ইন্দোনেশিয়ার দক্ষিণ সুলাওয়েসি প্রদেশের দুর্গম ও কুয়াশাচ্ছন্ন পাহাড়ি এলাকায় নিখোঁজ হওয়া একটি মৎস্য নজরদারি বিমানের ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে বিমানটিতে থাকা ১১ জন আরোহীর কেউ এখনো উদ্ধার হননি বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
ইন্দোনেশিয়া এয়ার ট্রান্সপোর্ট গ্রুপের মালিকানাধীন বিমানটি শনিবার (১৭ জানুয়ারি) দুপুর আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটে মারোস অঞ্চলের ওপর দিয়ে উড্ডয়নের সময় বিমান নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে।
বিমানটিতে আটজন ক্রু সদস্য এবং তিনজন যাত্রী ছিলেন। যাত্রীরা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা এবং মৎস্যক্ষেত্র পর্যবেক্ষণের কাজে বিমানটি ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। বিমানটি যোগকার্তা প্রদেশ থেকে দক্ষিণ সুলাওয়েসির রাজধানী মাকাসারের উদ্দেশে যাচ্ছিল।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) সকালে স্থানীয় উদ্ধারকারী দল মারোস অঞ্চলের মাউন্ট বুলুসারাউং পাহাড়ের আশপাশে বিমানের ধ্বংসাবশেষ শনাক্ত করে। উদ্ধার সংস্থার কর্মকর্তা আন্দি সুলতান জানান, সকাল ৭টা ৪৬ মিনিটে একটি হেলিকপ্টারের ক্রু বিমানের জানালার ভাঙা অংশ দেখতে পান, যা পরে ধ্বংসাবশেষের অবস্থান নিশ্চিত করতে সহায়তা করে।
দক্ষিণ সুলাওয়েসির উদ্ধার সংস্থার প্রধান মুহাম্মদ আরিফ আনোয়ার বলেন, ধ্বংসাবশেষ পাওয়ার পর উদ্ধার কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে এবং প্রয়োজনে প্রায় ১,২০০ জন উদ্ধারকর্মী মোতায়েন করা হবে। তিনি জানান, নিখোঁজদের সন্ধানই এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার এবং কিছু আরোহী জীবিত থাকার আশা করা হচ্ছে।
তবে ঘন কুয়াশা, দুর্গম পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি ও প্রবল বাতাস উদ্ধার অভিযানে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। উদ্ধার সংস্থার প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, বিমানের বিভিন্ন অংশ পাহাড়জুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে।
এদিকে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় পরিবহন নিরাপত্তা কমিটি তদন্ত শুরু করবে বলে জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের বিমান দুর্ঘটনার পেছনে সাধারণত একাধিক কারণ একসঙ্গে কাজ করে।
এসআর
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

