ইরান বেশ কয়েকটি দেশে অস্ত্র তৈরির কারখানা স্থাপন করেছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ। তবে কোন কোন দেশে কারখানা আছে তা স্পষ্ট করেননি তিনি। শুক্রবার টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে তিনি একথা জানান। খবর ইরান ইন্টারন্যাশনালের।
তিনি বলেন, ‘আমরা কিছু দেশে অস্ত্র কারখানা তৈরি করেছি, তবে আপাতত দেশগুলোর নাম জানানো হবে না।’
নাসিরজাদেহ আরো বলেন, ‘গত বছর ইরান নতুন ওয়ারহেড পরীক্ষা করেছে, যা খুবই উন্নত ও নিয়ন্ত্রণযোগ্য।’
তিনি এমন সময় এ তথ্য জানালেন যখন, বৃহস্পতিবার ইরানের নৌবাহিনী ওমান উপসাগর এবং উত্তর ভারত মহাসাগরে বৃড় পরিসরে মহড়া চালায়। এক মাস আগে ক্যাস্পিয়ান সাগরে ইরান-রাশিয়ার যৌথ মহড়া মহড়া অনুষ্ঠিত হয়।
১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের কড়া নিষেধাজ্ঞার কারণে আধুনিক অস্ত্র পাওয়ার সুযোগ সীমিত হয়ে যায় ইরানের। ফলে দেশটি স্থানীয়ভাবে অস্ত্র তৈরি এবং পুরোনো প্রযুক্তি আধুনিকীকরণের পথে হাঁটে।
ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরো বলেন, জুনের সংঘাত যদি ১৫ দিন পর্যন্ত বিস্তৃত হতো, তাহলে ইসরাইলি বাহিনী ইরানের কোন ক্ষেপণাস্ত্রই প্রতিহত করতে পারত না। এ কারণেই ইসরাইল শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয় বলে জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, ইরান এ যুদ্ধে তাদের সবচেয়ে নিখুঁত ক্ষেপণাস্ত্র ‘কাসেম বাসির’ ব্যবহারই করেনি। এ ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার, সঙ্গে উন্নত গাইডেন্স ও প্রতিরোধ ব্যবস্থার বিরুদ্ধে কার্যকর প্রযুক্তি রয়েছে।
নাসিরজাদেহ বলেন, যুদ্ধের শুরুর দিকে প্রায় ৪০ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র আটকানো হলেও শেষ দিকে ৯০ শতাংশ লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। তার দাবি, এটি প্রমাণ করে ইরানের অভিজ্ঞতা যেমন বাড়ছিল, তেমনি ইসরাইলের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ক্রমেই দুর্বল হচ্ছিল।
আরএ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


