বিশ্বের শীর্ষ বিজ্ঞানীদের তালিকায় সৌদির ১৫১ গবেষক

বিশ্বের শীর্ষ বিজ্ঞানীদের তালিকায় সৌদির ১৫১ গবেষক

সৌদি আরবের কিং সৌদ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ১৫১ জন গবেষক বিশ্বের সর্বাধিক উদ্ধৃত বিজ্ঞানীদের নিয়ে প্রকাশিত ২০২৬ সালের বৈশ্বিক র‍্যাঙ্কিংয়ে স্থান পেয়েছেন। আগের বছরের তুলনায় এ সংখ্যা প্রায় ৩৬ শতাংশ বেড়েছে। এতে বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়টির গবেষণার বিস্তার ও প্রভাব বৃদ্ধির প্রতিফলন ঘটেছে।

গবেষণায় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির অবস্থান আরো শক্তিশালী হওয়ার বিষয়টি এই অর্জনের মধ্য দিয়ে উঠে এসেছে।

বিজ্ঞাপন

বিশ্ববিদ্যালয়টির গবেষকদের এই তালিকা তৈরি করেছেন স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা। এ কাজে তাদের সহযোগিতা করেছে শিক্ষাবিষয়ক প্রকাশনা সংস্থা এলসেভিয়ার। স্কোপাস ডেটাবেইসের তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি এই র‍্যাঙ্কিংয়ে বিজ্ঞানীদের গবেষণাকর্মের প্রভাব মূল্যায়ন করা হয়।

মূল্যায়নের আওতায় রয়েছে একক বছরের গবেষণার প্রভাবসংক্রান্ত একটি বিভাগ, যেখানে ২০২৫ সালে গবেষকদের কাজ কতবার উদ্ধৃত হয়েছে, তা বিবেচনা করা হয়েছে।

এ ক্ষেত্রে নিজের গবেষণাকর্ম উদ্ধৃত করার সংখ্যা বাদ দিয়ে অন্যান্য উদ্ধৃতির হিসাব, গবেষণাপত্র প্রকাশে লেখক হিসেবে গবেষকদের ভূমিকা এবং বৈজ্ঞানিক প্রভাব পরিমাপের জন্য তৈরি একটি সমন্বিত সূচক বিবেচনায় নেওয়া হয়। ফলে শুধু প্রকাশিত গবেষণাপত্রের সংখ্যা নয়, বরং গবেষণার প্রকৃত প্রভাবও মূল্যায়নের গুরুত্ব পায়।

এই র‍্যাঙ্কিংয়ে বিজ্ঞানের ২০টি প্রধান ক্ষেত্র এবং ১৭৪টি উপক্ষেত্র অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন বিষয়ে কাজ করা গবেষকদের একটি বিস্তৃত কাঠামোর আওতায় তুলনা করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়টির বিজ্ঞান অনুষদের ডিন জায়েদ আল-ওথমান এই অর্জনের পেছনে বৈজ্ঞানিক দক্ষতা, বিভিন্ন বিষয়ের গবেষকদের মধ্যে সহযোগিতা, প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহায়ক গবেষণার অবদানের কথা উল্লেখ করেছেন।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক র‍্যাঙ্কিংয়ে প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোই বিশ্ববিদ্যালয়টির একমাত্র লক্ষ্য নয়। বরং এমন একটি টেকসই গবেষণার পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে, যেখানে গুরুত্বপূর্ণ ও সুদূরপ্রসারী প্রভাব সৃষ্টিকারী গবেষণাকর্ম তৈরি হবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বিজ্ঞানীদের বিকাশে সহায়তা করা যাবে।

বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষক ও গবেষকেরাও গবেষণার মান, বিভিন্ন বিষয়ের মধ্যে সহযোগিতা এবং বৈজ্ঞানিক উন্নয়নে ধারাবাহিক প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।

আন্তর্জাতিক এই স্বীকৃতির তালিকায় বিশ্ববিদ্যালয়টির গবেষকদের সংখ্যা বৃদ্ধি বিশ্ব গবেষণাঙ্গনে এর অবস্থান আরও সুদৃঢ় করবে। পাশাপাশি সৌদি আরবের বৃহত্তর ‘ভিশন ২০৩০’ লক্ষ্য বাস্তবায়নেও সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই কর্মসূচির অন্যতম উদ্দেশ্য হলো বৈজ্ঞানিক সক্ষমতা ও উদ্ভাবন বাড়ানো এবং জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতির বিকাশ ঘটানো।

সূত্র: আরব নিউজ ও মুসলিম নেটওয়ার্ক টিভি

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন