ছেদের ঘটনায় ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভের মধ্যে আগাম সাধারণ নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ।

বিজ্ঞাপন

বুধবার আবাসকালের মৃত্যুর পর বৃহস্পতিবার পার্লামেন্টের বাইরে হাজারো মানুষ বিক্ষোভ করেন। তার মৃত্যু নিয়ে আইনসভাতেও শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক।

গত ২৩ সেপ্টেম্বর মাদ্রিদে নিজের বাড়ি থেকে স্ট্রেচারে করে আবাসকালকে উচ্ছেদ করা হয়। এরপর তীব্র উদ্বেগ ও অবসাদের কারণে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। বুধবার সেখানেই তার মৃত্যু হয়। হাসপাতালে থাকাকালে বাড়িতে ফিরে যাওয়ার বিষয়ে একটি সমঝোতা হয়েছিল। তবে বাড়ি ফেরার আগেই তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর কারণ জানানো হয়নি।

‘এটা হত্যা করারই শামিল’

আল-জাজিরাকে ডায়ানা নামের এক বিক্ষোভকারী বলেন, ‘হৃদয় ভেঙে তাকে মেরে ফেলা হয়েছে। ৭০ বছর ধরে যে বাড়িতে বসবাস করেছেন, ৮৭ বছর বয়সে সেখান থেকে তাকে বের করে দেওয়া—এটা একজন মানুষকে হত্যা করারই শামিল।’

আবাসকালের বাড়ির বাইরে শোকাহত মানুষ ফুল, মোমবাতি, হাতে লেখা বার্তা ও শিশুদের আঁকা ছবি রেখে শ্রদ্ধা জানান।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর কেন্দ্রীয় পুয়ের্তা দেল সল চত্বরের প্রতিবাদ শিবির থেকে তার উচ্ছেদ করা বাড়ির দিকে মিছিল করেন বিক্ষোভকারীরা। এ সময় তাদের স্লোগান ছিল, ‘এগুলো মৃত্যু নয়, এগুলো হত্যা।’

মৃত্যু ঘিরে রাজনৈতিক সংঘাত

আবাসকালের উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে স্পেনে বাড়ির সংকট ও বাড়িভাড়া বৃদ্ধির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ জোরালো হয়। জরুরি আবাসনসংক্রান্ত ব্যবস্থা পাস করতে পার্লামেন্ট ব্যর্থ হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ ২৯ নভেম্বর আগাম সাধারণ নির্বাচনের ঘোষণা দেন।

আবাসকালের মৃত্যুতে শ্রদ্ধা জানানো নিয়েও মাদ্রিদ অঞ্চলের আইনসভায় বিরোধ দেখা দেয়। আসন্ন নির্বাচনের আগে ঘটনাটি রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারের অভিযোগে পরস্পরকে আক্রমণ করেন আইনপ্রণেতারা।

রক্ষণশীল বিরোধী দল পিপির নেতা আলবের্তো নুনিয়েস ফেইহো প্রধানমন্ত্রী সানচেজ ও সমাজতন্ত্রীদের বিরুদ্ধে আবাসনসংকটকে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের কাজে ব্যবহারের অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, ‘স্পেনের মানুষের আবেগকে কাজে লাগিয়ে এই কারসাজির চেষ্টা আমরা হতে দেব না। গত আট বছর ধরে তারা সরকারে রয়েছে, আর এসব ঘটনা সেই সময়েই ঘটেছে। এই চেষ্টা সফল হবে না।’

মাদ্রিদ অঞ্চলের ও স্থানীয় আইনসভায় নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে পিপির। দলটি আবাসকালের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালনে রাজি হয়নি। এর প্রতিবাদে কট্টর বামপন্থি আইনপ্রণেতারা নগর ভবনের বাইরে নীরবতা পালন করেন। পরে আঞ্চলিক আইনসভায় উত্তপ্ত বিতর্কের মধ্যে তারা দাঁড়িয়ে ৬০ সেকেন্ড ধরে হাততালি দিয়ে আবাসকালের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এ সময় পিপির আইনপ্রণেতারা হাত ভাঁজ করে নিজেদের আসনে বসে থাকেন।

বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণে আনার লক্ষ্যে পার্লামেন্টে উত্থাপিত আইন পাসের উদ্যোগে রক্ষণশীলদের বিরোধিতার সমালোচনা করেছে বামঘেঁষা দলগুলো।

আবাসনে সরকারি হস্তক্ষেপ চান অধিকাংশ মানুষ

রাষ্ট্রীয় জনমত জরিপ সংস্থা সিআইএসের জুন মাসে পরিচালিত এক জরিপ বৃহস্পতিবার প্রকাশিত হয়েছে। এতে দেখা গেছে, স্পেনের ৭৬ দশমিক ৩ শতাংশ মানুষ আবাসনের সুযোগ নিশ্চিত করতে বাজারে সরকারি হস্তক্ষেপের পক্ষে। আর ৭৯ শতাংশ মনে করেন, বাড়িকে বাজারের পণ্য হিসেবে বিবেচনা করার চেয়ে আবাসনের অধিকারকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।

স্পেনের ন্যায়পাল অ্যাঞ্জেল গাবিলন্দো বলেছেন, আবাসনসংকট মোকাবিলায় সরকারের সব স্তর থেকে আরো জোরালো উদ্যোগ প্রয়োজন।

তিনি জানান, তার দপ্তর আবাসনসংকট নিয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরি করছে। সরকারি আবাসনের সংখ্যা বাড়ানো, পর্যটকদের কাছে বাড়ি ভাড়া দেওয়ার ওপর বিধিনিষেধ আরোপ, বাড়িভাড়ার সহায়তা বৃদ্ধি এবং ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোকে উচ্ছেদের বিরুদ্ধে সুরক্ষা জোরদার করার প্রস্তাবও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

এএম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন