যে কারণে ভেনেজুয়েলায় শক্তিশালী ভূমিকম্প

আমার দেশ অনলাইন
আমার দেশ অনলাইন

যে কারণে ভেনেজুয়েলায় শক্তিশালী ভূমিকম্প
ছবি: বিবিসি

ভেনেজুয়েলা একটি ভূকম্পন সক্রিয় অঞ্চলের ওপর অবস্থিত, যেখানে ক্যারিবিয়ান ও দক্ষিণ আমেরিকান নামের দুটি টেকটনিক প্লেট মিলিত হয়েছে।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) তথ্য অনুযায়ী, আজ আঘাত হানা দুটি ভূমিকম্পের মধ্যে দ্বিতীয় ও তুলনামূলক বড়টি এই প্লেট দুটির সীমানার কাছাকাছি একটি অগভীর ‘স্ট্রাইক-স্লিপ ফল্টিং’ বা চ্যুতিলিপিচ্যুতির কারণে ঘটেছে। এটি এমন একটি প্রক্রিয়া, যেখানে প্লেটগুলোর মধ্যবর্তী ফাটল বা চ্যুতিগুলো আনুভূমিকভাবে (পাশাপাশি) নড়াচড়া করে। যখন এই নড়াচড়া খুব দ্রুত ঘটে, তখনই ভূমিকম্পের সৃষ্টি হয়।

বিজ্ঞাপন

ইউএসজিএস তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ‘মানচিত্রে সাধারণত ভূমিকম্পকে একটি বিন্দু হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও এই আকারের ভূমিকম্পগুলোকে একটি বড় চ্যুতি এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়া ফাটল হিসেবে বর্ণনা করাই বেশি মানানসই।’

সংস্থাটি আরো বলেছে, আজ আঘাত হানা এক জোড়া ভূমিকম্প সম্ভবত একটি জটিল ও পারস্পরিক ফাটল সৃষ্টির প্রক্রিয়ার ইঙ্গিত দেয়। একই সঙ্গে শক্তিশালী কম্পনসহ আরো আফটারশক বা অনুকম্পন হওয়ার সম্ভাবনা এখনো রয়েছে বলেও তারা যোগ করেছে।

ইউএসজিএস তথ্য অনুযায়ী, ১৮১২ সালে একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের কারণে মেরিদা এবং কারাকাস শহরে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ঘটেছিল। ওই সময় আনুমানিক ৩০ হাজার মানুষ নিহত হন।

পরে ১৯৬৭ সালে কারাকাসে আরেকটি বড় ধরনের ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে বহুতল ভবন ধসে পড়ে ২৪০ জন নিহত হয়েছিলেন। নিহতদের বেশিরভাগই ছিলেন শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত একটি ধনী এলাকার বাসিন্দা।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪ মিনিটে কারাকাস থেকে প্রায় ২৮৪ কিলোমিটার পশ্চিমে সান ফেলিপের কাছে ৭ দশমিক ২ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে কারাকাস থেকে প্রায় ২৯৩ কিলোমিটার পশ্চিমে ইউমারের কাছে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দ্বিতীয় ভূমিকম্পটি আঘাত হানে।

ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় ঝাঁকুনিটির উৎপত্তিস্থল ছিল ইউমারে থেকে ২৩ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্ব এবং ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে।

ভূমিকম্পকে ট্রুহিলো, কারাবাও, মিরান্ডা এবং লা গুয়াইরা রাজ্যসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এসব এলাকায় একের পর এক ভবন ধসে পড়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতত্ত্ব জরিপ ও গবেষণা সংস্থা ইউএসজিএস জানিয়েছে, এই ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা ১০ হাজারে পৌঁছানোর ৪৪ শতাংশ সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে প্রাণহানি ১ লাখ ছাড়িয়ে যাওয়ারও ৩০ শতাংশ সম্ভাবনা রয়েছে।

কারণ হিসেবে সংস্থাটি জানিয়েছে, যে এলাকায় ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে সেটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ওই এলাকার অনেক ভবন রিইনফোর্সড ইট এবং মাটির ব্লক দিয়ে তৈরি। ভূমিকম্পের তীব্রতার কারণে সেখানে ভবন ধ্বংস হওয়া এবং মৃত্যুর উচ্চ সম্ভাবনা রয়েছে।

এমতাবস্থায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ।

সূত্র: বিবিসি

এএম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন