আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

ফিলিপাইনে ফেরিডুবি, নিহত বেড়ে ১৮

আমার দেশ অনলাইন

ফিলিপাইনে ফেরিডুবি, নিহত বেড়ে ১৮

দক্ষিণ ফিলিপাইনের উপকূলে উত্তাল সমুদ্রে সোমবার ভোরে ৩৫০ জনের বেশি যাত্রী বহনকারী একটি ফেরি ডুবে অন্তত ১৮ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এখনো ২৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির কোস্টগার্ড।

বিজ্ঞাপন

ম্যানিলা থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, ‘এমভি ত্রিশা কেরস্টিন–৩’ নামের ফেরিটি স্থানীয় সময় রাত ১টা ৫০ মিনিটে বিপৎসংকেত পাঠায়। এর প্রায় চার ঘণ্টা আগে ফেরিটি মিন্দানাও দ্বীপের জাম্বোয়াঙ্গা সিটি বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করেছিল।

বাসিলান প্রদেশের গভর্নরের প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, বেঁচে যাওয়া যাত্রীদের খালি পায়ে কম্বলে মুড়ে স্ট্রেচারে তোলা হচ্ছে। নিহতদের লাশ বডি ব্যাগে করে সরিয়ে নেওয়া হয়।

তিনতলাবিশিষ্ট এই ফেরি বাসিলান প্রদেশের বালুক-বালুক দ্বীপের প্রায় পাঁচ কিলোমিটার পূর্বে ডুবে যায়। উল্লেখ্য, একই রুটে ২০২৩ সালে ‘লেডি মেরি জয়–৩’ ফেরিতে অগ্নিকাণ্ডে ৩১ জন নিহত হয়েছিল। দুটি জাহাজই স্থানীয় অ্যালেসন শিপিং লাইন্সের মালিকানাধীন।

ফিলিপাইন কোস্টগার্ড জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত অন্তত ৩১৭ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার ও অনুসন্ধান অভিযান চলমান রয়েছে।

ইসাবেলা সিটির এক উদ্ধারকর্মী শেরিল বালোনদো জানান, উদ্বিগ্ন স্বজনদের কাছ থেকে তাদের দপ্তরে ১০০টিরও বেশি ফোন এসেছে। তিনি বলেন, উদ্ধার অভিযান চলায় এখনো নিখোঁজ ও নিহতদের চূড়ান্ত তালিকা করা সম্ভব হয়নি।

কোস্টগার্ডের মুখপাত্র নোএমি কায়াবিয়াব জানান, প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী দুর্ঘটনার সময় সমুদ্র ছিল অত্যন্ত উত্তাল। এদিকে বাসিলানের জরুরি উদ্ধার দপ্তরের কর্মকর্তা রোনালিন পেরেজ বলেন, একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক আহত ও উদ্ধারপ্রাপ্তকে সামলাতে গিয়ে উদ্ধারকারীরা জনবল সংকটে পড়েছেন। অন্তত ১৮ জনকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

দক্ষিণ মিন্দানাও অঞ্চলের কোস্টগার্ড কমান্ডার রোমেল দুয়া বলেন, দুর্ঘটনার কারণ জানতে সামুদ্রিক তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে আপাতত উদ্ধার কার্যক্রমই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাচ্ছে।

কোস্টগার্ডের দাবি, ফেরিটি অতিরিক্ত যাত্রী বহন করছিল না। অন্যদিকে, অ্যালেসন শিপিং লাইন্স এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, জাহাজে থাকা সবার জন্য তারা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন এবং কোস্টগার্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে।

উল্লেখ্য, ৭ হাজারের বেশি দ্বীপ নিয়ে গঠিত ফিলিপাইনে আন্তঃদ্বীপ নৌযান দুর্ঘটনা নতুন নয়। দুর্বলভাবে নিয়ন্ত্রিত ফেরির ওপর নির্ভরতার কারণে অতীতেও বহু প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটেছে। ১৯৮৭ সালে ‘ডোনা পাজ’ ফেরি দুর্ঘটনায় ৪ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়, যা শান্তিকালে বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ সামুদ্রিক দুর্ঘটনা হিসেবে পরিচিত।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...