মোদি-আদানি নিয়ে প্রামাণ্যচিত্র ঘিরে তোলপাড়, কী আছে তাতে

মোদি-আদানি নিয়ে প্রামাণ্যচিত্র ঘিরে তোলপাড়, কী আছে তাতে
ছবি: এআই

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও দেশটির শীর্ষ ধনী শিল্পপতি গৌতম আদানির সম্পর্ক ও ব্যবসায়িক উত্থান নিয়ে তৈরি একটি প্রামাণ্যচিত্রকে কেন্দ্র করে ভারতজুড়ে তোলপাড় চলছে। ‘দ্য ফ্রেন্ডশিপ ফাইলস: হাউ মোদি অ্যান্ড আদানি স্টোল ইন্ডিয়া’ শীর্ষক ৩৬ মিনিটের এই তথ্যচিত্রটি নেট দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পর এর প্রচার ও শেয়ারের ওপর অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে কলকাতা হাইকোর্ট। একইসঙ্গে প্রামাণ্যচিত্রটি ঘিরে ৫০ কোটি রুপির মানহানির মামলা ঠুকেছে আদানি গ্রুপের মূল প্রতিষ্ঠান আদানি এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড।

হটমেইলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা সাবির ভাটিয়ার ইউটিউব চ্যানেল এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) গত ৯ অক্টোবর প্রথম প্রকাশিত হয় প্রামাণ্যচিত্রটি। প্রকাশের পরপরই এটি ভারতের রাজনৈতিক ও সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন তোলে।

বিজ্ঞাপন

কী আছে বিতর্কিত এই প্রামাণ্যচিত্রে?

প্রামাণ্যচিত্রটিতে মূলত গত দুই দশক ধরে নরেন্দ্র মোদির রাজনৈতিক ক্ষমতার বিস্তার এবং সমান্তরালে গৌতম আদানির বিশাল করপোরেট সাম্রাজ্য গড়ে ওঠার মধ্যকার পারস্পরিক যোগসূত্রকে তুলে ধরা হয়েছে:

• নীতিমালা উপেক্ষা করে সুবিধা প্রদান: প্রামাণ্যচিত্রে অভিযোগ করা হয়, বিদ্যমান সরকারি বিধিনিষেধ ও নীতিমালা উপেক্ষা করে আদানি গ্রুপকে বন্দর, বিমানবন্দর ব্যবস্থাপনা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, সড়ক অবকাঠামো এবং কয়লা খনি ইজারার মতো রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে একচ্ছত্র সুবিধা পাইয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

• গুজরাট থেকে দিল্লি যাত্রা: নরেন্দ্র মোদি যখন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন, তখন থেকেই আদানির সঙ্গে তাঁর সখ্য শুরু হয়। পরবর্তীতে ২০১৪ সালে মোদি ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দিল্লির মসনদে বসার পর কীভাবে একটি আঞ্চলিক ব্যবসা থেকে আদানি গ্রুপ বিশ্বমঞ্চের শীর্ষস্থানীয় করপোরেট জায়ান্টে রূপান্তরিত হলো—তার ধারাবাহিক বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে এতে।

• ক্রোনি ক্যাপিটালিজমের অভিযোগ: এতে দাবি করা হয়, সরকারি প্রভাব ও নীতিগত সহায়তার মাধ্যমে একটি বিশেষ শিল্পগোষ্ঠীকে অন্যায্য সুবিধা দিয়ে রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও জনগণের করের অর্থের অপব্যবহার করা হয়েছে, যাকে ‘ক্রোনি ক্যাপিটালিজম’ বা সুবিধাভোগী পুঁজিবাদ বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে।

আদালতের স্থগিতাদেশ ও ৫০ কোটি রুপির মামলা

ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে বিরোধী শিবির এবং সাধারণ ব্যবহারকারীদের মাঝে ছড়িয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে আদানি এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড কলকাতা হাইকোর্টে মানহানির মামলা দায়ের করে।

আদালতের শুনানিতে উল্লেখ করা হয়, প্রামাণ্যচিত্রটিতে যেসব গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ তোলা হয়েছে, সেগুলোর সপক্ষে কোনো উপযুক্ত আইনি প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। ফলে আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রামাণ্যচিত্রটির প্রচার, পুনঃপ্রচার ও শেয়ার করার ওপর স্থগিতাদেশ জারি করে কলকাতা হাইকোর্ট। পাশাপাশি ইউটিউব, এক্স ও ইনস্টাগ্রাম কর্তৃপক্ষকে সংশ্লিষ্ট সব ভিডিও ও ক্লিপ অবিলম্বে সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়।

অন্যদিকে, ক্ষমতাসীন বিজেপি এবং আদানি গ্রুপ শুরু থেকেই এই প্রামাণ্যচিত্রে আনা সব অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন, মনগড়া এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...