ইউক্রেনের ১২৬টি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি রাশিয়ার

ইউক্রেনের ১২৬টি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি রাশিয়ার
ছবি: সংগৃহীত।

রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গ ও আশপাশের লেনিনগ্রাদ অঞ্চলে ইউক্রেনের ১২৬টি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে মস্কো। রোববারের এ হামলায় সেন্ট পিটার্সবার্গের একটি তেল টার্মিনালে আগুন ধরে যায়। এ ছাড়া শহরটির প্রধান বিমানবন্দরেও ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হয়।

বিজ্ঞাপন

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোতে নতুন করে হামলা শুরুর ঘোষণা দেওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই এ ঘটনা ঘটল। যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন কমে আসার প্রেক্ষাপটে দেশের স্বার্থ রক্ষায় এমন পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন তিনি।মস্কো থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

সেন্ট পিটার্সবার্গকে ঘিরে থাকা লেনিনগ্রাদ অঞ্চলের গভর্নর আলেকজান্ডার দ্রোজদেনকো জানান, ইউক্রেনের ১২৬টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, বড় পরিসরে চালানো ড্রোন হামলা প্রতিহত করার অভিযান চলছে।

তিনি আরো জানান, ভূপাতিত ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ বিভিন্ন বাড়িঘর, গাড়ি ও বিদ্যুতের লাইনের ওপর পড়েছে। এতে সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়েছেন কি না, সে বিষয়ে কিছু জানাননি তিনি।

সেন্ট পিটার্সবার্গের গভর্নর আলেকজান্ডার বেগলভ জানান, ইউক্রেনের হামলায় সেন্ট পিটার্সবার্গ অয়েল টার্মিনালে আগুন লাগে। গত জুনেও টার্মিনালটিতে হামলা চালিয়েছিল ইউক্রেন। বেগলভ বলেন, এলাকায় বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে।

নিরাপত্তার কারণে সেন্ট পিটার্সবার্গের প্রধান বিমানবন্দর পুলকোভোর কার্যক্রম সীমিত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাসের প্রতিবেদনে বলা হয়, বিমানবন্দরটিতে উড়োজাহাজের বহির্গমন ব্যাহত হয়েছে।

এদিকে রাশিয়ার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ভিকের তথ্য অনুযায়ী, হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল ওই অঞ্চলে অবস্থিত একটি ডেটা সেন্টার। তবে কেন্দ্রটির কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে।

চলতি সপ্তাহে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়ার ধারাবাহিক হামলা আর সহ্য করবে না ইউক্রেন। এর জবাবে রুশ ভূখণ্ডে আবারও হামলা চালানো হবে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার রাশিয়ার তেল শোধনাগার ও তেলের ডিপোতে ইউক্রেনের হামলার সমালোচনা করেছেন। শুক্রবার তিনি একটি নির্বাহী আদেশে সই করেন, যার মাধ্যমে রাশিয়ার জ্বালানি খাতের আয় লক্ষ্য করে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক স্থগিত করা হয়।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পঞ্চম বছরে মস্কো যখন ইউক্রেনে হামলা জোরদার করছে, তখন ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্ত এসেছে। তার পদক্ষেপটি ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্র—দুই জায়গাতেই সমালোচনার মুখে পড়েছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...