নাৎসি স্যালুটের ভিডিও প্রকাশের পর ক্ষমা চাইলেন সামোয়ার প্রধানমন্ত্রী

নাৎসি স্যালুটের ভিডিও প্রকাশের পর ক্ষমা চাইলেন সামোয়ার প্রধানমন্ত্রী
ছবি: আল-জাজিরা

সামোয়ার প্রধানমন্ত্রী লা‘আউলি লেউয়াতেয়া স্মিট একটি পুরোনো ভিডিও প্রকাশের পর ক্ষমা চেয়েছেন। ভিডিওতে তাকে নাৎসি স্যালুটের ভঙ্গি করে ‘হেইল হিটলার’ বলতে দেখা যায়।

বিজ্ঞাপন

সোমবার তিনি এ ঘটনায় ক্ষমা চান।

স্থানীয় সংবাদপত্র সামোয়া অবজারভার রোববার সাত সেকেন্ডের ওই ভিডিও প্রকাশ করে। এরপর সোমবার শ্মিট ক্ষমা চেয়ে বিবৃতি দেন।

ভিডিওটি ধারণ করা হয়েছিল ২০০৭ সালের জুলাইয়ে সাভাইই দ্বীপে স্মিট পরিবারের এক পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে। তখন শ্মিট ছিলেন পার্লামেন্টের সদস্য ও ডেপুটি স্পিকার।

ভিডিওতে মাইক্রোফোন হাতে স্মিটকে উপস্থিত ব্যক্তিদের সঙ্গে ‘হিপ হিপ’ বলে স্লোগান দিতে দেখা যায়। একপর্যায়ে তিনি সবাইকে ডান হাত ওপরে তুলে ‘হেইল হিটলার’ বলতে বলেন। ভিডিওতে থাকা প্রায় ১০ থেকে ১২ জন মানুষকে তার সঙ্গে একই ভঙ্গি করতে দেখা যায়।

রেডিও নিউজিল্যান্ড (আরএনজেড) জানিয়েছে, সামোয়ায় তাদের প্রতিনিধির মাধ্যমে তারা ভিডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করেছে।

সোমবার স্মিট বলেন, অনুষ্ঠানে তখন যে উদ্দেশ্যই থাকুক না কেন, ওই কথা ও অঙ্গভঙ্গি ছিল অনুপযুক্ত। এ ঘটনায় কেউ আহত বা ক্ষুব্ধ হয়ে থাকলে তিনি তার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন।

স্মিট বলেন, ‘আমি নাৎসিবাদ, ইহুদিবিদ্বেষ, বর্ণবাদ এবং সব ধরনের রাজনৈতিক চরমপন্থা প্রত্যাখ্যান করি।’

তিনি আরো বলেন, ওই ঘটনা তার ব্যক্তিগত বিশ্বাস কিংবা সামোয়ার সরকার ও জনগণের মূল্যবোধের প্রতিনিধিত্ব করে না।

সামোয়া অবজারভারকে মন্তব্য করা কয়েকজন শিক্ষাবিদের সমালোচনার পর তিনি ক্ষমা চান। নাৎসি জার্মানির ইতিহাসবিদ রিচার্ড ইভান্স পত্রিকাটিকে ই-মেইলে বলেন, ভিডিওটি ‘বিস্ময়কর ও উদ্বেগজনক’।

ইউনিভার্সিটি অব ক্যান্টারবারির শিক্ষাবিদ অ্যান-মেরি ব্র্যাডিও শ্মিটের কাছে ঘটনার ব্যাখ্যা ও ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান।

২০২৫ সালে প্রধানমন্ত্রী হওয়া শ্মিট প্রকাশ্যে ইসরাইলের প্রতি জোরালো সমর্থন জানিয়েছেন। শপথ অনুষ্ঠানে তিনি ইহুদি ধর্মীয় প্রার্থনার চাদর পরেছিলেন। ওই অনুষ্ঠানে ইহুদি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে ব্যবহৃত শোফার নামের শিংও বাজানো হয়।

এ ছাড়া ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ জেরুজালেমে সামোয়ার দূতাবাস খোলার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন স্মিট। শহরটির মর্যাদা নিয়ে বিরোধ এবং ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে পূর্ব জেরুজালেমকে দাবির কারণে অল্প কয়েকটি দেশই সেখানে দূতাবাস স্থাপন করেছে।

সোমবারের বিবৃতিতে স্মিট বলেন, এ নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, তা তিনি সমাপ্ত বলে মনে করছেন। এখন তিনি দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মনোযোগ দিতে চান।

এএম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন