রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ছায়ায় বুলগেরিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আজ

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ছায়ায় বুলগেরিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আজ
ছবি: এএফপি

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, কৃষ্ণসাগরে জাহাজে ড্রোন হামলা এবং অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে আজ রোববার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোট দিচ্ছে বুলগেরিয়া। এবারের নির্বাচনে রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক এবং ইউক্রেনকে সমর্থনের প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একদিকে পশ্চিমাপন্থি অবস্থানের প্রার্থী আন্দ্রে গিউরভ, অন্যদিকে সাবেক প্রেসিডেন্ট রুমেন রাদেভের সমর্থন পাওয়া ইলিয়ানা ইয়োতোভা। তাদের অবস্থান ঘিরে দেশটির ভোটারদের মধ্যে বিভাজন স্পষ্ট।

বিজ্ঞাপন

নির্বাচনে মোট ২৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জনমত জরিপে এগিয়ে রয়েছেন ইলিয়ানা ইয়োতোভা ও আন্দ্রে গিউরভ। একটি জরিপে ইয়োতোভার প্রতি ৪১ শতাংশ এবং গিউরভের প্রতি ২৮ শতাংশ ভোটারের সমর্থনের কথা উঠে এসেছে। তবে কোনো প্রার্থীই প্রথম দফায় প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবেন কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

বুলগেরিয়ার প্রেসিডেন্টের পদ মূলত আনুষ্ঠানিক হলেও এর কিছু গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতা রয়েছে। প্রেসিডেন্ট দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক। তিনি আইন প্রণয়নে ভেটো দিতে পারেন এবং আন্তর্জাতিক চুক্তি ও রাষ্ট্রদূত নিয়োগের ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখেন। ফলে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পররাষ্ট্রনীতি ও নিরাপত্তার প্রশ্নও গুরুত্ব পাচ্ছে।

সম্প্রতি কৃষ্ণসাগরে বুলগেরিয়ার উপকূলের কাছে বাণিজ্যিক জাহাজে ড্রোন হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক নাবিকদের প্রায় দুই ডজনের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে এসব হামলার জন্য বুলগেরিয়া সরকার সরাসরি রাশিয়াকে দায়ী করেনি। প্রধানমন্ত্রী রুমেন রাদেভ বলেছেন, এসব হামলা রাশিয়ারই স্বার্থে কাজে লাগছে।

পশ্চিমাপন্থি প্রার্থী আন্দ্রে গিউরভ ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। তিনি ইউক্রেনের সঙ্গে একটি নিরাপত্তা চুক্তিও স্বাক্ষর করেছেন। অন্যদিকে, ইলিয়ানা ইয়োতোভা সাবেক প্রেসিডেন্ট রুমেন রাদেভের সমর্থন পাচ্ছেন। রাদেভকে রাশিয়ার প্রতি সহানুভূতিশীল হিসেবে দেখা হয়। ইয়োতোভা ইউক্রেন যুদ্ধের কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে এবং বুলগেরিয়ার আরও নিরপেক্ষ অবস্থানের কথা বলেছেন।

রাশিয়ার সঙ্গে বুলগেরিয়ার ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক রয়েছে। দেশটির জনগণের একাংশের মধ্যে রাশিয়ার প্রতি ইতিবাচক মনোভাবও রয়েছে। ফলে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে অবস্থান এবারের নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতির চাপ।

স্থানীয় সময় সকাল ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে। দেশটিতে নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যা প্রায় ৬৬ লাখ। ভোটার উপস্থিতি ৪০ শতাংশের নিচে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রথম দফায় কোনো প্রার্থী প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে আগামী ১ নভেম্বর দ্বিতীয় দফার ভোট হতে পারে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন