চলতি বছরে চীনে বিশ্বনেতাদের একের পর এক সফর দেশটির ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাবের ইঙ্গিত দিচ্ছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত ২৩টি দেশের ২৬ জন শীর্ষ নেতা ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা চীন সফর করেছেন।
সর্বশেষ এই তালিকায় যুক্ত হয়েছেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়ভেট কুপার। তিন দিনের সফরে, তিনি বেইজিংয়ে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং-ই এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট হান ঝেংয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এরপর প্রযুক্তি ও বিজ্ঞান সহযোগিতার বিষয় নিয়ে সফর করবেন দেশটির দক্ষিণের প্রযুক্তিনগরী শেনজেনে।
চীন সফরকারী নেতাদের মধ্যে রয়েছেন রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, চ্যান্সেলর, ক্রাউন প্রিন্স ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। তালিকায় আছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, রাশিয়া, জার্মানি, কানাডা, স্পেন, পাকিস্তান, ইরান, ব্রাজিল, ভিয়েতনামসহ ইউরোপ, এশিয়া, আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও লাতিন আমেরিকার গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলো।
বিশ্লেষকদের মতে, চীনে এই ধারাবাহিক সফরের মূল লক্ষ্য হচ্ছে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি সহযোগিতা জোরদার করা। বিশেষ করে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে অনেক দেশই চীনের বিশাল বাজার ও বিনিয়োগ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে চাইছে।
এদিকে, চলতি বছর, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বিদেশ সফরের পরিবর্তে দেশেই বিদেশি অতিথিদের স্বাগত জানাচ্ছেন, যা বেইজিংয়ের ‘হোস্ট-ডিপ্লোমেসি’ কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আল জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, সফরকারী দেশগুলোর মধ্যে ইউরোপীয় দেশগুলোর উপস্থিতি সবচেয়ে বেশি, যা মোট তালিকার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। যুক্তরাজ্য, জার্মানি, স্পেন, আয়ারল্যান্ড ও ফিনল্যান্ডের মতো দেশগুলোর নেতারা বাণিজ্য ও কৌশলগত মতবিরোধ থাকা সত্ত্বেও চীনের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


