ভারতের মধ্যপ্রদেশের দামোহ জেলায় গরু জবাই ও গবাদিপশু চুরির সন্দেহে তিন মহিষ ব্যবসায়ীকে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, তাদের রশি দিয়ে বেঁধে লাঠি দিয়ে পেটানো হয়। তাদের মধ্যে দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে জেলার হিন্দোরিয়া থানা এলাকার হারদুয়া গ্রামে।
আহতদের ভাষ্য অনুযায়ী, তারা একটি পিকআপ ভ্যানে করে মহিষ নিয়ে সাগর জেলার একটি গোশালায় যাচ্ছিলেন। পথে একদল ব্যক্তি তাদের গাড়ি থামানোর চেষ্টা করে। অভিযোগ, গাড়ি না থামালে সেটি লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছোড়া হয়। পরে তাদের ধাওয়া করে আটক এবং মারধর করা হয়।
নির্যাতনের পর স্লোগান দিতে বাধ্য করার অভিযোগ
আহত হাসান কুরেশির অভিযোগ, হামলাকারীরা তাদের হাত-পা রশি দিয়ে বেঁধে লাঠি দিয়ে মারধর করে। এ সময় তাদের পরনের পোশাক খুলে শুধু অন্তর্বাস পরা অবস্থায় রাখা হয়। পাশাপাশি ‘গরু জবাই করেছেন’—এমন কথা বলতে এবং ‘গৌমাতা কি জয়’ স্লোগান দিতে বাধ্য করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
হাসানের দাবি, মহিষ পরিবহনের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তাদের কাছে ছিল এবং সেগুলো দেখানোর পরও হামলা চালানো হয়। হামলাকারীদের বিরুদ্ধে সোনার চেইন, আংটি, মুঠোফোন ও নগদ অর্থ ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করেছেন তিনি। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা যায়নি।
আহত তিনজন হলেন হাসান কুরেশি, আবিদ কুরেশি ও হুসেন খান। তাদের মধ্যে হাসান ও আবিদকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জবলপুরের সুভাষচন্দ্র বসু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। হুসেনের চিকিৎসা চলছে দামোহে। তার অবস্থা আশঙ্কামুক্ত।
তদন্ত করছে পুলিশ
দামোহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজিত সিং ভাদোরিয়া জানিয়েছেন, ঘটনাটি হিন্দোরিয়া থানা এলাকার। পশুর প্রতি নিষ্ঠুরতার অভিযোগে পাঁচজনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করা হয়েছে। পাশাপাশি মারধরের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর অজ্ঞাতপরিচয় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) একাধিক ধারায় আরেকটি মামলা করা হয়েছে। অভিযুক্তদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।
পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে পিকআপ ভ্যান ও সাতটি মহিষ জব্দ করেছে। মহিষ কেনাবেচা এবং পরিবহনের কাগজপত্রও পরীক্ষা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের কয়েকজন বজরং দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। তবে তাদের সঙ্গে সংগঠনটির সম্পৃক্ততার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে তিন ব্যক্তিকে বেঁধে মারধর করতে দেখা গেছে। আহতদের অভিযোগ ও ঘটনার ভিডিও খতিয়ে দেখে পুলিশ পরবর্তী পদক্ষেপ নিচ্ছে।
সূত্র: দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, দ্য হিন্দু ও মুসলিম মিরর
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


