ইসরাইলের বিপক্ষে উয়েফা নেশন্স লিগের ম্যাচে আয়ারল্যান্ড এর ফুটবলাররা ইসরাইলি খেলোয়াড়দের সঙ্গে হাত মেলাননি। রোববার রাতে হাঙ্গেরির দেব্রেসেনের প্রায় দর্শকশূন্য নাগিয়ারদেই স্টেডিয়ামে ইসরাইলের মুখোমুখি হওয়ার আগে কোনো ইসরাইলি খেলোয়াড়ের সঙ্গে করমর্দন না করার এই ঘটনা ঘটান আয়ারল্যান্ডের ফুটবলাররা। ম্যাচে তারা ৩-০ গোলে জয় পায়।
ম্যাচের আগে আয়ারল্যান্ডের খেলোয়াড়রা কালো আর্মব্যান্ড পরেন। ইসরাইলের জাতীয় সংগীত চলার সময় তারা মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে থাকেন। অধিনায়ক দারা ও’শিয়াও টসের সময় রেফারি ও সহকারী কর্মকর্তাদের সঙ্গে হাত মেলালেও ইসরাইলের অধিনায়ক মানোর সলোমনের সঙ্গে করমর্দন করেননি। দুই দলের মধ্যে প্রচলিত পেন্যান্ট বিনিময়ও হয়নি।
আয়ারল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএআই) আগেই উয়েফাকে জানিয়েছিল যে তাদের খেলোয়াড়রা ইসরাইলি দলের সঙ্গে করমর্দন করবেন না। উয়েফা এ ব্যবস্থায় সম্মতি দেয়। এফএআই জানিয়েছিল, সংঘাতে নিহত সব মানুষের স্মরণে খেলোয়াড়রা কালো আর্মব্যান্ড পরবেন এবং ম্যাচ থেকে পাওয়া অর্থ দাতব্য কাজে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মাঠের বাইরে অবশ্য ম্যাচটি নিয়ে আরো বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। ম্যাচটি বয়কট করা হবে কি না, তা নিয়ে শনিবার আয়ারল্যান্ডের খেলোয়াড়দের মধ্যে ভোট হয়। এফএআইয়ের প্রধান নির্বাহী ডেভিড কাউরেল জানান, ‘উল্লেখযোগ্য সংখ্যাগরিষ্ঠ’ খেলোয়াড় ম্যাচটি খেলার পক্ষে ভোট দিয়েছেন। তবে কতজন পক্ষে বা বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন, তা প্রকাশ করা হয়নি।
এর আগে আয়ারল্যান্ডের গোলরক্ষক গ্যাভিন বাজুনু ম্যাচে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বিবৃতিতে তিনি বলেন, নিরপরাধ মানুষ হত্যার বিরুদ্ধে নিজের বিশ্বাসের কারণে ইসরাইলের বিপক্ষে খেলায় অংশ নেওয়া তার পক্ষে সঠিক হবে না। তিনি দুই ম্যাচের জন্যই দল থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।
বাজুনুর সিদ্ধান্তের পর দলের অন্য খেলোয়াড়রাও ম্যাচ খেলা নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেন। এ কারণে দলের নির্ধারিত সংবাদ সম্মেলন ও অনুশীলন পিছিয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত ভোটের মাধ্যমে ম্যাচটি খেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ম্যাচটি শুরু হওয়ার পর অবশ্য আয়ারল্যান্ডের আধিপত্য ছিল স্পষ্ট। প্রথমার্ধেই ট্রয় প্যারট, অ্যাডাম আইডাহ ও জ্যাক ময়লানের গোলে তারা ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। দ্বিতীয়ার্ধে ইসরাইল একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও আয়ারল্যান্ডের গোলরক্ষক কাওইমহিন কেলেহার তা প্রতিহত করেন। শেষ পর্যন্ত ৩-০ গোলেই জয় পায় আয়ারল্যান্ড।
ম্যাচটি হয়েছে প্রায় দর্শকশূন্য স্টেডিয়ামে। ইসরাইলের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে সীমিতসংখ্যক টিকিট দেওয়া হয়েছিল। মাঠে অল্পসংখ্যক ইসরাইলি সমর্থক উপস্থিত ছিলেন। আয়ারল্যান্ডের সমর্থকদের জন্য কোনো টিকিট বরাদ্দ করা হয়নি।
ইসরাইলের বিপক্ষে খেলাকে ঘিরে আয়ারল্যান্ডে কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রতিবাদ চলছে। দেশটির ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন ইসরাইল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করার জন্য উয়েফার কাছে আবেদন করেছিল। তবে উয়েফা সেই আবেদন গ্রহণ করেনি।
আয়ারল্যান্ডের কোচ হেইমির হালগ্রিমসনও ম্যাচটি নিয়ে অস্বস্তির কথা প্রকাশ করেছিলেন। এর আগে ১৬০ জনের বেশি আইরিশ ক্রীড়াবিদ ম্যাচ বয়কটের আহ্বান জানিয়ে একটি খোলা চিঠিতে স্বাক্ষর করেন। ফলে জাতীয় দলের সিদ্ধান্তের বিষয়টি শুধু ফুটবলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি; দেশটির বৃহত্তর জনপরিসরেও তা ছড়িয়ে পরেছে।
দুই দলের আরেকটি ম্যাচ আগামী ৪ অক্টোবর সার্বিয়ার বাক্কা তোপোলায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেটি আয়ারল্যান্ডের ‘হোম’ ম্যাচ হলেও নিরাপত্তাজনিত কারণে নিরপেক্ষ ভেন্যুতে আয়োজন করা হচ্ছে। ফলে ওই ম্যাচকে ঘিরেও প্রতিবাদ ও বয়কটের দাবি অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
এই ম্যাচে আয়ারল্যান্ড একদিকে মাঠে ৩-০ ব্যবধানে জয় পেয়েছে, অন্যদিকে ম্যাচের আগে হাত না মেলানো, কালো আর্মব্যান্ড পরা এবং ইসরাইলের জাতীয় সংগীতের সময় মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে থাকার মতো প্রতীকী পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে এসব পদক্ষেপকে এফএআই আনুষ্ঠানিকভাবে সংঘাতে নিহত সব মানুষের প্রতি সম্মান হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে।
সূত্র: স্কাই নিউজ, এবিসি নিউজ, দ্য আইরিশ টাইমস ও এপি নিউজ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


