মধ্যপ্রাচ্যে ঝুঁকিতে মার্কিন ঘাঁটি, ইসরাইলে সরানোর পরিকল্পনা

আমার দেশ অনলাইন
আমার দেশ অনলাইন

মধ্যপ্রাচ্যে ঝুঁকিতে মার্কিন ঘাঁটি, ইসরাইলে সরানোর পরিকল্পনা
ছবি: এএফপি

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা থেকে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা আরো ভালোভাবে রক্ষা করতে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো ইসরাইল এবং এর প্রতিবেশী দেশগুলোতে স্থানান্তর করা প্রয়োজন। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) সাবেক প্রধান জেনারেল ফ্রাঙ্ক ম্যাকেঞ্জি গত সপ্তাহে একটি ওয়েবিনারে এই পরামর্শ দিয়েছেন।

জিউইশ ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি অব আমেরিকা আয়োজিত ওয়েবিনারে কাতারের আল-উদিদ সামরিক ঘাঁটির কথা উল্লেখ করে ম্যাকেঞ্জি বলেন, ‘সুস্থ মস্তিষ্কের কেউ কখনো সেন্টকমের অগ্রবর্তী সদর দপ্তরকে ইরান থেকে মাত্র ১০০ মাইল দূরে (কাতারে) স্থাপন করবে না। অথচ সেখানেই এটি রয়েছে।’

বিজ্ঞাপন

২০১৯ সালের ২৮ মার্চ থেকে ২০২২ সালের ১ এপ্রিল পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন ফ্রাংক ম্যাকেঞ্জি। তিনি জানান, ২০২২ সালে তিনি এবং অন্যান্য কর্মকর্তারা বাইডেন প্রশাসনকে বলেছিলেন যে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), কুয়েত, কাতার ও বাহরাইনে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো ইরানি হামলার মুখে চরম ঝুঁকিপূর্ণ। তাই মার্কিন বাহিনীকে ইসরাইলসহ পশ্চিমের দেশগুলোতে ছড়িয়ে দেওয়া উচিত।

ম্যাকেঞ্জি বলেন, ‘আমরা তৎকালীন বাইডেন প্রশাসনের কাছে প্রস্তাব করেছিলাম যে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হলে মার্কিন ঘাঁটিগুলো ইসরাইল, মিশরসহ পশ্চিমের দেশগুলোতে স্থানান্তরের বিষয়টি যেন বিবেচনা করা হয়।’

তবে বাইডেন প্রশাসন এই ধারণা ‘আগ্রাসীভাবে’ নাকচ করে দিয়েছিল বলে তিনি জানান।

ম্যাকেঞ্জির মতে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান ঘাঁটি ব্যবস্থা একটি ‘অতীতের নিদর্শন’।

তিনি এটিকে স্নায়ুযুদ্ধের সময়ের উত্তরাধিকার হিসেবে বর্ণনা করেন। ওই সময় তেলসমৃদ্ধ আরব উপসাগরীয় দেশগুলোতে সোভিয়েত ইউনিয়নের সম্ভাব্য আক্রমণ এবং পরবর্তী সময়ে ইরাক ও আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্রোহ বিরোধী অভিযানের কথা মাথায় রেখে এই ঘাঁটিগুলো তৈরি করা হয়েছিল।

তিনি আরো বলেন, ‘বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের রণকৌশল মাঠ পর্যায়ের বাস্তবতার সঙ্গে মিলছে না।’

জেনারেল ম্যাকেঞ্জির এই মন্তব্য মিডল ইস্ট আইয়ের (এমইই) গত জুনের একটি প্রতিবেদনেরই প্রতিধ্বনি, যেখানে সাবেক মার্কিন কর্মকর্তা ও বিশ্লেষকেরা বলেছিলেন চলমান যুদ্ধে ইরানের শক্তি প্রকাশের পর মার্কিন ঘাঁটি ব্যবস্থা পুনর্গঠনের প্রয়োজন হতে পারে। মূলত ইরান ইতোমধ্যে মার্কিন বাহিনীকে উপসাগরীয় উপকূল থেকে দূরে সরে যেতে বাধ্য করেছে। রিয়াদের দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটিতে ইরানের তীব্র হামলার পর গত মার্চ মাসে যুক্তরাষ্ট্র যে সৌদি আরবের তায়েফ বিমান ঘাঁটিতে প্রবেশাধিকার পেয়েছে, সেই খবর ‘মিডল ইস্ট আই’ প্রথম প্রকাশ করেছিল।

উপসাগরীয় উপকূল বরাবর থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ইরান তীব্র আঘাত হেনেছে। ইসলামিক রিপাবলিক ইরান যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম ফ্লিটের সদর দপ্তর বাহরাইন, সেন্টকমের সদর দপ্তর কাতার এবং কুয়েত ও ইউএইর বিমান ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানায়। স্যাটেলাইট চিত্রে একটি ক্ষতিগ্রস্ত ঘাঁটি সচল দেখালেও তা বিভ্রান্তিকর হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন ম্যাকেঞ্জি।

তিনি বলেন, ঘাঁটির হ্যাঙ্গার, রাডার বা ব্যারাক ধ্বংস হলেও এর ভূগর্ভস্থ জ্বালানিব্যবস্থা ও রানওয়ে অক্ষত থাকতে পারে, যা যুদ্ধবিমান ওঠানামার উপযোগী থাকে।

ম্যাকেঞ্জি বলেন, ‘এখন পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে সম্ভাব্য শত্রুর কাছাকাছি থাকা যুদ্ধের জন্য সুবিধাজনক, কারণ সেখানে কম সময়ে পৌঁছানো যায়। কিন্তু শত্রুর কাছাকাছি থাকা একই সঙ্গে বিপজ্জনকও, কারণ সে খুব দ্রুত আপনার ওপর আঘাত হানতে পারে।’

আরব অংশীদারদের সঙ্গে সংহতি প্রদর্শনের জন্য উপসাগরীয় দেশগুলোতে মার্কিন উপস্থিতি বজায় রাখার পক্ষে মত দেন ম্যাকেঞ্জি। তবে দীর্ঘমেয়াদে মার্কিন বাহিনীকে ইসরাইল, মিশর এবং সৌদি আরবের লোহিতসাগর উপকূলে স্থানান্তরের কথা বলেন তিনি।

তার মতে, অন্য দেশের তুলনায় ইসরাইলে প্রবেশাধিকার, ঘাঁটি স্থাপন এবং ওভারফ্লাইট (এবিও) সংক্রান্ত বিধিনিষেধ সবচেয়ে কম থাকবে। একই সঙ্গে ইসরাইল উপসাগরীয় দেশগুলোর তুলনায় উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার সুরক্ষাও দিতে পারবে।

যুদ্ধের শুরুতে উপসাগরীয় দেশগুলো তাদের আকাশসীমা ব্যবহার করে ইরানে হামলা চালাতে যুক্তরাষ্ট্রকে বাধা দিয়েছিল। পরে সৌদি আরব ও ইউএই মার্কিন হামলায় যোগ দিলেও এবং ট্রাম্প প্রশাসনের এবিও অনুরোধ অনুমোদন করলেও যুদ্ধ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সৌদি আরব তার ভেটো ক্ষমতা ব্যবহার করে ইরানে নতুন মার্কিন হামলা প্রতিরোধ করেছিল বলে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে।

ম্যাকেঞ্জি ব্যাখ্যা করেন, যুদ্ধবিমান উড্ডয়নের পর তা কোথায় যাবে সে বিষয়ে স্বাগতিক দেশগুলোর একটি বক্তব্য থাকে। তবে ইসরাইলে এই বিধিনিষেধ সবচেয়ে কম থাকবে বলেই জায়গাটি মার্কিন বিমানগুলোর জন্য বিশেষভাবে আকর্ষণীয়।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

এএম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন