মার্কিন নির্বাচনের ধাক্কায় চাপে নেতানিয়াহু, ইসরাইলের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ

মার্কিন নির্বাচনের ধাক্কায় চাপে নেতানিয়াহু, ইসরাইলের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ
ছবি: দ্য টাইমস অব ইসরাইল

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলকে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন ইসরাইলের বিরোধী নেতারা। তাদের অভিযোগ, নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রের দুই দলের সঙ্গে ইসরাইলের দীর্ঘদিনের দ্বিপক্ষীয় সুসম্পর্ক নষ্ট করেছেন।

মঙ্গলবারের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেন। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যৌথ অভিযান নিয়ে জন-অসন্তোষের প্রেক্ষাপটে এ ফলাফলকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

ইসরাইলের সাম্প্রতিক নির্বাচনে নেতানিয়াহুর ডানপন্থি জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালেও বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকোটের সরকার গঠনের পথও স্পষ্ট হয়নি। প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ বুধবার ও বৃহস্পতিবার বিভিন্ন দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেবেন। এর মধ্যে তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন নেতানিয়াহু।

নেতানিয়াহুকে ‘বিষাক্ত’ নেতা আখ্যা

বিরোধী নেতা আভিগদর লিবারম্যান অভিযোগ করেন, নেতানিয়াহুর প্রতি ট্রাম্পের সমর্থনের মূল্য দিতে হচ্ছে ইসরাইলকে। তার দাবি, ট্রাম্পের সমর্থনের কারণে বছরে ৩৮০ কোটি ডলারের মার্কিন সামরিক সহায়তা হারানোর ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

বামপন্থি ডেমোক্র্যাটস পার্টির নেতা ইয়াইর গোলান বলেন, নেতানিয়াহু ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান—উভয় দলের কাছেই ‘বিষাক্ত’ হয়ে উঠেছেন। তার মতে, নেতানিয়াহু ও কট্টর ডানপন্থি মন্ত্রী ইতামার বেন গভির ক্ষমতায় থাকলে ইসরাইল আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা, বিচ্ছিন্নতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাতের মুখে পড়তে পারে।

বিরোধীদলীয় নেতা ইয়াইর লাপিদও বলেন, নেতানিয়াহুর ক্ষমতায় থাকা ইসরাইলের নিরাপত্তা, গণতন্ত্র ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির জন্য হুমকি।

এ বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করেননি নেতানিয়াহু। তার দপ্তরও মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি।

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল সম্পর্কে নতুন সংকটের আশঙ্কা

ইসরাইলের পরবর্তী সরকারপ্রধান কে হবেন, তা নির্ধারণে কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাস লেগে যেতে পারে। নির্বাচিত প্রার্থী সরকার গঠনে ব্যর্থ হলে অপর প্রার্থীকে সুযোগ দেওয়া হবে। দুজনই ব্যর্থ হলে নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

তেল আবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক উদি সোমার আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, নতুন ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত মার্কিন কংগ্রেস ইসরাইলের ইতিহাসে সবচেয়ে কঠোর অবস্থান নিতে পারে।

তার মতে, পররাষ্ট্রনীতির প্রধান ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের হাতে থাকলেও শুনানি, কংগ্রেসীয় তদারকি ও বাজেটসংক্রান্ত সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ডেমোক্র্যাটরা ইসরাইলের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারবেন।

সোমার বলেন, ডেমোক্র্যাটদের বড় জয় ও রিপাবলিকানদের বিপর্যয় যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

সূত্র: দ্য টাইমস অব ইসরাইল

আরএ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন