মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তথাকথিত ‘শান্তির বোর্ড’-এর সদস্য হিসেবে সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার ও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে মনোনীত করেছেন। ট্রাম্প জানিয়েছেন, এই বোর্ড গাজার শাসনব্যবস্থা ও পুনর্গঠনের তত্ত্বাবধান করবে।
ট্রাম্পের সভাপতিত্বে সাত সদস্যের এই শক্তিশালী বোর্ডে আরও রয়েছেন মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ, বিশ্বব্যাংকের সভাপতি অজয় বাঙ্গা এবং প্রেসিডেন্টের জামাতা জ্যারেড কুশনার।
মিডিল ইস্ট আইয়েরসংবাদে এসেছে, সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারের অন্তর্ভুক্তি অঞ্চলজুড়ে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে তাকে অনেকেই যুদ্ধাপরাধী হিসেবে দেখে থাকেন। বিশেষ করে ২০০৩ সালে মার্কিন নেতৃত্বাধীন ইরাক আক্রমণ ও দখলে তার ভূমিকার কারণে এই নিয়োগকে অত্যন্ত বিতর্কিত বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে যাওয়ার পর ব্লেয়ারের প্রতিষ্ঠিত পরামর্শক সংস্থা টনি ব্লেয়ার ইনস্টিটিউট বা টিবিআই মিশর, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবসহ বিভিন্ন স্বৈরাচারী সরকারকে পরামর্শ দেওয়ার কারণে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে।
২০১৪ সালে মিশরের প্রথম গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর ব্লেয়ার দেশটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসিকে পরামর্শ দিয়েছিলেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। যদিও টিবিআই এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
এছাড়া টিবিআই অবৈধ ইসরাইলি বসতির সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং একটি আমেরিকান ইসলামোফোবিক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত এক আর্থিক প্রতারকের কাছ থেকেও অর্থ গ্রহণ করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
টনি ব্লেয়ার ইসরাইলের ইহুদি জাতীয় তহবিল বা জেএনএফ-এর যুক্তরাজ্য শাখার সম্মানসূচক পৃষ্ঠপোষক হিসেবেও যুক্ত। এই সংস্থাটি ‘ইসরাইলের বৃহত্তম মিলিশিয়া’ হিসেবে পরিচিত একটি গোষ্ঠীকে এক মিলিয়ন পাউন্ড অনুদান দেওয়া এবং সরকারি মানচিত্র থেকে ফিলিস্তিন মুছে ফেলার মতো কর্মকাণ্ডের কারণে ব্যাপক সমালোচিত।
সম্প্রতি টিবিআই গাজার জন্য একটি যুদ্ধ-পরবর্তী পরিকল্পনার সঙ্গেও যুক্ত ছিল, যা আন্তর্জাতিক মহলে নিন্দিত হয়েছে। ওই পরিকল্পনায় গাজাকে একটি বাণিজ্যিক কেন্দ্রে রূপান্তর করা এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত উপত্যকা থেকে ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করার ধারণা অন্তর্ভুক্ত ছিল।
ব্লেয়ারের নিয়োগ বিতর্কিত বলে স্বীকার করে ট্রাম্প গত অক্টোবরে বলেন, তিনি টনি ব্লেয়ারকে ব্যক্তিগতভাবে পছন্দ করেন, তবে তিনি সবার কাছে গ্রহণযোগ্য কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
এএফপিকে পাঠানো এক বিবৃতিতে টনি ব্লেয়ার বলেন, শান্তি বোর্ড প্রতিষ্ঠায় নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানান এবং নির্বাহী বোর্ডে যুক্ত হতে পেরে নিজেকে সম্মানিত মনে করছেন।
এই শান্তি পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ শুরু হয়েছে এমন এক সময়ে, যখন ইসরায়েল গাজায় ত্রাণ প্রবাহের ওপর ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। শীতকালীন প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে সেখানে ফিলিস্তিনিদের মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েই চলেছে।
ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় ৭১ হাজার ৪০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে অন্তত এক লাখ ৭১ হাজার মানুষ।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

