একাধিকবার সতর্ক করেছেন বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। কিন্তু তারপরও রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বিক্ষিপ্ত অশান্তি অব্যাহত। বিভিন্ন জায়গায় বিজেপি বুলডোজার নিয়ে বিজয় মিছিলও করেছে। উত্তরবঙ্গ থেকে কার্যত সাফ হয়ে গেছে তৃণমূল।
জলপাইগুড়ির ময়নাগুড়ি ব্লকের বিভিন্ন এলাকায় মুসলিমদের দোকান জোর করে বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিজেপির বিরুদ্ধে। উত্তর ও দক্ষিণ দুই ২৪ পরগনাতেও কিছু কিছু এলাকায় গণ্ডগোলের খবর গেছে। ভোটপরবর্তী হিংসায় একাধিক মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে।
কলকাতার বেলেঘাটায় বিশ্বজিৎ পট্টনায়ক নামে এক তৃণমূলকর্মীর দেহ উদ্ধার হয়েছে বেলেঘাটায়। মৃত যুবকের নাম বিশ্বজিৎ পট্টানায়ক। তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের বুথ এজেন্ট ছিলেন বলে জানা গেছে। মৃতের পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে গণনার দিন সারাদিন বাড়িতেই ছিলেন ওই যুবক। কিন্তু সন্ধ্যায় কিছুক্ষণের জন্য বাইরে যান। আর তারপরেই তার দেহ উদ্ধার হয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা নাগাদ একটা ফোন এলে বেরিয়ে যান বিশ্বজিৎ। এরপর তার সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা যায়নি। পরিবারের লোকজন বাইরে খুঁজতে গিয়ে দেখতে পান দরজা ভাঙা, রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছেন বিশ্বজিৎ। পকেটে ফোনটা পাওয়া গেছে। যদিও সেটা ভাঙা। বেলেঘাটা থানায় ইতোমধ্যেই অস্বাভাবিক মৃত্যুর অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
মঙ্গলবার বিকেলে বিজেপি কর্মীকে পিটিয়ে খুনের অভিযোগে উত্তপ্ত হয়ে উঠল নিউটাউন চত্বর। অভিযুক্তের বাড়ি ঘেরাও করে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় উত্তেজিত জনতা। ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। ভোট পরবর্তী হিংসা বোলপুরেও। নানুরের সন্তোষপুর গ্রামে আবীর শেখ (৪৫) নামে এক তৃণমূল কর্মী নিহত হয়েছে।
বিক্ষিপ্ত অশান্তির খবর মিলেছে নন্দীগ্রামেও। নন্দীগ্রাম ১ ব্লকের হরিপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে হরিপুর অঞ্চল তৃণমূল কংগ্রেস কার্যালয়ের দখল নিল বিজেপি। ফলাফলে বিজেপির এগিয়ে থাকার পরেই নন্দীগ্রামে তৃণমূলের একাধিক আঞ্চলিক কার্যালয়ে ভাঙচুর এবং দখল নিয়েছে বিজেপি। এমনটাই অভিযোগ।
গতকাল হরিপুর অঞ্চল তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যালয়ে রং দিয়ে লিখে দেয়া হয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টির কার্যালয় (হরিপুর)। এই প্রসঙ্গে বিজেপি ভারতীয় জনতা পার্টি জেলা কমিটির সদস্য অশেষ দাস অবশ্য দাবি করেছেন, ২০২০ সাল পর্যন্ত হরিপুর অঞ্চলের এই পার্টি অফিসটি তাদেরই ছিল। মহিষাদল রাজ কলেজে আরএসএসের ছাত্র সংগঠন এবিভিপির সদস্যরা তৃণমূলের পতাকা ও ফেস্টুন ছিঁড়ে দিয়ে নিজেদের পতাকা লাগায়। তাদের অভিযোগ দীর্ঘদিন টিএমসি সব রকম সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত করেছে।
মঙ্গলবারই ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের পার্টি অফিস ভাঙচুর করে বিজেপির পতাকা টাঙিয়ে দেওয়া হল। মঙ্গলবার বিকেলে ফলতার শ্রীরামপুরে এ ঘটনা ঘটেছে। ফলতার এই অফিসে বসেই নির্বাচনি কাজকর্ম করতেন জাহাঙ্গির। মঙ্গলবার সেখানেই প্রায় শতাধিক মানুষ হামলা চালায়। ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি দিতে থাকেন তাঁরা। এরপর তৃণমূলের সেই কার্যালয়ে বিজেপির দলীয় পতাকা টাঙিয়ে দেওয়া হয়।
এদিকে, সোমবার সন্ধ্যা থেকে জেলায় জেলায় তৃণমূলের অফিস দখল করে সেখানে বিজেপির পতাকাও তুলে দেওয়া হয়েছে। বিজেপি নেতৃত্ব সে বিষয়েও দলের কর্মীদের সতর্কবার্তা শুনিয়েছেন। রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেছেন, ‘‘তৃণমূলের হোক বা অন্য কোনও দলের, কারও অফিস দখল করা যাবে না। অন্যের অফিস দখল করে সেখানে বিজেপির পতাকা তোলা যাবে না।’’ এমন ঘটনা নজরে এলে সংশ্লিষ্ট বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপও করা হবে বলেও শমীক সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

