ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন। ৮৬ বছর বয়সি এই ধর্মীয় নেতা গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় মারা যান। এ সময় খামেনির মেয়ে, নাতি, পুত্রবধূ এবং জামাতাও নিহত হন। এছাড়া আরো বেশ কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন বলে গতকাল রোববার নিশ্চিত করেছে তেহরান। দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদও ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এতে দেশটিতে শোকের ছায়া নেমে আসে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান খামেনির হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে একে ‘মহা অপরাধ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। খামেনির মৃত্যুতে ইরানে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। প্রতিবেশী দেশ ইরাকও তিনদিনের শোক ঘোষণা করেছে। খবর আলজাজিরা ও বিবিসির।
হামলাটি অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে ইসরাইল চালালেও তথ্য সরবরাহ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ। সে তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ইসরাইল হামলার সময়সূচি পরিবর্তন করে দিনের আলোতেই আঘাত হানে।
হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইসরাইলসহ মধ্যপ্রাচ্যের অধিকাংশ দেশে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছোড়া অব্যাহত রেখেছে তেহরান। হামলায় তেল আবিবের প্রায় ৪০টি ভবন ধ্বংস হয়েছে বলে জানা গেছে। আর জেরুসালেমের পশ্চিমে বেইত শেমেশ এলাকায় ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে কমপক্ষে ৯ জন নিহত এবং ২০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন। সাইপ্রাসেও ছোড়া হয়েছে ক্ষেপণাস্ত্র। এছাড়া হরমুজ প্রণালিতে একটি জাহাজে হামলার খবর পাওয়া গেছে।
ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী জানিয়েছে, মার্কিন বিমানবাহী রণতরী আব্রাহাম লিংকনে চারটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। স্থল ও সমুদ্র ক্রমশ আগ্রাসকদের কবরস্থানে পরিণত হবে।
তবে মার্কিন বিমানবাহী রণতরীতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে কি না, তা যাচাই করা যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ইয়েমেনে যুক্তরাষ্ট্রের তিন সেনা নিহত এবং পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
কুয়েতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ অঞ্চলে উত্তেজনার মধ্যে কুয়েতে একজন নিহত হয়েছেন এবং আরো ৩২ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, ইরানের হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ৫৮ জন। নিহতরা পাকিস্তান, নেপাল ও বাংলাদেশের।
ইরান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যার শোধ নিতে এমন হামলা করা হবে যা অতীতে দেখা যায়নি। খামেনিকে হত্যার প্রতিবাদে পাকিস্তানের করাচি, ইরাকের বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে করাচিতে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছেন। বিক্ষোভ হয়েছে ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরসহ দেশটির বিভিন্ন শহরে।
এদিকে ইসরাইলও ইরানের বিভিন্ন শহরে হামলা অব্যাহত রেখেছে। গতকাল দেশটির সেনাবাহিনী জানায়, ইরানে এ পর্যন্ত ১২০০ বোমা ফেলা হয়েছে। এসব হামলায় গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ৫৭ জন নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আর শনিবার ইরানের প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয়ে হওয়া হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪৮-এ। হুমকি দিয়ে তেল আবিব বলেছে, তারা কেবল হামলা শুরু করেছে। এখনো তাদের কমপক্ষে কয়েক দিনের অভিযান বাকি রয়েছে। ইরানের হুমকির প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, পাল্টা হামলা না চালানোটাই তাদের জন্য ভালো হবে। যদি হামলা করে তারা তাহলে এমন মার মারব যা অতীতে কেউ দেখেনি। এর আগে ট্রাম্প খামেনির মৃত্যুর খবর দিয়ে বলেছিলেন, ইতিহাসের সবচেয়ে খারাপ ব্যক্তিদের একজন খামেনি মারা গেছেন। শনিবার রাতে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছিলেন, খামেনি মারা গেছেন এমন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। ইসরাইল দাবি করেছে, হামলায় অন্তত ইরানের ৪০ শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। এছাড়া আরো হামলা আসছে।
খামেনির অবস্থান শনাক্ত করে সিআইএ, বোমা ফেলে ইসরাইল
ইরানের শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতারা যে শনিবার সকালে তেহরানের একটি সরকারি কম্পাউন্ডে বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন, সে তথ্য আগেই জেনে গিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ। যুক্তরাষ্ট্র ওই তথ্য দেয় ইসরাইলকে। এর ভিত্তিতে ইসরাইল হামলার সময়সূচি পরিবর্তন করে দিনের আলোতেই আঘাত হানে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনিসহ ডজনখানেক শীর্ষ কর্মকর্তা ওই হামলায় নিহত হন।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে লিখেছে, ইসরাইলি জঙ্গিবিমান খামেনির কম্পাউন্ডে ৩০টি বোমা নিক্ষেপ করে। তাতে ওই কম্পাউন্ড পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়ে যায়। অভিযান শুরু হয় ইসরাইলের সময় শনিবার সকাল ৬টার দিকে। তেহরান সময় সকাল প্রায় ৯টা ৪০ মিনিটে, অর্থাৎ জঙ্গিবিমান ওড়ার দুই ঘণ্টা পাঁচ মিনিট পর কম্পাউন্ডে আঘাত হানে বোমা।
নিউ ইয়র্ক টাইমস লিখেছে, সিআইএ কয়েক মাস ধরে খামেনির গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছিল এবং তার অবস্থান ও চলাচলের ধরন সম্পর্কে ক্রমশ নিশ্চিত হচ্ছিল। এর ধারাবাহিকতায় সিআইএ জানতে পারে, শনিবার সকালে তেহরানের কেন্দ্রস্থলে একটি কম্পাউন্ডে শীর্ষ ইরানি কর্মকর্তাদের বৈঠক হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সেখানে উপস্থিত থাকবেন খামেনি। যা পরে ইসরাইলকে জানানো হয়।
ইসরাইলি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে নিউ ইয়র্ক টাইমস লিখেছে, গোয়েন্দারা একটি নয়, একযোগে তিনটি বৈঠকের তথ্য শনাক্ত করেছিলেন। বৈঠকগুলো হচ্ছিল ইরানের প্রেসিডেন্সি কার্যালয়, সর্বোচ্চ নেতার দপ্তর এবং জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের কার্যালয়ে। ইসরাইলের মূল পরিকল্পনা ছিল রাতের অন্ধকারে হামলা চালানো। কিন্তু দিনের বেলায় বৈঠকের তথ্য পাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল হামলার সময় পরিবর্তন করে।
ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সি বলেছে, নিজ কার্যালয়ে খামেনির মৃত্যু প্রমাণ করে যে তিনি আত্মগোপনে গেছেন বলে যেসব খবর দেওয়া হচ্ছিল সেগুলো ছিল ‘শত্রুর মনস্তাত্ত্বিক লড়াই’।
তার সঙ্গে বেশ কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাও নিহত হয়েছেন। তারা হচ্ছেন— প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ, সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান আব্দুর রহিম মুসাভি, ইসলামিক রেভুলিউশনারি গার্ড কর্পসের প্রধান মোহাম্মদ পাকপুর এবং ডিফেন্স কাউন্সিলের সচিব আলি শামখানি।
ইরানের হুমকি
ইসরাইলসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন শহরে হামলা অব্যাহত রেখেছে ইরান। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ২৭টি ঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে তেহরান। এছাড়া খামেনি হত্যার প্রতিশোধ নিতে ভয়াবহ হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছে উপসাগরীয় দেশটি।
সর্বোচ্চ নেতা খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান গতকাল রোববার বলেন, আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে, বিশেষ করে শিয়া মুসলিমদের বিরুদ্ধে। প্রতিশোধের হুঙ্কার দিয়ে তিনি আরো বলেন, তার হত্যার শোধ নেওয়া আমাদের দায়িত্ব ও অধিকার।
ইরানজুড়ে শোক ও বিক্ষোভ
দেশটির সর্বোচ্চ নেতা খামেনিকে হত্যার প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে এসেছেন লাখ লাখ ইরানি। তারা অপূরণীয় এ ক্ষতির প্রতিশোধ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান খামেনি নিহত হওয়ায় ৪০ দিনের শোক ঘোষণা করেছেন। একই সঙ্গে দিয়েছেন ৭ দিনের সরকারি ছুটির ঘোষণা।
ইসরাইলের অব্যাহত হামলার মধ্যেই তেহরানের বাসিন্দারা রাস্তায় নেমে খামেনিকে হত্যার প্রতিবাদ জানিয়েছেন। এছাড়া শিরাজ, ইয়াসুজ ও লোরেস্তানেও বিক্ষোভ হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে সম্প্রচারিত ফুটেজে মাশহাদে ইমাম রেজার মাজারে সমর্থকদের শোক প্রকাশ করতে দেখা গেছে।
আরাফি অন্তর্বর্তীকালীন নেতৃত্ব পরিষদের সদস্য
গার্ডিয়ান কাউন্সিলের অন্তর্বর্তীকালীন নেতৃত্ব পরিষদে জুরিস্ট বা আইনজ্ঞ পদে আলিরেজা আরাফি নির্বাচিত হয়েছেন। খামেনি নিহত হওয়ার পর তিনি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং বিচার বিভাগের প্রধান গোলাম-হোসেইন মোহসেনি-এজেই নতুন নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত দেশটির সর্বোচ্চ নেতার ভূমিকা পালন করবেন।
মার্কিন বিমানবাহী রণতরীতে হামলা
ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী জানিয়েছে, মার্কিন বিমানবাহী রণতরী আব্রাহাম লিংকনে চারটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে এবং স্থল ও সমুদ্র ক্রমশ আগ্রাসকদের কবরস্থানে পরিণত হবে। তবে মার্কিন বিমানবাহী রণতরীতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে কি না, তা যাচাই করা যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্যের তেল ট্যাংকারে হামলার দাবি ইরানের
পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে তিনটি মার্কিন ও ব্রিটিশ তেল ট্যাংকারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে ইরান। তবে তাৎক্ষণিকভাবে ইরানের এ দাবির সত্যতা যাছাই করা যায়নি। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে এ দাবি করা হয়। আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, হামলার পর ট্যাংকারগুলোয় আগুন লেগে যায়।
আত্মরক্ষার ‘কোনো সীমা নেই’Ñইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি হামলার প্রতিশোধ না নিতে ইরানকে দেওয়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পে সতর্কবাণী প্রত্যাখ্যান করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি।
এবিসি নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, দেশের আত্মরক্ষার কোনো সীমা নেই। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যা করছে, তা আগ্রাসন। আমরা যা করছি, তা আত্মরক্ষা। এ দুটির মধ্যে বিশাল পার্থক্য রয়েছে।
আরাকচি আরো বলেন, কেউ আমাদের বলতে পারবে না যে তোমাদের আত্মরক্ষার কোনো অধিকার নেই। যা কিছু করতে হয় আমরা তা করছি এবং আমাদের জনগণকে রক্ষার জন্য আমরা নিজেদের জন্য কোনো সীমা দেখতে পাচ্ছি না।
৯ ইরানি নৌযান ধ্বংসের দাবি ট্রাম্পের
ইরানের তুলনামূলকভাবে বড় ও গুরুত্বপূর্ণ ৯টি নৌযান ধ্বংস ও ডুবিয়ে দেওয়ার দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গতকাল ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এ দাবি করেন। তিনি বলেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের নৌ সদর দপ্তর ‘ব্যাপকভাবে ধ্বংস’ করেছে। আমেরিকা এখন ইরানের নৌবহরের বাকি অংশের পেছনে ছুটছে। তারা শিগগির সমুদ্রের তলদেশে ভাসতে থাকবে।
ইসরাইলের পাল্টা হুমকি
তেল আবিবও ইরানে পাল্টা হামলার হুমকি দিয়েছে। দেশটির সেনাবাহিনী বলেছে, তারা কেবল হামলা শুরু করেছে। এখনো তাদের কমপক্ষে কয়েক দিনের অভিযান বাকি রয়েছে।
পরে ইসরাইলের সেনাবাহিনী জানায়, তারা ইরানি সরকারের লক্ষ্যবস্তু ‘তেহরানের কেন্দ্রস্থলে’ হামলা চালিয়েছে। দেশটির বিমান বাহিনী সেনা গোয়েন্দা সংস্থার নির্দেশনায় একের পর এক হামলা শুরু করেছে।
এর আগে শনিবারের হামলায় অন্তত ৪০ শীর্ষ ইরানি নেতাকে হত্যা করার দাবি করে ইসরাইলের সেনাবাহিনী।
তেহরানে শক্তিশালী বিমান হামলা চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ বলেছেন, সেনাবাহিনী ইরানি শাসনের স্থানগুলো লক্ষ্য করে তীব্র হামলা চালাচ্ছে।
খামেনি যেভাবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হলেন
বিশ্বের অন্য অনেক দেশের তুলনায় ইরানের শাসন পদ্ধতি বেশ আলাদা। সেখানে নির্বাচনের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট বা সংসদ সদস্যরা নির্বাচিত হলেও দেশের মূল ক্ষমতা রয়েছে সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার হাতে। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি।
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার শাসনের এই ব্যবস্থা চালু হয় ১৯৭৯ সালে ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে। এক বিপ্লবের মাধ্যমে ইরানে রেজা শাহ পাহলভীর রাজতন্ত্রকে উৎখাত করা হয়। তাকে উৎখাতের পর ইরানে ধর্মীয় প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়।
১৯৮৯ সালে রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর ইরানের ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্ট’ আলি খামেনিকে দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা নির্বাচন করে।
সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে খামেনি দেশটির সামরিক বাহিনীর কমান্ডার-ইন-চিফ ছিলেন। এছাড়া দেশের সব বড় বা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে তার সম্মতি দরকার হয়।
এমনকি ইরান পারমাণবিক ক্ষমতার অধিকারী হবে কি-না অথবা জাতিসংঘের আণবিক শক্তি সংস্থাকে সহযোগিতা করবে কি-না, এসবের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তেও তার মতামত দরকার হয়।
তিনি ছিলেন ইরানের সবটুকুজুড়েই
ইরানিদের জন্য খামেনি শুধু একজন ধর্মীয় নেতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন আরো বেশিকিছু। বলতে গেলে ইরানের সবকিছুতেই তিনি জড়িয়ে ছিলেন অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে।
তিনি ছিলেন একাধারে সরকারের প্রধান, সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক, দেশটির অর্থনীতির নেতা, সমাজের নেতা এবং রাষ্ট্রপ্রধান। শুধু তাই নয় ইরানের সংবিধান অনুযায়ী খামেনিকে সারা বিশ্বের মুসলমানদের নেতা হিসেবেও বিবেচনা করা হয়।
এছাড়া ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, তার কিছু ক্ষমতা বা অধিকারকে ঈশ্বরপ্রদত্ত বলেও ধরা হয়। ফলে তার সব আদেশ বা নির্দেশ ইরানিদের জন্য চূড়ান্তভাবে বাধ্যতামূলক ছিল।
খামেনিকে হত্যার নিন্দা পুতিন ও শাহবাজ শরিফের
খামেনিকে হত্যার নিন্দা জানিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি বলেন, এ হত্যাকাণ্ড মানবিক নৈতিকতা ও আন্তর্জাতিক আইনের সব মানদণ্ড লঙ্ঘন করেছে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও খামেনিকে হত্যার প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনিকে হত্যা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। পাকিস্তানের জনগণ ইরানের জনগণের শোক ও দুঃখের মুহূর্তে তাদের সঙ্গে রয়েছে এবং খামেনির শাহাদতের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছে।
হুমকি মোকাবিলায় ন্যাটো বাহিনীর সমন্বয়
ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্যের ঘটনাবলি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে ন্যাটো। জোটটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইউরোপে তাদের শীর্ষ কমান্ডার ‘সম্ভাব্য হুমকি’ থেকে রক্ষা করার জন্য প্রয়োজন অনুসারে বাহিনী সমন্বয় করছেন। ন্যাটোর এক মুখপাত্র বলেন, ন্যাটোর সর্বোচ্চ মিত্রবাহিনীর ইউরোপ কমান্ডার, মার্কিন জেনারেল অ্যালেক্সাস গ্রিনকিউইচ, আটলান্টিকের উভয় পাশের সামরিক নেতাদের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে এবং নিয়মিতভাবে কথা বলছেন।
কাতারের আমিরকে ইরাকি প্রেসিডেন্টের টেলিফোন
ইরাকের প্রেসিডেন্ট ড. আব্দুল লতিফ জামাল রশিদ কাতারের আমির তামিম বিন হামাদ বিন খলিফা আল থানির সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন।
কাতারের আমিরের প্রশাসনিক কার্যালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, কাতারে ইরানের আগ্রাসনের পর ইরাকের পক্ষে সংহতি প্রকাশ করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট। ইরাকের প্রেসিডেন্টের ‘ভ্রাতৃত্বপূর্ণ অনুভূতির’ জন্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন কাতারের আমির।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

