আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

আফ্রিকায় অর্থনৈতিক প্রভাব ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

আমার দেশ অনলাইন

আফ্রিকায় অর্থনৈতিক প্রভাব ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
ছবি: সংগৃহীত।

এক দশকের বেশি সময় ধরে ওঠানামা করা সম্পর্কের পর আফ্রিকায় নিজের অর্থনৈতিক অবস্থান ধরে রাখতে লড়াই করছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে ক্রমবর্ধমান দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য এখনো মোট মার্কিন বাণিজ্যের একটি প্রতীকী অংশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ বলে মন্তব্য করেছেন একজন তুরস্কভিত্তিক শিক্ষাবিদ।

তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারার হাচি বায়রাম ভেলি বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ইউনুস তুরহান আনাদোলুকে বলেন, মার্কিন আদমশুমারি ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী ২০১৪ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও আফ্রিকার মধ্যে বাণিজ্যে বড় ধরনের ওঠানামা দেখা গেছে। খবর আনাদোলু এজেন্সির

বিজ্ঞাপন

তার মতে, ২০১৪ সালে আফ্রিকায় মার্কিন রপ্তানি ছিল ৩৮ বিলিয়ন ডলার এবং আমদানি ৩৪.৬ বিলিয়ন ডলার, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য উদ্বৃত্তে ছিল। তবে ২০১৫ সালেই সেই চিত্র বদলে যায়। ওই বছর রপ্তানি নেমে আসে ২৭.১ বিলিয়ন ডলারে এবং আমদানি কমে দাঁড়ায় ২৫.৩ বিলিয়ন ডলারে।

করোনাভাইরাস মহামারীর সময় ২০২০ সালে রপ্তানি নেমে আসে ২১.৯ বিলিয়ন ডলারে এবং আমদানি কমে দাঁড়ায় ২৩.৭ বিলিয়ন ডলারে। তবে ২০২১ সালে পুনরুদ্ধার শুরু হয়। ওই বছর রপ্তানি বেড়ে ২৭.৭ বিলিয়ন ডলার এবং আমদানি ৩৭.৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছে। ২০২২ সালে আমদানি সর্বোচ্চ ৪১.৭ বিলিয়ন ডলারে ওঠে।

২০২৩ সালে রপ্তানি কমে ২৮.৬ বিলিয়ন ডলারে এবং আমদানি দাঁড়ায় ৩৮.৫ বিলিয়ন ডলারে। ২০২৪ সালে রপ্তানি বেড়ে হয় ৩২.৩ বিলিয়ন ডলার, আর আমদানি ৩৯.৫ বিলিয়ন ডলার। ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত রপ্তানি পৌঁছেছে ৩৪ বিলিয়ন ডলারে, যেখানে আমদানি কমে দাঁড়িয়েছে ৩৭.৮ বিলিয়ন ডলারে।

ইউনুস তুরহান বলেন, গত এক দশকে যুক্তরাষ্ট্র ও আফ্রিকার মধ্যে বার্ষিক গড় বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ৭০ থেকে ৮০ বিলিয়ন ডলার। তবে ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মোট বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ৭.৩৭ ট্রিলিয়ন ডলার, যার মধ্যে আফ্রিকার অংশ মাত্র ১.১ শতাংশ।

তার ভাষায়, এই পরিসংখ্যান স্পষ্টভাবে দেখায় যে যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক বাণিজ্যে আফ্রিকার অবস্থান এখনো প্রতীকী পর্যায়েই রয়ে গেছে।

তিনি বলেন, ২০০০ সালে চালু হওয়া আফ্রিকান গ্রোথ অ্যান্ড অপরচুনিটি অ্যাক্ট (এজিওএ) আফ্রিকার সঙ্গে বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এই কর্মসূচির আওতায় ৩২টি আফ্রিকান দেশ ১,৮০০টিরও বেশি পণ্য শুল্কমুক্তভাবে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করতে পারছে। ২০০২ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে এই কর্মসূচির আওতায় আফ্রিকায় মার্কিন রপ্তানির পরিমাণ প্রায় ৫০০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

সম্প্রতি মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদ এজিওএ আরও তিন বছরের জন্য বাড়ানোর একটি বিল পাস করেছে বলেও জানান তিনি।

ইউনুস তুরহান বলেন, আফ্রিকান নেতারা এবং ট্রাম্প প্রশাসন উভয়ই বিদেশি সাহায্যনির্ভর সম্পর্কের বাইরে গিয়ে বাণিজ্য ও বিনিয়োগভিত্তিক একটি নতুন মডেলের দিকে এগোতে চায়।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও আফ্রিকার মধ্যে বাণিজ্য এখনো মূলত তেলনির্ভর। এজিওএ কার্যকর হওয়ার পর দুই অঞ্চলের মধ্যে বাণিজ্য ৮৬ শতাংশ বেড়েছে, যেখানে একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক বৈশ্বিক বাণিজ্য বেড়েছে ১৬৮ শতাংশ।

তুরহানের মতে, আফ্রিকায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছে চীন ও রাশিয়া। চীনের শুল্ক কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে আফ্রিকার সঙ্গে চীনের বাণিজ্য পৌঁছেছে ৩১৪ বিলিয়ন ডলারে। অন্যদিকে, ২০২৪ সালে রাশিয়া ও আফ্রিকার মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল মাত্র ২৪.৫ বিলিয়ন ডলার, যার বেশিরভাগই রাশিয়ার রপ্তানি।

তিনি বলেন, চীন ও রাশিয়া জাতিসংঘে আফ্রিকান ইস্যুতে প্রায়ই একসঙ্গে ভোট দেয় এবং আফ্রিকায় তাদের অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সম্পৃক্ততা বাড়ছে। এই বাস্তবতা ওয়াশিংটনের জন্য উদ্বেগজনক।

ইউনুস তুরহান বলেন, এই প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের উচিত তুরস্কের মতো অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করা। তার মতে, আফ্রিকায় কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও উন্নয়ন লক্ষ্যের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করাই এখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান চ্যালেঞ্জ।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন