কয়েক দশক অপেক্ষার পর মুম্বাইয়ে চালু ভারতের মেগা বিমানবন্দর

কয়েক দশক অপেক্ষার পর মুম্বাইয়ে চালু ভারতের মেগা বিমানবন্দর

বিশ্বের অন্যতম জনবহুল শহর ভারতের মুম্বাই। দুই কোটি ২০ লাখ বাসিন্দার এক মহানগরীতে মাত্র একটি বিমানবন্দর থাকায় দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত যাত্রীদের চাপে তা জর্জরিত ছিল। প্রায় দুই দশক বিলম্বের পর শহরটিতে অবশেষে দ্বিতীয় বিমানবন্দর চালু হলো। নতুন এ বিমানবন্দরে যাত্রীরা আগের তুলনায় কম সময়ে স্বাচ্ছন্দ্যে অধিকসংখ্যক ফ্লাইটের সুবিধা পাবেন বলে আশাবাদী কর্তৃপক্ষ।

ভ্রমণের ঝামেলা কমাতে বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে আধুনিক লাউঞ্জ, ডাইনিং এবং প্রযুক্তিগত সেবা রয়েছে। বিমানবন্দরটিতে প্রতি বছর প্রায় দুই কোটি যাত্রী যাতায়াত করতে পারবেন। এতে ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের (বিওএম) ওপর চাপ কমবে।

বিজ্ঞাপন

বিমানবন্দরটি নির্মাণ করতে পাহাড় সমতল করা থেকে শুরু করে নদীর গতিপথ ঘুরিয়ে দেওয়া এবং খালের ওপর সেতু নির্মাণ করতে হয়েছে। নির্মাণকাজ সম্পন্ন করতে সময় লেগেছে প্রায় ২০ বছর।

গত বুধবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিমানবন্দরটি উদ্বোধন করেন। ন্যাভি মুম্বাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটি (এনএমআই) ভবিষ্যতে আরো বড় করার পরিকল্পনা রয়েছে। ২০৩২ সালের মধ্যে বিমানবন্দরটিতে বছরে ৯ কোটি যাত্রী ধারণক্ষমতাসম্পন্ন চারটি টার্মিনাল থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।

নতুন এ বিমানবন্দরের মাধ্যমে মহারাষ্ট্রের কৃষকরা ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের বড় বাজারগুলোর সঙ্গে সংযুক্ত হতে পারবেন। এছাড়া জেলেদের উৎপাদিত পণ্য দ্রুত বিশ্ববাজারে পৌঁছানো যাবে।

কার্গো কার্যক্রম পরিচালনায়ও সমানভাবে গুরুত্ব দেওয়া হবে। নতুন বিমানবন্দর দিয়ে ওষুধ ও ই-কমার্স হাব হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী মুম্বাইয়ের জন্য বার্ষিক আট লাখ টন ধারণক্ষমতার কার্গো বহন করা হবে। বিমানবন্দরের একটি সাধারণ টার্মিনালে ৭৫টি পর্যন্ত ব্যবসায়িক জেট থাকবে।

তবে মুম্বাই শহরের তীব্র যানজট বিমানবন্দরে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে বেশ কঠিন একটি চ্যালেঞ্জ। বাস্তবে দৃষ্টিনন্দন এ বিমানবন্দর ও টার্মিনালে পৌঁছানোটা অনেক বেশি জটিল।

ভারতের বৃহত্তম সমুদ্র সেতু মুম্বাই ট্রান্স হারবার লিংকের কল্যাণে দক্ষিণ মুম্বাই থেকে বিমানবন্দরে পৌঁছানোর সময় ২০ মিনিটের মতো কমেছে। কিন্তু ব্যস্ত সময়ে সংযোগকারী সড়কগুলোয় অতিরিক্ত যানজটের কারণে বিমানবন্দরে পৌঁছাতে কয়েক ঘণ্টা বেশি সময় লাগতে পারে।

এদিকে, মেট্রো সম্প্রসারণ ও এক্সপ্রেস বাস রুটের কাজ এখনো চলমান। মুম্বাইয়ের জটিল পরিবহনব্যবস্থায় ট্রেন ও বাসের সময়সূচির মধ্যকার সুষ্ঠু সমন্বয়ের ওপর নির্ভরশীল শাটল সেবা যাত্রীদের জন্য সবসময় কার্যকর নয়। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক শহরগুলো থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত সরাসরি মেট্রো সংযোগ না থাকায় বেশিরভাগ যাত্রী গাড়ি ও ট্যাক্সির দিকে ঝুঁকবেন। এতে ব্যস্ত সড়কগুলোর ওপর আরো চাপ বাড়বে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন