রাশিয়া ও ইউক্রেনের পাল্টাপাল্টি হামলায় একদিনে দুই দেশে অন্তত ২৬ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে রাশিয়ার ১১ জন এবং ইউক্রেনের ১১ জন নাগরিক।
গতকাল সোমবার বিভিন্ন অঞ্চলে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এসব হতাহতের ঘটনা ঘটে।
রুশ প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ইউক্রেনীয় বাহিনীর ড্রোন হামলায় নিহতরা রাশিয়ার ক্রাসনোদার, বেলগোরোদ ও ক্রিমিয়ার বাসিন্দা।
রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ ক্রাসনোদারের গভর্নর ভেনিয়ামিন কন্দ্রাতিয়েভ এক বিবৃতিতে বলেন, ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় গেলেন্দঝিক জেলার পর্যটনকেন্দ্র আরখিপো-ওসিপোভকায় তিন শিশুসহ সাতজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন প্রায় ৪০ জন।
একই দিনে কৃষ্ণ সাগর উপদ্বীপ ক্রিমিয়া এবং ইউক্রেন সীমান্তবর্তী রুশ প্রদেশ বেলগোরোদেও ড্রোন হামলা চালায় ইউক্রেনীয় বাহিনী। এতে ক্রিমিয়ায় চারজন নিহত ও দু’জন আহত হন। বেলগোরোদে নিহত হন চারজন এবং আহত হন ১৭ জন।
অন্যদিকে ইউক্রেনের দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক প্রদেশের কৃভি রিহ জেলার একটি পেট্রোল স্টেশনে বিস্ফোরকবোঝাই রুশ ড্রোন আঘাত হানে। এতে তিনজন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে একজন জরুরি পরিষেবাকর্মী এবং তার আট বছর বয়সী ছেলে রয়েছে।
দিনিপ্রোপেত্রোভস্কের গভর্নর ওলেক্সান্দর হানঝা টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় জানান, হামলার পর পেট্রোল স্টেশনটিতে আগুন ধরে যায়। এতে স্টেশনটি এবং আশপাশের এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
সোমবার রাতে ইউক্রেনের জাপোরিজ্জিয়া প্রদেশেও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় রুশ বাহিনী। এতে দুই শিশুসহ আটজন নিহত হয়েছেন।
২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর প্রথম দিকে বেসামরিক মানুষের প্রাণহানির হার তুলনামূলক কম থাকলেও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। তবে দুই পক্ষই বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলা চালানোর অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
এদিকে পৃথক এক বিবৃতিতে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, পূর্ব ইউক্রেনের খারকিভ অঞ্চলের বিলিই কোলোদিয়াজ ও উস্পেনিভকা বসতি রুশ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
ক্রিমিয়াকে রাশিয়ার অংশ হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়া এবং ২০১৫ সালের মিনস্ক চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ন্যাটোর সদস্য হওয়ার জন্য কিয়েভের উদ্যোগকে কেন্দ্র করে কয়েক বছর ধরে মস্কো ও কিয়েভের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। এর পর ২০২২ সালে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নির্দেশে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করে রুশ বাহিনী। আড়াই বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও সেই যুদ্ধ এখনো চলছে।
এএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

