ইরানে হিজাব ও সামাজিক আচরণ শিথিল হওয়া রোধে কঠোর পদক্ষেপের আহ্বান

ইরানে হিজাব ও সামাজিক আচরণ শিথিল হওয়া রোধে কঠোর পদক্ষেপের আহ্বান

ইরানের বিচার বিভাগীয় প্রধান গোলামহোসেইন মোহসেনি এজেই বাধ্যতামূলক হিজাবসহ সামাজিক আচরণবিধি শিথিল হওয়ার প্রবণতা রোধে আরও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। স্থানীয় গণমাধ্যম শুক্রবার এ খবর জানায়।

১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে ইরানে নারীদের জনসমক্ষে চুল ঢেকে রাখা ও ঢিলেঢালা পোশাক পরা বাধ্যতামূলক। তবে সাম্প্রতিক সময়ে, বিশেষ করে তেহরানে, অনেক নারী হিজাব ছাড়াই জিন্স ও স্নিকার পরে রাস্তায় বের হচ্ছেন, যা রক্ষণশীল মহলের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ সৃষ্টি করছে।

বিজ্ঞাপন

দৈনিক এতেমাদ এজেইকে উদ্ধৃত করে জানায়, তিনি অ্যাটর্নি জেনারেল ও দেশের সব প্রসিকিউটরকে নির্দেশ দিয়েছেন যাতে তারা নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে “সামাজিক অস্বাভাবিকতার ক্ষেত্রে সংগঠিত এবং বিদেশ–সম্পৃক্ত আন্দোলন” শনাক্ত করে বিচার বিভাগের কাছে উপস্থাপন করে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, “নগ্নতা ও হিজাব না মানা শত্রুর প্রচেষ্টার প্রতিফলন।”

ইরানে “নগ্নতা” শব্দটি সাধারণত রক্ষণশীল মানদণ্ডে অনুপযুক্ত বা অতিরিক্ত উন্মুক্ত পোশাককে বোঝায়।

২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে নৈতিকতা পুলিশের হেফাজতে তরুণী মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর সারা দেশে শুরু হওয়া বিক্ষোভের পর থেকেই প্রকাশ্যে হিজাব ত্যাগের প্রবণতা আরও বাড়তে থাকে। সেই আন্দোলনে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ শতাধিক মানুষ নিহত এবং হাজারো মানুষ গ্রেপ্তার হন।

গত মাসে সরকারি মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজারানি বলেন, “আমরা কাউকে জোর করে হিজাব পরাতে পারি না।” তার এই মন্তব্য নতুন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের তুলনামূলক মধ্যপন্থী অবস্থানের প্রতিফলন, যা রক্ষণশীলদের সমালোচনার মুখে পড়েছে। তার প্রশাসন গতবছর হিজাব না মানা নারীদের জন্য কঠোর শাস্তি আরোপের একটি খসড়া আইন পাসে অস্বীকৃতি জানায়।

এদিকে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে হিজাব বিধি লঙ্ঘন বা নিষিদ্ধ অ্যালকোহল পরিবেশনের অভিযোগে দেশটির বেশ কিছু ক্যাফে ও রেস্তোরাঁ বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

কট্টরপন্থী দৈনিক কেইহান বৃহস্পতিবার সতর্ক করে জানায়, “হিজাব ইরানি নারীর ইসলামী পরিচয়ের প্রথম দুর্গ। এই দুর্গ ভেঙে পড়লে অন্যান্য সাংস্কৃতিক ও ঐতিহ্যবাহী উপাদানও ধীরে ধীরে ধসে পড়বে।”

এসআর

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন