তাইওয়ান ঘিরে চীনের সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধির মধ্যে নিজেদের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি জোরদার করতে বৃহৎ পরিসরে যৌথ সামরিক মহড়া শুরু করছে জাপান ও যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার শুরু হতে যাওয়া ‘কিন সোর্ড ২৭’ নামের এ মহড়ায় প্রথমবারের মতো জাপানের দূরপাল্লার জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির বাইরে মোতায়েন করা হবে।
পাশাপাশি তাইওয়ানের কাছের একটি দ্বীপে উন্নত জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। জাপান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই বছর পরপর অনুষ্ঠিত এ মহড়া এবার সবচেয়ে বড় পরিসরে আয়োজন করা হচ্ছে। এতে জাপানের আত্মরক্ষা বাহিনীর প্রায় ৪৫ হাজার সদস্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের ১২ হাজার সেনা অংশ নেবেন। মহড়া চলবে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত।
জাপানের কুমামোতো প্রদেশের ঘাঁটি থেকে টাইপ-২৫ জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র প্রথমবারের মতো মহড়ার অংশ হিসেবে অন্য এলাকায় নেওয়া হবে। প্রায় এক হাজার কিলোমিটার পাল্লার এই ক্ষেপণাস্ত্র জাপানের পাল্টা হামলার সক্ষমতা গড়ে তোলার পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ওকিনাওয়া প্রদেশের ইয়োনাগুনি দ্বীপে নেভি-মেরিন এক্সপেডিশনারি শিপ ইন্টারডিকশন সিস্টেম (এনএমইএসআইএস) মোতায়েন করছে। দ্বীপটি তাইওয়ান থেকে মাত্র ১১০ কিলোমিটার দূরে। সেখান থেকে তাইওয়ানের উত্তর ও পূর্ব দিকের সমুদ্রাঞ্চলের বড় অংশে আঘাত হানার সক্ষমতা পাবে যুক্তরাষ্ট্রের এই ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা। চীন তাইওয়ান অবরোধের চেষ্টা করলে ওই সমুদ্রাঞ্চল গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
জাপানের জয়েন্ট অপারেশনস কমান্ড প্রতিষ্ঠার পর এটিই হবে প্রথম কিন সোর্ড মহড়া। এতে মহাকাশ, সাইবার ও তড়িৎচৌম্বকীয় ক্ষেত্রে অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি দুই দেশের বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর অনুশীলন করা হবে।
জাপানের আত্মরক্ষা বাহিনীর জয়েন্ট স্টাফের প্রধান জেনারেল হিরোআকি উচিকুরা বলেন, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের দ্বীপগুলোতে জাপানি ও মার্কিন বাহিনীর দ্রুত সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েনের সক্ষমতা যাচাই করা এ মহড়ার গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য।
তিনি বলেন, মহড়াটি কোনো নির্দিষ্ট দেশকে লক্ষ্য করে আয়োজন করা হয়নি। বরং যেকোনো পরিস্থিতিতে যথাযথভাবে সাড়া দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ও সক্ষমতা গড়ে তোলাই এর লক্ষ্য।
এমএমআর
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


