পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের সেক্টর এইচ-১৬-তে অত্যাধুনিক মডেল কারাগারের প্রথম পর্যায়ের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। আগামী ১ থেকে ১০ নভেম্বরের মধ্যে কারাগারটির উদ্বোধনের প্রস্তুতি চলছে। প্রথম ধাপে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগার থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানসহ প্রায় দেড় হাজার বন্দিকে নতুন এই কারাগারে স্থানান্তরের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
কারা সূত্র জানিয়েছে, প্রথমে দুই হাজার বন্দিকে স্থানান্তরের পরিকল্পনা থাকলেও এখন সেই সংখ্যা কমিয়ে দেড় হাজার করা হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে তিনটি ব্যারাক, ৩৫ শয্যার একটি ছোট হাসপাতাল, মসজিদ ও রান্নাঘরের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে।
প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ চলবে। ২০২৭ সালের প্রথম প্রান্তিকে, অর্থাৎ জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে এ পর্যায়ের কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
ইসলামাবাদের সেক্টর এইচ-১৬-তে ৯০ একর জমির ওপর নির্মাণ করা হয়েছে নতুন এই কারাগার। কারাগারটির সঙ্গে মোটরওয়ে ও কাশ্মীর হাইওয়ের সংযোগ সড়ক উন্নয়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জাতীয় মহাসড়ক কর্তৃপক্ষকে। পাশাপাশি কারাগারের কাছে একটি বড় ইন্টারচেঞ্জ নির্মাণের নকশা ও প্রকল্প প্রস্তাব তৈরির কাজও শুরু হয়েছে।
প্রকল্পটির প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছিল ৩৫০ কোটি পাকিস্তানি রুপি। তবে নির্মাণসামগ্রীর দাম বেড়ে যাওয়াসহ বিভিন্ন কারণে চার বছরে ব্যয় ২ হাজার কোটি রুপি ছাড়িয়ে গেছে।
প্রথম ধাপে বিচারাধীন বন্দিরা
প্রথম পর্যায়ে আদিয়ালা কারাগার থেকে শুধু বিচারাধীন বন্দিদের স্থানান্তর করা হবে, যাঁদের মামলার বিচার আদালতে চলছে। সাজাপ্রাপ্ত বন্দিদের এই ধাপে স্থানান্তর করা হবে না।
এর ফলে ইসলামাবাদের নতুন কারাগার থেকে বাড়তি নিরাপত্তার মধ্যে বিচারাধীন বন্দিদের সরাসরি আদালতে হাজির করা যাবে। সাজাপ্রাপ্ত বন্দিদের স্থানান্তর শুরু হতে পারে ২০২৭ সালে। এ ক্ষেত্রে আগামী ফেব্রুয়ারিকে সম্ভাব্য সময় হিসেবে উল্লেখ করেছেন কারা সূত্রগুলো।
কারা সূত্র জানায়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে ২০ থেকে ৩০ নভেম্বরের মধ্যে আদিয়ালা কারাগার থেকে নতুন কারাগারে নেওয়া হতে পারে। তাঁর জন্য একটি বিশেষ ওয়ার্ডের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। সেখানে ক্লোজড সার্কিট টেলিভিশন (সিসিটিভি) নজরদারি ব্যবস্থা স্থাপনের কাজও শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
আদিয়ালা কারাগার কর্তৃপক্ষের সূত্রগুলো জানিয়েছে, ইসলামাবাদের বাসিন্দা বন্দি ও বিচারাধীন আসামিদের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। নভেম্বরেই তাদের স্থানান্তরের প্রস্তুতি চলছে।
পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি ইতিমধ্যে নতুন কারাগারটি পরিদর্শন করেছেন। তিনি কর্তৃপক্ষকে ৩১ অক্টোবরের মধ্যে নির্মাণকাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন।
আধুনিক সুযোগ-সুবিধা
নতুন মডেল কারাগারটিতে খেলাধুলার মাঠ, পাঠাগার, মসজিদ, ইমামবাড়া ও গির্জাসহ বিভিন্ন সুবিধা রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে। নারী ও শিশুদের জন্যও পৃথক ওয়ার্ড নির্মাণ করা হয়েছে।
ইসলামাবাদের জন্য আধুনিক সংশোধনাগার গড়ে তোলার পাশাপাশি আদিয়ালা কারাগারের ওপর চাপ কমানো এই প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে রাজধানীর আদালতগুলোতে বিচারাধীন মামলার আসামিদের আদালতের কাছাকাছি কারাগারে রাখার সুযোগ তৈরি হবে।
সূত্র: দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


